নজরবন্দি ব্যুরোঃ হুগলিতে দাঁড়িয়ে কল্যাণকে তীব্র আক্রমন করলেন রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রামনগরের মেগা শো’র রেশ কাটতে না কাটতেই তৃণমূল সাংসদ তথা হুগলীর প্রভাবশালী নেতা কল্যান ব্যানার্জি কে মুখোমুখি আক্রমণে গেলেন শুভেন্দু। মুখে নাম না নিলেও শুভেন্দুর নিশানায় যে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় তা নিয়ে সন্দেহের কোন অবকাশ নেই!
আরও পড়ুনঃ মহিলা ও স্কুল পড়ুয়াদের জন্য নয়া সিদ্ধান্ত কলকাতা মেট্রো রেলের।


উল্লেখ্য, জল্পনার পারদ তুঙ্গে চড়িয়ে ১০ তারিখ নন্দীগ্রামের বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, ‘লড়াইয়ের ময়দানে দেখা হবে।’ সেই শুভেন্দু অধিকারী বৃহস্পতিবার রামনগরের সভায় বলেছেন, ‘এখনও একটি দলের আমি প্রাথমিক সদস্য। মন্ত্রিসভারও সদস্য। মুখ্যমন্ত্রী আমাকে তাড়াননি, আমিও দল ছাড়িনি…’
এহেন শুভেন্দু কে নাম না করে ব্যাপক আক্রমন করেছিলেন কল্যান ব্যানার্জি। আজ সেই কল্যানের গড়ে দাঁড়িয়েই হুঙ্কার দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। কদিন আগে শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যান ব্যানার্জি বলেছিলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন বলেই নন্দীগ্রামে আন্দোলন হয়েছিল। আজকে অনেক বড় হতে পারেন। কিন্তু বড় হলেন কার ছায়ায়, সেটাই বড় ব্যাপার।”
পাশাপাশি শুভেন্দু তথা অধিকারী পরিবারের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নামের গাছের তলায় বড় হয়েছিস। ৪টে মন্ত্রিত্ব পেয়েছিস, ৪ খানা চেয়ারে আছিস। কত পেট্রোল পাম্প করেছিস! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় না থাকলে মিউনিসিপ্যালিটিতে আলু বিক্রি করতিস রে, আলু বিক্রি করতিস।”


হুগলিতে দাঁড়িয়ে কল্যাণকে তীব্র আক্রমন শুভেন্দুর, তিনি বলেন, “আমি শ্রদ্ধা জানিয়েই বলছি প্রাক্তন সাংসদ অনিল বসু যখন কাউকে আশালীন কথা বলতেন তখন হুগলির মানুষ মেনে নেয়নি। আজ যদি কোনও বর্তমান জনপ্রতিনিধি আমার বা আমার পরিবারের বিরুদ্ধে কোনও অশালীন আচরণ করেন তবে কী আপনারা মেনে নেবেন?’ জনতা সোচ্চারে বলে ওঠেন ‘না!’ শুভেন্দু ফের বলেন, “আপনারা কি এই কালচার সমর্থন করেন?” উপস্থিত জনতা সমস্বরে ফের একবার ‘না’ বলতেই ধন্যবাদ জানিয়ে মঞ্চ ছাড়েন বিতর্কিত তৃণমূল নেতা শুভেন্দু অধিকারী।
অন্যদিকে শুভেন্দু-র সভার পরে কল্যান ব্যানার্জি ফের একবার আক্রমন শানান এদিনও, সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন “সেদিন ওঁর বডি ল্যাঙ্গুয়েজ খেয়াল করেছেন? ওটা বিদ্যাসাগরের মাটির বডি ল্যাঙ্গুয়েজ ছিল না। একটা সময় ছিল যখন ওখানে দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা ছিলেন লক্ষ্মণ শেঠ। তাঁরও অহঙ্কার ছিল। তাঁর অহঙ্কার চূর্ণও হয়েছে। যাঁরাই অহঙ্কার করবে, তাঁদেরই দর্পচূর্ণ হবে। তা ছাড়া, আমি আমার বাবার পরিচয়ে রাজনীতিতে আসিনি।”







