রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) ঘিরে উত্তেজনার মাঝেই কঠোর অবস্থান নিল সুপ্রিম কোর্ট। স্পষ্ট জানিয়ে দিল, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে ব্যর্থ হলে সরাসরি রাজ্য পুলিশের ডিজির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। শুধু তাই নয়, এখন পর্যন্ত কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তার বিস্তারিত হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে—যা রাজ্য প্রশাসনের ওপর চাপ আরও বাড়াল।
শুক্রবারের শুনানিতে নির্বাচন কমিশন আদালতে অভিযোগ তোলে যে পশ্চিমবঙ্গে আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। সেই প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট ডিজিকে নির্দেশ দেয়, এখন পর্যন্ত নেওয়া সমস্ত পদক্ষেপ হলফনামার মাধ্যমে পরবর্তী শুনানিতে জানাতে হবে। পাশাপাশি, পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত যদি নতুন করে কোনও অস্থিরতা তৈরি হয়, সেটিও বিস্তারিতভাবে তুলে ধরতে হবে।


শীর্ষ আদালত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেয়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যর্থ হলে রাজ্য পুলিশের সর্বোচ্চ কর্তার বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যদিও ডিজির আইনজীবী দাবি করেন, কমিশনের অভিযোগ ভিত্তিহীন। কিন্তু প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত প্রশ্ন তোলেন—পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে বাধা কোথায়? এর উত্তরে কমিশন জানায়, বিষয়টি বিচারাধীন থাকায় তারা সরাসরি পদক্ষেপ নিতে দ্বিধায় রয়েছে।
এসআইআর প্রক্রিয়া নির্বিঘ্ন করতে রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের প্রস্তাবও দেয় কমিশন। তবে আদালত জানিয়ে দেয়, রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং সংশ্লিষ্ট জেলাশাসকদেরই এই প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার দায়িত্ব নিতে হবে।
এদিনের শুনানিতে শুধু রাজ্য নয়, কমিশনের ভূমিকাতেও অসন্তোষ প্রকাশ করে সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি এনভি অঞ্জরিয়ার বেঞ্চ মন্তব্য করে, রাজ্য সরকার ও কমিশনের মধ্যে আস্থার ঘাটতি স্পষ্ট। এমন পরিস্থিতিতে বিচারবিভাগীয় হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলেও পর্যবেক্ষণ আদালতের।


পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে কলকাতা হাই কোর্টকে এসআইআর প্রক্রিয়া তদারকির জন্য বিশেষ আধিকারিক নিয়োগের অনুরোধও জানানো হয়েছে। আদালতের মতে, পশ্চিমবঙ্গে এই ইস্যুতে এক ‘ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি’ তৈরি হয়েছে, যা প্রশাসনিক ব্যর্থতার দিকেই ইঙ্গিত করছে।
উল্লেখ্য, এর আগের শুনানিতে এসআইআর সংক্রান্ত আপত্তির ফর্ম পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে এখনও পর্যন্ত এফআইআর না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ডিজিকে শো-কজ় নোটিস দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। সেই মামলার পরবর্তী শুনানিতে ডিজি পীযূষ পাণ্ডেকে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মার্চের প্রথম সপ্তাহে এই মামলার পরবর্তী শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।








