তারেকের প্রত্যাবর্তনে উল্লাস, কিন্তু অশান্তি থামছে না বাংলাদেশে! ফের গণপিটুনিতে যুবক খুন

১৭ বছর পর দেশে ফিরলেন তারেক রহমান, ঢাকায় উৎসবের আবহ। কিন্তু গণপিটুনিতে ফের যুবক খুনে থামছে না বাংলাদেশের অশান্তি।

বিজ্ঞাপন
নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

১৭ বছরের স্বেচ্ছানির্বাসনের অবসান ঘটিয়ে দেশে ফিরলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ঢাকায় তাঁর প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে বিএনপি কর্মী-সমর্থকদের উচ্ছ্বাস চোখে পড়ার মতো হলেও, সেই আনন্দের মাঝেই ফের হিংসার ঘটনায় রক্তাক্ত হল বাংলাদেশ। গণপিটুনিতে আরও এক যুবকের মৃত্যু নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তারেক রহমান। স্ত্রী জুবাইদা রহমান, কন্যা জাইমা রহমান ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেশে ফেরা বিএনপির এই শীর্ষ নেতাকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দর ও পূর্বাচলে ঢল নামে লক্ষ লক্ষ মানুষের। প্রায় ৩০০ ফুট দীর্ঘ মঞ্চে আয়োজিত গণসংবর্ধনায় তারেক ‘স্বপ্নের বাংলাদেশ’ গড়ার বার্তা দেন। কিন্তু সেই উৎসবের আবহের মধ্যেই ফের হিংসার ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন।

ঢাকা বিভাগের রাজবাড়ি জেলায় বুধবার গভীর রাতে গণপিটুনিতে মৃত্যু হয় অমৃত মণ্ডল নামে এক যুবকের। পুলিশের দাবি, তোলাবাজিকে কেন্দ্র করে এই ঘটনার সূত্রপাত। এর আগে ময়মনসিংহে দীপু দাসের হত্যাকাণ্ড নিয়েও দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছিল। একের পর এক গণপিটুনির ঘটনায় আন্তর্জাতিক স্তরেও প্রশ্ন উঠেছে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে।

এরই মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের দায়িত্বে থাকা প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী খোদাবক্স চৌধুরীর ইস্তফা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। ছাত্রনেতা শফিক ওসমান হাদির মৃত্যুর পর থেকে সরকারের উপর চাপ বাড়ছিল। খোদাবক্সের পদত্যাগ রাষ্ট্রপতি গ্রহণ করলেও, ভবিষ্যৎ স্বরাষ্ট্র ব্যবস্থাপনা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই টানাপোড়েনের প্রভাব পড়তে পারে আসন্ন নির্বাচন প্রক্রিয়ায়ও।

দেশে ফিরেই অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস-কে ফোন করেন তারেক রহমান। বিএনপি সূত্রের খবর, নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে কৃতজ্ঞতা জানানোর পাশাপাশি দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের প্রতিশ্রুতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। উল্লেখ্য, ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলেই অধিকাংশ মামলায় অব্যাহতি পেয়েছেন তারেক, ফলে দেশে ফিরে তাঁর গ্রেফতারের আশঙ্কা নেই।

বিকেলে ঢাকার পূর্বাচলে গণসংবর্ধনায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তারেক বলেন, “আমি একটি নিরাপদ, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে চাই।” প্রয়াত ছাত্রনেতা শফিক ওসমান হাদির নাম উল্লেখ করে তিনি সহিংসতার রাজনীতির অবসান ও ঐক্যের ডাক দেন। পাহাড় থেকে সমতল, সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য নিরাপদ দেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

দিনের শেষ ভাগে তারেক যান ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে, যেখানে ভর্তি রয়েছেন তাঁর মা ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। হাসপাতাল চত্বরেও ছিল বিপুল ভিড়। শনিবার নির্বাচন কমিশনে গিয়ে ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্ত করার আবেদন জানাবেন বলেও দলীয় সূত্রে খবর।

তবে রাজনৈতিক উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি একের পর এক হিংসার ঘটনায় বাংলাদেশ যে এখনো অস্থির, তা স্পষ্ট। তারেক রহমানের ‘নিরাপদ বাংলাদেশ’-এর বার্তা বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, সে দিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

Arka Sana

Arka Sana

Founder & Editor, Najarbandi
16+ Years Experience • Political Reporting • Investigative Journalism • Digital Publishing

অর্ক সানা একজন সাংবাদিক, সম্পাদক, মিডিয়া উদ্যোক্তা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক। অপরাধ সাংবাদিকতা, রাজনৈতিক রিপোর্টিং, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা এবং ডিজিটাল নিউজ প্রকাশনায় তাঁর ১৬ বছরেরও বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি নজরবন্দি-র প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক।

View Full Author Profile →

বিজ্ঞাপন

আরও খবর