রাজ্য মন্ত্রীসভার বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্ত হবেনা, হাইকোর্টের নির্দেশ খারিজ সুপ্রিম কোর্টে

অতিরিক্ত শূন্যপদ তৈরির ঘটনায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ খারিজ করল সুপ্রিম কোর্ট, স্বস্তিতে মমতা মমতা বন্দোপাধ্যায় এবং রাজ্য মন্ত্রিসভা

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বৃহস্পতিবার এসএসসি (SSC) দুর্নীতির জেরে প্রায় ২৬ হাজার চাকরি বাতিলের ঘটনায় তোলপাড় হয় রাজ্য রাজনীতি। সেই সময়েই সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) ঘোষণা করেছিল, আজ অর্থাৎ মঙ্গলবার অতিরিক্ত শূন্যপদ (Super Numerary Post) তৈরি নিয়ে সিবিআই তদন্তের নির্দেশের বৈধতা নিয়ে শুনানি হবে। অবশেষে, প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না ও বিচারপতি সঞ্জয় কুমারের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দিল, সুপার নিউমেরারি পোস্ট তৈরিতে কোনও বেনিয়ম হয়নি, ফলে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ খারিজ করা হল।

শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খন্নার নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ জানিয়েছে, সাংবিধানিক পদ্ধতিতে মন্ত্রিসভা অতিরিক্ত শূন্যপদ তৈরি করতে পারে। প্রসঙ্গত, এসএসসি-র মাধ্যমে ২০১৬ সালের শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি সামনে আসার পর রাজ্য সরকার প্রায় ৬ হাজার অতিরিক্ত শূন্যপদ তৈরি করে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়। রাজ্যের দাবি, আন্দোলনরত ওয়েটিং লিস্ট প্রার্থীদের স্বার্থে এই পদ তৈরি করা হয়েছিল। সেই সিদ্ধান্তে রাজ্য মন্ত্রিসভার অনুমোদন ছিল এবং রাজ্যপালেরও সম্মতি মিলেছিল।

রাজ্য মন্ত্রীসভার বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্ত হবেনা, হাইকোর্টের নির্দেশ খারিজ সুপ্রিম কোর্টে

রাজ্য মন্ত্রীসভার বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্ত হবেনা, হাইকোর্টের নির্দেশ খারিজ সুপ্রিম কোর্টে
রাজ্য মন্ত্রীসভার বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্ত হবেনা, হাইকোর্টের নির্দেশ খারিজ সুপ্রিম কোর্টে

তবে কলকাতা হাইকোর্ট এই পদ তৈরির সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে পৃথক সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল। এমনকী, হাইকোর্ট জানিয়েছিল, প্রয়োজন হলে মন্ত্রিসভার সদস্যদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতেও পারে সিবিআই। সেই নির্দেশেই স্থগিতাদেশ চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে যায় রাজ্য সরকার।

আজ প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্নার এজলাসে শুনানি চলাকালীন, আদালত জানায়, সুপার নিউমেরারি পদ তৈরিতে রাজ্যের তরফে আইন মেনে সব কাজই করা হয়েছে। মন্ত্রিসভার অনুমোদন এবং রাজ্যপালের সম্মতির ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সুতরাং, কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ অপ্রয়োজনীয় এবং তা খারিজ করা হল।

অন্যদিকে মামলাকারীরা দাবি করেছেন, দুর্নীতিকে ধামাচাপা দিতেই এই অতিরিক্ত শূন্যপদ তৈরি করা হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল অযোগ্যদের চাকরি রক্ষা করা। যদিও রাজ্য সরকার বারবার জানিয়েছে, এই ধরনের কোনও পদে কোনও অবৈধ নিয়োগ হয়নি এবং প্রয়োজনে এই সিদ্ধান্তও প্রত্যাহার করা হতে পারে।

বর্তমানে এই মামলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ে রাজ্য সরকার যেমন স্বস্তি পেল, তেমনই অপেক্ষা রইল পরবর্তী শুনানির— যেখানে শিক্ষক নিয়োগ বাতিলের ইস্যুতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন