টলিপাড়ার অস্থির সময়ে নতুন করে বিতর্কের ঝড়—এক অভিনেত্রীর অভিযোগে কাঠগড়ায় প্রযোজক সুশান্ত দাস। আট বছর ধরে মানসিক ও শারীরিক হেনস্থার অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন সুকন্যা দত্ত গুহ। অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগকে ঘিরে বিস্ময় প্রকাশ করে তদন্তের মুখোমুখি হতে প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন প্রযোজক নিজে।
অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় ব্যানার্জির আকস্মিক প্রয়াণের পর যখন ইন্ডাস্ট্রি একজোট হয়ে ন্যায়বিচারের দাবি তুলেছে, ঠিক তখনই সামনে এসেছে এই গুরুতর অভিযোগ। বাংলা টেলিভিশনের পরিচিত প্রযোজনা সংস্থা টেন্ট সিনেমার কর্ণধার সুশান্ত দাসের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ আনেন অভিনেত্রী সুকন্যা দত্ত গুহ। প্রথমে সামাজিক মাধ্যমে নিজের অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ করেন তিনি, পরে জাতীয় মহিলা কমিশনের দ্বারস্থ হন।
এই অভিযোগ প্রসঙ্গে আজকাল ডট ইন-কে সুশান্ত দাস জানান, তিনি সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় বিষয়টি দেখেছেন এবং ২০১৯ সালে ওই অভিনেত্রী তাঁর প্রযোজনায় কাজ করেছিলেন। এতদিন পর এমন অভিযোগ উঠেছে দেখে তিনি বিস্মিত। পাশাপাশি তিনি জানান, জাতীয় মহিলা কমিশনে অভিযোগ জমা পড়ার বিষয়টিও তিনি জেনেছেন এবং তিনিও চান, পুরো ঘটনা তদন্তের মাধ্যমে সামনে আসুক। ইতিমধ্যেই আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ শুরু করেছেন বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে, সুকন্যা দত্ত গুহর অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। তাঁর দাবি, একটি ধারাবাহিকে কাজ করার সময় প্রযোজকের তরফে কুপ্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। রাজি না হওয়ায় তাঁর দৃশ্য বাদ দেওয়া হয় এবং সেখান থেকেই শুরু হয় দীর্ঘদিনের হেনস্থা। তিনি অভিযোগ করেন, শুধু তাঁরই নয়, তাঁর পরিবারকেও নানা ভাবে চাপে রাখা হয়েছে। এমনকি তাঁর বাবাকে ফোন করে চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সুকন্যার কথায়, দীর্ঘদিন ভয় ও অনিশ্চয়তার কারণে তিনি মুখ খুলতে পারেননি। তবে বর্তমানে পরিবারের সমর্থন, বিশেষ করে স্বামীর উৎসাহে তিনি প্রতিবাদে সরব হয়েছেন। ইতিমধ্যেই সমস্ত প্রমাণ-সহ অভিযোগ জানিয়েছেন জাতীয় মহিলা কমিশনে। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এবার আর চুপ করে থাকার প্রশ্ন নেই।
অভিযোগ ও পাল্টা প্রতিক্রিয়ার মাঝে এখন নজর তদন্ত প্রক্রিয়ার দিকে। সত্য সামনে আসবে কি না, সেটাই এখন দেখার।



