টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে ভারতীয় শিবিরে বড় বার্তা দিল নির্বাচন কমিটি। শুভমন গিল-কে দল থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত যে শুধু এক জন ক্রিকেটারকে ছেঁটে ফেলা নয়, বরং অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব-এর উদ্দেশেও স্পষ্ট সতর্কতা—এ কথা এখন প্রকাশ্যে।
কেন শেষ মুহূর্তে নেতৃত্বে বদল নয়
কোচ গৌতম গম্ভীর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ঠিক আগে নেতৃত্বে বদল চাননি। সাজঘরের ভারসাম্য নষ্ট না করাই ছিল তাঁর প্রধান লক্ষ্য। সেই কারণেই দীর্ঘদিন ধরে ফর্মে না থাকা সত্ত্বেও সূর্যকুমারকে অধিনায়ক হিসেবে রেখে দেওয়া হয়েছে বলে বোর্ড সূত্রের খবর।


নির্বাচনী বৈঠকে কড়া বার্তা
শনিবারের নির্বাচনী বৈঠকেই গম্ভীর ও প্রধান নির্বাচক অজিত আগরকর সূর্যকে জানিয়ে দিয়েছেন—
রানই একমাত্র রক্ষাকবচ। অতীত সাফল্য বা অধিনায়কত্বের জোরে দলে থাকা যাবে না। বিশ্বকাপে ব্যর্থ হলে জায়গা ছাড়তে হতে পারে।
পরিসংখ্যানই বলছে চাপের কথা
২০২৫ সালে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সূর্যকুমার খেলেছেন ১৯টি ম্যাচ। রান এসেছে মাত্র ২১৮, স্ট্রাইক রেট ১২৩.২। এই পরিসংখ্যান অধিনায়কের মতো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় থাকা ক্রিকেটারের জন্য যথেষ্ট নয় বলেই মনে করছে টিম ম্যানেজমেন্ট।
ব্যাটিং অর্ডার বদলেও লাভ হয়নি
সাধারণত চার নম্বরে নামলেও, পাওয়ারপ্লে কাজে লাগাতে সূর্যকে কয়েক ম্যাচে তিন নম্বরেও নামিয়েছেন গম্ভীর। কিন্তু তাতেও ফর্ম ফেরেনি। তার প্রভাব পড়েছে দলের ইনিংস গঠনে—চাপ বেড়েছে মাঝের ওভারগুলোতে।


বোর্ডের অন্দরমহলের ইঙ্গিত
বিসিসিআইয়ের এক কর্তা জানান,
“এক বছর ধরে সূর্য ফর্মে নেই। তবু অধিনায়ক রেখে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই ব্যর্থতা চললে সাজঘরে তাঁর কর্তৃত্ব দুর্বল হতে পারে। তখন প্রথম একাদশে জায়গা নিয়েও প্রশ্ন উঠবে।”
শুভমনকে ছেঁটে ফেলার সিদ্ধান্তকে সেই প্রেক্ষিতেই ‘কঠিন কিন্তু প্রয়োজনীয়’ বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশ্বকাপই কি শেষ পরীক্ষা?
বোর্ড সূত্রের দাবি, টেস্ট ও ওয়ানডে দলে দীর্ঘদিন ধরেই সূর্যকুমার বিবেচনায় নেই। ফলে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেই যদি প্রত্যাশা পূরণ না হয়, তা হলে তাঁর আন্তর্জাতিক কেরিয়ার নিয়েই বড় সিদ্ধান্ত আসতে পারে।







