আগামী বিধানসভা নির্বাচনে বাংলা বিজেপি কার নেতৃত্বে লড়বে, তা ঠিক হতে চলেছে আগামী সাত থেকে দশ দিনের মধ্যে। দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু করেছে এবং সূত্রের খবর, বর্তমান সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের জায়গায় নতুন মুখ আসতে চলেছে। বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব এমন কাউকে চাইছেন যাঁর গ্রহণযোগ্যতা দলের সর্বস্তরে রয়েছে। এই প্রসঙ্গে উঠে আসছে সুব্রত চ্যাটার্জীর নাম, যিনি ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে বিজেপিকে ১৮টি আসন পাইয়ে দেওয়ার অন্যতম কারিগর।
শুভেন্দু অধিকারী মঙ্গলবার ঝটিকা সফরে দিল্লি গিয়ে বিজেপির সদর দফতরে দলের দুই শীর্ষ সাধারণ সম্পাদক, বি এল সন্তোষ ও সুনীল বনসলের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন।


✅ কি নিয়ে আলোচনা হল?
১) বিজেপির নতুন রাজ্য সভাপতি নির্বাচনের বিষয়
২) সুকান্ত মজুমদারের বিকল্প হিসেবে নতুন মুখ বাছাই
৩) দলের সাংগঠনিক কাঠামো মজবুত করা
৪) ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি
বৈঠক প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলে, এরপর সন্ধ্যায় কলকাতায় ফিরে যান শুভেন্দু।


দিলীপ-সুকান্ত নন, বিজেপি-র নতুন রাজ্য সভাপতি হতে চলেছেন সুব্রত চ্যাটার্জী

কেন নতুন রাজ্য সভাপতি চাইছে বিজেপি?
✅ কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব চাইছেন এমন কাউকে, যিনি রাজ্য বিজেপির সব স্তরে গ্রহণযোগ্য হবেন।
✅ সুকান্ত মজুমদারের নেতৃত্বে দলের সাংগঠনিক শক্তি তেমন বৃদ্ধি পায়নি বলে মনে করা হচ্ছে।
✅ ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে নতুন নেতৃত্ব আনতে চাইছে দল।
এই পরিস্থিতিতে সুব্রত চ্যাটার্জীর নাম উঠে আসা তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি ২০১৯ সালে দলের সাংগঠনিক সাফল্যের মূল কাণ্ডারী ছিলেন এবং তাঁর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা যথেষ্ট।
দোল উৎসবের আগেই সভাপতি নির্বাচন? সূত্রের খবর, বিজেপি নেতৃত্ব দোল উৎসবের আগেই সর্বভারতীয় সভাপতি নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু করতে চাইছে। এর জন্য রাজ্য পর্যায়ের সভাপতি নির্বাচন দ্রুত শেষ করতে হবে।
✅ ১৪টি রাজ্য ও ৬টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ইতিমধ্যেই সভাপতি নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে।
✅ ৫০% রাজ্যে নির্বাচন শেষ হলেই কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্বাচনের কাজ শুরু হবে।
✅ তাই দ্রুত বাকি রাজ্যগুলিতে সভাপতি নির্বাচন শেষ করতে চাইছে বিজেপি।
শুভেন্দুর দিল্লি সফর এবং নিয়োগ দুর্নীতি বিতর্ক। শুভেন্দুর দিল্লি সফরের আরেকটি তাৎপর্যপূর্ণ দিক হল নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্ত।
🔴 সিবিআই সম্প্রতি একটি তালিকা প্রকাশ করেছে, যেখানে দেখা গেছে শুভেন্দুর ভাই দিব্যেন্দু অধিকারী চাকরিপ্রার্থীদের নাম সুপারিশ করেছিলেন।
🔴 যে সময়ের পরীক্ষা নিয়ে বিতর্ক, তখন দিব্যেন্দু ছিলেন তৃণমূলে।
🔴 এই কেলেঙ্কারিতে তাঁর ভূমিকা নিয়ে রাজ্য রাজনীতি সরগরম।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুভেন্দুর দিল্লি সফর শুধুমাত্র সভাপতি নির্বাচন নিয়েই নয়, বরং এই দুর্নীতি মামলার দিকেও নজর রাখছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।
নতুন সভাপতির খোঁজ: বিজেপির ভবিষ্যৎ কৌশল কী?
1️⃣ বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে নতুন মুখ আনতে চাইছে, যাতে সাংগঠনিক শক্তি বাড়ে।
2️⃣ দলের শীর্ষ নেতৃত্ব চাইছে ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের আগে সংগঠন আরও শক্তিশালী করা হোক।
3️⃣ রাজ্যে তৃণমূলের বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ তৈরি করাই মূল লক্ষ্য।
আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই বিজেপি নতুন সভাপতি ঘোষণা করতে পারে, যা বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।







