রাজ্যের ক্রীড়া প্রশাসনে ‘এক ব্যক্তি এক পদ’ নীতি কার্যকর করা নিয়ে নতুন বিতর্ক সামনে এল। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাই স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায় ওরফে বাবুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তিনি একাধিক ক্রীড়া সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে গিয়েছেন, যদিও সেই পদগুলি ছাড়ার জন্য তাঁকে চিঠি পাঠানো হয়েছিল। বিষয়টি ঘিরে ক্রীড়ামহল ও রাজনৈতিক অন্দরে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
সূত্রের খবর, বেঙ্গল অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের তরফে সম্প্রতি একাধিক ক্রীড়া সংস্থায় একইসঙ্গে দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের পদত্যাগের নির্দেশ দিয়ে চিঠি পাঠানো হয়। অভিযোগ, সেই চিঠি পাওয়ার পরও বাবুন কোনও পদ থেকে সরে দাঁড়াননি। ফলে বিষয়টি নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।


বর্তমানে স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের একাধিক ক্রীড়া সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তিনি বক্সিং অ্যাসোসিয়েশনের সচিব, রাজ্য টেবিল টেনিস সংস্থার সভাপতি, রাজ্য হ্যান্ডবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এবং রাজ্য কবাডি অ্যাসোসিয়েশনের সচিব পদে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানা গিয়েছে।
নতুন ক্রীড়ামন্ত্রী নীশীথ প্রামাণিক সম্প্রতি মন্তব্য করেছিলেন, রাজ্যের ক্রীড়া সংস্থাগুলিকে রাজনীতির প্রভাব এবং পরিবারতন্ত্রের ছায়া থেকে মুক্ত করতে হবে। যদিও তিনি সরাসরি কারও নাম উল্লেখ করেননি, তবুও তাঁর মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে।
ক্রীড়া প্রশাসনের নিয়ম অনুযায়ী, একজন ব্যক্তি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকতে পারবেন না— এমন নীতির কথা দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছে। সেই প্রেক্ষিতে বাবুন কীভাবে একসঙ্গে এতগুলি দায়িত্বে রয়েছেন, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।


জানা গিয়েছে, প্রায় পনেরো দিন আগে প্রথমবার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পদ ছাড়ার জন্য চিঠি পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু তাতে প্রত্যাশিত সাড়া না মেলায় বৃহস্পতিবার ফের নতুন করে নোটিস পাঠানো হয়েছে। ক্রীড়া প্রশাসনের সূত্রের দাবি, এবারও যদি সংশ্লিষ্টরা পদ না ছাড়েন, তাহলে তাঁদের বিরুদ্ধে সাসপেনশনের মতো কঠোর পদক্ষেপ বিবেচনা করা হতে পারে।
এই বিতর্কে শুধু স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায় নন, আরও কয়েকজন পরিচিত ব্যক্তির নামও উঠে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুও একাধিক ক্রীড়া সংস্থার শীর্ষপদে রয়েছেন। ফলে ‘এক ব্যক্তি এক পদ’ নীতি বাস্তবায়ন নিয়ে ক্রীড়া প্রশাসনের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর আর এক ভাই কার্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরেও অতীতে ক্লাব পরিচালনা ও অবকাঠামো ব্যবহারের বিষয়ে একাধিক অভিযোগ উঠেছিল। যদিও সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সেই ক্লাব বর্তমানে প্রশাসনিকভাবে দখলমুক্ত হয়েছে।
ক্রীড়া সংস্থাগুলিতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং প্রশাসনিক সংস্কারের প্রশ্নে রাজ্য সরকারের অবস্থান এখন কতটা কঠোর হয়, তা আগামী কয়েক দিনের ঘটনাপ্রবাহেই স্পষ্ট হবে।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



