বহরমপুর মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক ও জুনিয়র ডাক্তারদের তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। পাল্টা তৃণমূল নেতাকে উল্টো করে ঝুলিয়ে সোজা করার নিদান দিলেন রাজ্যের বিরোধীদল নেতা শুভেন্দু অধিকারী। হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিকে চিঠি দিয়েছে ডাক্তারদের সংগঠন আইএমএ।
আরজি কর ইস্যুতে জুনিয়র চিকিৎসকদের কর্মবিরতির বিষয়টিকে ‘ভালো’ চোখে দেখছেন না ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক! এদিন হুমায়ুন কবীর বলেন, “আমি বহরমপুর মেডিকেল কলেজের সমস্ত জুনিয়র ডাক্তারদের গতিবিধি লক্ষ্য করছি। সব কিছু দেখছি। তাঁরা সরকারি বিল্ডিংয়ে ঘুমাচ্ছে। এসি, ফ্যানের হাওয়া খাচ্ছে। আমার নামে এফআইআর করেছে। আমি পরিষ্কার বলছি, আমি জেল খাটব। জেল খেটে বেরিয়ে ৫০ হাজার লোক নিয়ে বহরমপুর মেডিকেল কলেজে যাব। দলের কোনও সাহায্য নেব না। হুমায়ুন কবীরের ক্ষমতা আছে ৫০ হাজার লোক যোগাড় করার। সব বুঝে নেব আমি।”


পাল্টা শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, “এইসব লোকের কথায় কি উত্তর দেব! এরা প্রচারের আলোয় থাকতে বাজার গরম করতে এই সমস্ত কথাবার্তা বলে। বিজেপি সরকার এলে এইসব লোককে উল্টো করে ঝুলিয়ে সোজা করে দিতাম। উনি বিতর্কিত কথা বলতে ভালোবাসেন। মমতা ব্যানার্জি যখন ইউসুফ পাঠানকে প্রার্থী করেছিল, তখনও উনি এ ধরনের কথাবার্তা বলেছিলেন।” অন্যদিকে, চিকিৎসক সংগঠনের তরফে সাফ বলা হয়েছে, হুমায়ুন যদি প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা না চান তাহলে আইনি নোটিশ পাঠানো হবে।
জুনিয়র চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে বেফাঁস মন্তব্য করা থেকে দলের নেতাদের বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছিলেন খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তা সত্ত্বেও হুমায়ুনকে থামানোর দায় হয়ে যাচ্ছে! তিনি পরিষ্কার বলছেন, “ডাক্তারদের দ্বিতীয় ভগবান বলা হয়। সেই ভগবানের আচরণ কী? সিগারেট নিয়ে নাচানাচি করছেন, ঢাক-ঢোল বাজাচ্ছেন। এ সব কি আন্দোলনের নামে চ্যাংড়ামো নয়? ওরা মিছিল করলে আমিও মিছিল করব। বহরমপুর মেডিকেল কলেজ ঘিরে রেখে দেব। নেত্রীর নিষেধও শুনব না।” সব মিলিয়ে ভরতপুরের বিধায়কের এই মন্তব্যে অস্বস্তিতে শাসক শিবির।







