‘মৌসম বদল রাহা হ্যায়’, গুন্ডামির বিরুদ্ধে কড়া বার্তা শুভেন্দুর, আলিপুরের মঞ্চে বিস্ফোরক মুখ্যমন্ত্রী

আলিপুরের আধ্যাত্মিক মঞ্চ থেকে শুভেন্দু অধিকারীর কড়া বার্তা। বাংলার ইতিহাস, তুষ্টিকরণের রাজনীতি, আইনশৃঙ্খলা ও বিনিয়োগ নিয়ে একাধিক মন্তব্য মুখ্যমন্ত্রীর।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

আলিপুরের ধনধান্য অডিটোরিয়ামে এক আধ্যাত্মিক অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও সামাজিক ইস্যুতে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নিজেকে রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে একজন সনাতনী হিসেবে তুলে ধরে তিনি যেমন বাংলার ইতিহাস নিয়ে বক্তব্য রাখলেন, তেমনই আইনশৃঙ্খলা, তুষ্টিকরণের রাজনীতি এবং সমাজবিরোধীদের বিরুদ্ধে কড়া বার্তাও দিলেন।

শনিবারের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু স্পষ্ট জানান, তিনি সেখানে কোনও রাজনৈতিক নেতা হিসেবে নয়, বরং একজন সনাতনী ধর্মাবলম্বী হিসেবে উপস্থিত হয়েছেন। গুরুদেবকে প্রণাম জানানোই তাঁর মূল উদ্দেশ্য বলে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর কথায়, ওই মঞ্চে রাজনৈতিক পরিচয়ের কোনও গুরুত্ব নেই।

বাংলার ইতিহাস প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বর্তমান প্রজন্মকে দেশভাগের সময়কার ঘটনাবলি জানার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বাংলার অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। দেশভাগের সময় পূর্ব ভারতকে পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাবের বিরুদ্ধে যে আন্দোলন হয়েছিল, সেই ইতিহাস নতুন প্রজন্মের জানা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

‘মৌসম বদল রাহা হ্যায়’, গুন্ডামির বিরুদ্ধে কড়া বার্তা শুভেন্দুর, আলিপুরের মঞ্চে বিস্ফোরক মুখ্যমন্ত্রী
‘মৌসম বদল রাহা হ্যায়’, গুন্ডামির বিরুদ্ধে কড়া বার্তা শুভেন্দুর, আলিপুরের মঞ্চে বিস্ফোরক মুখ্যমন্ত্রী

বক্তৃতার এক পর্যায়ে পূর্বতন সরকারের বিরুদ্ধে তুষ্টিকরণের রাজনীতির অভিযোগ তোলেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন এবং পরিকাঠামোর পরিবর্তে ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। সেই কারণেই রাজ্যের বহু ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল বলে তাঁর বক্তব্য।

নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA) বিরোধী আন্দোলনের সময় রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় হওয়া হিংসার প্রসঙ্গও টানেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি সীমান্ত নিরাপত্তা এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজনের ক্ষেত্রে অতীতের প্রশাসনিক নীতিরও সমালোচনা করেন তিনি।

তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনার কেন্দ্রে আসে তাঁর ‘মৌসম বদল রাহা হ্যায়’ মন্তব্য। উপস্থিত জনতার উদ্দেশে শুভেন্দু বলেন, তাঁর সাংবিধানিক কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তাই সব কথা প্রকাশ্যে বলা সম্ভব নয়। কিন্তু রাজ্যের পরিস্থিতি বদলাচ্ছে এবং আগামী দিনে আরও পরিবর্তন দেখা যাবে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।

আইনশৃঙ্খলা প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, বাংলার অধিকাংশ সমাজবিরোধী কার্যকলাপ ইতিমধ্যেই নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। যাঁরা এখনও আইনভঙ্গের পথে রয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ নেবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

রাজ্যে বিনিয়োগের পরিবেশ নিয়েও আশাবাদী বার্তা দেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, অতীতে যে পরিস্থিতির কারণে শিল্প ও বিনিয়োগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, সেই অধ্যায় শেষ হয়েছে। ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, রাজ্যের বাইরে থাকা মানুষদেরও ফিরে এসে উন্নয়নের অংশ হওয়ার সময় এসেছে।

ধর্মীয় পর্যটনের প্রসারে সরকারের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তারকেশ্বরের শ্রাবণী মেলা এবং গঙ্গাসাগর মেলাকে আরও বৃহৎ পরিসরে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। একইসঙ্গে ভবানীপুরের ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে শুভেন্দু বলেন, তাঁদের সমর্থন ও ভালোবাসা তাঁর রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম বড় প্রাপ্তি। রাজ্যের উন্নয়ন ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার লক্ষ্যে সরকার কাজ চালিয়ে যাবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন