টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের ছিটকে যাওয়া ঘিরে বিতর্ক আরও ঘনীভূত হচ্ছে। পাকিস্তানের ‘দ্বিচারিতা’ অভিযোগের পর এ বার খোদ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থাই বাংলাদেশের অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করল। নিরাপত্তা-কারণে ভারতে খেলতে না আসার যুক্তিকে ‘ভণ্ডামি’ বলে উল্লেখ করেছে আইসিসি—এমনই দাবি উঠে এসেছে একাধিক আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে। এই সিদ্ধান্ত ঘিরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ক্রিকেটারদের বিশ্ব সংগঠনও।
‘ক্রিকবাজ়’-এর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)-র অবস্থান নিয়ে কড়া মন্তব্য করেছে আইসিসি। বাংলাদেশের যুক্তি ছিল, ভারতে নিরাপত্তার অভাব বোধ করায় তারা বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারবে না। কিন্তু আইসিসির অভ্যন্তরীণ রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে—এর আগের বছর আরও বেশি নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলতে পাকিস্তান সফর করেছিল বাংলাদেশ। সেই তথ্য সামনে এনে বাংলাদেশের অবস্থানকে অসঙ্গত বলেই দেখছে সংস্থাটি।


এ দিকে, বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ওয়ার্ল্ড ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডব্লিউসিএ)। সংগঠনটির মতে, এই সিদ্ধান্ত শুধু একটি দল নয়, গোটা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ব্যবস্থার উপর প্রভাব ফেলতে পারে। ডব্লিউসিএ-র চিফ এক্সিকিউটিভ টম মোফাট মনে করছেন, আইসিসির এই অবস্থান ভবিষ্যতে ক্রিকেটারদের অধিকার ও অংশগ্রহণের প্রশ্নে নজির তৈরি করতে পারে।
এক বিবৃতিতে ডব্লিউসিএ জানিয়েছে,
“টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের সরে যাওয়া এবং এর ফলে ২০ ওভারের ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় মঞ্চে একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশের অনুপস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এটা ক্রিকেটের পক্ষেই দুঃখজনক। বাংলাদেশের ক্রিকেটার ও সমর্থকদের জন্যও এই পরিস্থিতি বেদনাদায়ক।”
সংস্থাটির আরও বক্তব্য, প্রতিটি দল ও খেলোয়াড়ের সঙ্গে সম্মানজনক ও ধারাবাহিক আচরণই ক্রিকেটকে শক্তিশালী করে। ন্যায্য শর্তে অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত না হলে প্রতিযোগিতার মানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সব দলের অবদান থাকলেই সেরা ক্রিকেট পাওয়া সম্ভব—এই বার্তাই দিয়েছে ডব্লিউসিএ।


এতেই শেষ নয়। ডব্লিউসিএ সতর্ক করে জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে একটি উদ্বেগজনক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে,
“চুক্তিকে সম্মান করা হচ্ছে না, খেলোয়াড়দের অধিকার ক্ষুণ্ণ হচ্ছে, কর্তাদের সঙ্গে আলোচনাও ইতিবাচক হচ্ছে না। এই অবহেলা ক্রিকেটের বর্তমান পরিচালন কাঠামোর গুরুতর সমস্যাকেই সামনে আনছে।”
এই সমস্যাগুলি উপেক্ষিত থাকলে ক্রিকেটের উপর আস্থা, ঐক্য এবং খেলাটির ভবিষ্যৎই দুর্বল হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ক্রিকেটারদের বিশ্ব সংস্থা। তাই ক্রিকেটের স্বার্থে সব পক্ষকে একযোগে বসে আত্মপর্যালোচনা ও ইতিবাচক আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খোঁজার আহ্বান জানিয়েছে ডব্লিউসিএ।







