দিল্লির যন্তর মন্তর (Jantar Mantar)-এ ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচি ঘিরে ছাত্র বিক্ষোভে পুলিশের বলপ্রয়োগের অভিযোগ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court of India)। সোমবার শীর্ষ আদালত জানিয়ে দিয়েছে, শুধু বিক্ষোভ বা আন্দোলন হচ্ছে বলেই পুলিশ লাঠিচার্জ বা অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করতে পারে না। একই সঙ্গে কেন্দ্র সরকার, দিল্লি পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলিকে নোটিস জারি করে তাদের বক্তব্য তলব করেছে আদালত।
দেশজুড়ে NEET-সহ বিভিন্ন সর্বভারতীয় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে চলা ছাত্র আন্দোলনের সময় পুলিশের বলপ্রয়োগ নিয়ে একাধিক জনস্বার্থ মামলা (PIL) দায়ের হয়েছে। সেই মামলাগুলির শুনানিতেই প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত (Surya Kant)-এর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ গুরুত্বপূর্ণ এই পর্যবেক্ষণ করে।
শুনানির সময় আদালত মৌখিকভাবে জানায়, যদি কোনও আন্দোলন শান্তিপূর্ণ এবং আইনসম্মত হয়, তাহলে সেটিকে দমন করার জন্য পুলিশের বলপ্রয়োগের পক্ষে কোনও যৌক্তিকতা থাকতে পারে না। আদালত আরও জানায়, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্ব থাকলেও সেই অজুহাতে প্রতিবাদের অধিকারকে অযথা খর্ব করা যায় না।
কী অভিযোগ উঠেছে?
আবেদনকারীদের দাবি, গত ২০ জুলাই যন্তর মন্তরে ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ছাত্র-যুবকদের উপর দিল্লি পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (CAPF) অযৌক্তিকভাবে লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ এবং অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে। তাঁদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ জমায়েতের পরও পুলিশ কঠোর পদক্ষেপ নেয়, যাতে বহু আন্দোলনকারী আহত হন।
এই ঘটনায় দায়ী পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) দায়ের, নিরপেক্ষ বিচারবিভাগীয় তদন্ত এবং আহতদের ক্ষতিপূরণের দাবিও জানানো হয়েছে জনস্বার্থ মামলায়।
কেন্দ্র ও দিল্লি পুলিশকে কী নির্দেশ?
মামলার প্রাথমিক শুনানির পর সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্র সরকার, দিল্লি পুলিশ এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পক্ষকে নোটিস জারি করেছে। আদালত জানিয়েছে, অভিযোগগুলিকে গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে এবং পরবর্তী শুনানিতে সব পক্ষের বক্তব্য বিবেচনা করে বিষয়টির বিচার করা হবে।
ভিডিও নয়, নথিভিত্তিক শুনানিতে জোর
শুনানির সময় আবেদনকারীদের পক্ষ থেকে আন্দোলনের ভিডিও ফুটেজের প্রসঙ্গ তোলা হলেও আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, শুধুমাত্র ভিডিও দেখে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছতে তারা আগ্রহী নয়। আদালতের মতে, লিখিত নথি, তথ্যপ্রমাণ এবং আইনি যুক্তির ভিত্তিতেই মামলার বিচার হবে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই পর্যবেক্ষণ?
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সুপ্রিম কোর্টের এই মন্তব্য ভবিষ্যতে বিক্ষোভ মোকাবিলায় পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে। আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, আন্দোলন বা বিক্ষোভ চললেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুলিশি বলপ্রয়োগ বৈধ হয়ে যায় না। প্রতিটি ক্ষেত্রেই নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার এবং আইনশৃঙ্খলার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। যদিও এই পর্যায়ে আদালত কোনও চূড়ান্ত রায় দেয়নি; বিষয়টি এখনও বিচারাধীন এবং পরবর্তী শুনানিতে মামলার বিস্তারিত শুনানি হবে।



