নজরবন্দি ব্যুরো: ৩ দপ্তর সামলাবেন মুখ্যমন্ত্রী নিজেই। ২১ এর নির্বাচনের মাস কয়েক আগে তিন তিনটে দপ্তরের দায়িত্ব নতুনভাবে বণ্টন করার কাজটা সেরে নিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেইসঙ্গে শুভেন্দুর অধীনস্ত সেচ, পরিবহণ, জলসম্পদ – এই তিন দপ্তরের দায়িত্ব নিজের ঘাড়েই তুলে নিলেন তিনি।
শুক্রবার বিকেলে শুভেন্দু অধিকারীর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করার পরই জরুরি বৈঠকে দলের শীর্ষনেতাদের নিজের বাড়িতে ডেকে পাঠান মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠকে ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী তথা তৃণমূল মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়, সভাপতি সুব্রত বক্সি, দুই মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, ছিলেন যুব তৃণমূল সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। সেখানে প্রায় ঘণ্টা দুই ধরে বৈঠকের পর ঠিক হয় দপ্তর বণ্টনের বিষয়টি। ফিরহাদ হাকিম বা অরূপ বিশ্বাসকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়ার বদলে তিনটি দপ্তরের কাজ আপাতত নিজেই দেখবেন মুখ্যমন্ত্রী, এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।


শুক্রবারই মন্ত্রীসভার সবরকম পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। আর এতেই উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। এর পরবর্তী পদক্ষেপ কি তাঁর দিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা রাজ্য। আর এই জল্পনার মাঝেই শোনা যাচ্ছিল আগামীকালেই দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দিচ্ছেন তিনি। ঘনিষ্ঠ সূত্রে দাবি, “এসব কথা ভিত্তিহীন দাদা এখন দিল্লি, মুম্বাই কোথাও যাচ্ছেন না।
আরও পড়ুনঃ শুভেন্দু যতক্ষণ দলে থাকবে চেষ্টা চালিয়ে যাবো! বক্তা ব্যথিত সৌগত।


এক নেতা সম্প্রতিই তাঁর দাদা ও পরিবারকে উদ্দেশ্য করে গালমন্দ করেছিল। বলেছিলেন, ক্ষমতায় থাকলে সরকারি পদ, লালবাতি ছেড়ে কথা বলছি। পরে দেখা যায় এই নেতার উপর যেন উপরের সারির প্রতক্ষ মদত রয়েছে। দাদা তাই সমস্ত সরকারি পদ ছেড়ে দিয়েছেন”। সূত্রের খবর, শুভেন্দু মন্ত্রীত্ব পদ থেকে পদত্যাগ করলেও এই মুহূর্তে তৃণমূলের সাধারণ সদস্য পদ ও বিধায়ক পদ থেকে পদত্যাগ করছেন না তিনি।
শুক্রবারই মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে মন্ত্রীত্ব থেকে পদত্যাগের কথা জানিয়েছেন শুভেন্দু। অবশ্য সেই চিঠিতে পদত্যাগের কারণ হিসাবে তিনি কিছুই জানাননি। চিঠিতে রাজ্যের মানুষকে সেবা করার সুযোগ দেওয়ার জন্য এদিন তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। এদিকে শুভেন্দুর ইস্তফাপত্র গ্রহণ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। শীর্ষ নেতাদের জরুরি বৈঠকে ডেকেছেন তিনি। বিকেল সাড়ে ৫টায় দলের শীর্ষ নেতাদের নিজের বাড়িতে জরুরি বৈঠকে ডেকেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ওই বৈঠকে থাকবেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়, সুব্রত বক্সি ও ফিরহাদ হাকিমরা।
শুভেন্দু-র ইস্তফা গ্রহন করলেন মুখ্যমন্ত্রী, শুভেন্দু অধিকারী ইস্যুতে দলের আগামীর কৌশল কী হতে পারে, তা নিয়ে নির্দেশ দিতে পারেন দলনেত্রী। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তও নেবেন তিনিই। শুভেন্দুর হাতে ছিল ৩টি দফতর। বৈঠকে ওই দফতরগুলি বণ্টন করার পরিবর্তে নিজের কাঁধেই ৩টি দপ্তর এর দায়িত্ব তুলে নেন মমতা।
অন্যদিকে, শুভেন্দুর জন্য বিজেপির দরজা খোলা বলে জানিয়েছেন দিলীপ। তৃণমূলের মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দেওয়ার কথা প্রকাশ্যে আসতেই এমন মন্তব্য করলেন দিলীপ ঘোষ। সেইসঙ্গে তিনি বলেন হেভিওয়েট নেতা ও অনান্য নেতাদের গেরুয়া শিবিরে সবসময় স্বাগত। সামনেই একুশের বিধানসভা। বিজেপি সূত্র বলছে কথা নাকি পাকা হয়ে গিয়েছে, চলতি মাসের ৩০ অথবা ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে শুভেন্দু যোগ দিতে চলেছেন বিজেপি-তে!







