‘ভোট কি আইপ্যাক করাবে?’ সুপ্রিম কোর্টের কড়া প্রশ্নে তোলপাড়, পালটা কী যুক্তি তৃণমূলের?

আইপ্যাক মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের প্রশ্ন—“ভোট কি আইপ্যাক করাবে?” কেন্দ্রীয় সংস্থার অভিযোগের পালটা তীব্র সওয়াল তৃণমূলের আইনজীবীদের।

বিজ্ঞাপন
নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

আইপ্যাক-কাণ্ডে উত্তপ্ত সুপ্রিম কোর্ট। কেন্দ্রীয় তদন্তে বাধার অভিযোগে সিবিআই তদন্তের আর্জি—সব মিলিয়ে রাজনৈতিক ও আইনি সংঘাতের কেন্দ্রে এখন দিল্লির সর্বোচ্চ আদালত। বিচারপতি মনোজ মিশ্র ও বিচারপতি বিপুল পাঞ্চোলির ডিভিশন বেঞ্চে বুধবার শুনানির প্রতিটি মুহূর্তেই উঠে এসেছে তৃণমূল, আইপ্যাক ও কেন্দ্রীয় সংস্থার ভূমিকা নিয়ে একের পর এক তীক্ষ্ণ প্রশ্ন। তারই মধ্যে শীর্ষ আদালতের একটি মন্তব্য—“এ বার ভোট কি আইপ্যাক করাবে?”—ঘিরে নতুন করে বিতর্ক ছড়িয়েছে।

এই মামলায় কেন্দ্রীয় সংস্থার অভিযোগ, আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি ও অফিসে তল্লাশির সময় রাজ্য প্রশাসন ও শাসকদল বাধা দিয়েছে। পালটা তৃণমূলের দাবি, তদন্ত ছিল উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও রাজনৈতিক। দুই পক্ষের তীব্র সওয়ালে কার্যত মুখোমুখি সংঘর্ষের ছবি ধরা পড়ে সুপ্রিম কোর্টের এজলাসে।


সুপ্রিম কোর্টে শুনানির মুহূর্তে-মুহূর্তে আপডেট

বেলা ১২.৪৬:
অভিষেক মনু সিংভির প্রশ্ন, “একদিকে বলা হচ্ছে মুখ্যমন্ত্রী নথি নিয়ে গিয়েছেন, অন্যদিকে পঞ্চনামায় লেখা তল্লাশি শান্তিপূর্ণ। তাহলে সত্যিটা কোনটা? সকাল ৬.৩০টায় তল্লাশি শুরু, পুলিশকে ই-মেল ১১.৩০টায়—শুধু কাগজ তৈরির জন্যই কি এমনটা?”

বেলা ১২.৪২:
কপিল সিব্বলের সওয়াল, “আইপ্যাক তৃণমূলের ভোটকৌশলী সংস্থা। দলনেত্রী হিসেবে সেখানে যাওয়ার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। তা হলে ইডি কেন রাজনৈতিক দলের অফিসের ওই অংশে ঢুকল?”

বেলা ১২.৩৯:
মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে খারিজের আবেদন তৃণমূলের।

বেলা ১২.৩৫:
কপিল সিব্বলের অভিযোগ, “ইডি ও সিবিআই পছন্দের সাংবাদিকদের আগেভাগে তথ্য দিয়েছে।”
ইডির পালটা সওয়াল, “আদালতের ভিতরের বিষয় প্রকাশ্যে আনা অনুচিত।”

বেলা ১২.৩২:
বিচারপতির প্রশ্ন—“এ বার ভোট কি আইপ্যাক করাবে?”
সিব্বলের জবাব, “২০২১ সাল থেকে আইপ্যাকের সঙ্গে তৃণমূলের চুক্তি। ভোটকৌশল তখন থেকেই তৈরি হয়—ইডি তা জানে।”

বেলা ১২.৩০:
ইডির আইনজীবীর প্রশ্ন, “কী এমন ছিল যে গোটা পুলিশবাহিনী নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সেখানে গেলেন? আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন।”

বেলা ১২.২৬:
সিব্বলের অভিযোগ, “তৃণমূলের গুরুত্বপূর্ণ নথি বাজেয়াপ্ত করতেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তল্লাশি। অথচ নিজেরাই বলেছিলেন সিজার লিস্ট নেই, তল্লাশি শান্তিপূর্ণ।”

বেলা ১২.২০:
বিচারপতি মিশ্র জানতে চান, আইপ্যাকের সঙ্গে আগে কি প্রশান্ত কিশোর যুক্ত ছিলেন?

বেলা ১২.১৮:
কলকাতা হাই কোর্টে শুনানির সময় হট্টগোল নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের উদ্বেগ। মামলা ফের হাই কোর্টে পাঠানোর আবেদন সিব্বল ও সিংভির।

বেলা ১২.১৬:
ইডির বক্তব্য, কয়লা পাচার মামলায় পিএমএলএ-র ১৭ ধারা অনুযায়ী তল্লাশি—রাজনীতির যোগ নেই।

বেলা ১২.১৪:
ইডির দাবি, আইপ্যাক কর্ণধারের তরফে এখনও কোনও অভিযোগ দায়ের হয়নি, অথচ তৃণমূল করেছে।

বেলা ১২.১৩:
ইডির অভিযোগ, তল্লাশির সময় ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও নথি ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।

বেলা ১২.১২:
ইডির সওয়াল, রাজ্যের আইনমন্ত্রী কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেন।
বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, “আদালতকে তো যন্তরমন্তর বানিয়ে ফেলেছেন—খুবই বিরল পরিস্থিতি।”

বেলা ১২.০৭:
পুলিশ আধিকারিকদের সাসপেন্ডের দাবি ইডির।

বেলা ১২.০০:
অ্যাটর্নি জেনারেল তুষার মেহতার সওয়াল—মুখ্যমন্ত্রী ও পুলিশ আধিকারিকরা তদন্তে বাধা দিয়েছেন বলে অভিযোগ।

বেলা ১১.৫০:
সুপ্রিম কোর্টে আইপ্যাক মামলার শুনানি শুরু।


এই শুনানির পর সিবিআই তদন্তের আবেদন নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট কী সিদ্ধান্ত নেয়, তার দিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল। একদিকে কেন্দ্রীয় সংস্থার কড়া অবস্থান, অন্যদিকে তৃণমূলের ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্য’-র অভিযোগ—সব মিলিয়ে এই মামলা যে আগামী দিনে আরও বড় সাংবিধানিক বিতর্কের জন্ম দিতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর