ইআরও-র হাতেই চূড়ান্ত ক্ষমতা! মমতার সওয়াল মেনে নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের, পিছোল ভোটার তালিকা প্রকাশ

এসআইআর মামলায় সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশ। ইআরও-রাই নেবেন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত, ভোটার তালিকা প্রকাশ পিছোল; এনুমারেশন ফর্ম পোড়ানো নিয়ে রাজ্য পুলিশের ডিজি-কে শোকজ়।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ায় বড়সড় মোড়। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সওয়াল কার্যত মেনে নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে দিল—ভোটার সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন শুধুমাত্র ইআরও ও এইআরও-রাই। মাইক্রো অবজ়ার্ভারদের মন্তব্য বাধ্যতামূলক নয়। এই নির্দেশের জেরে নির্ধারিত দিনে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা যাচ্ছে না বলেই জানিয়ে দিল শীর্ষ আদালত।

নামের বানান, মধ্যনাম বা সফটওয়্যারের যান্ত্রিক বিশ্লেষণের কারণে যেন কোনও ভোটার গণহারে বাদ না পড়েন—এই যুক্তিকেই গুরুত্ব দিয়েছে আদালত। কমিশনের ব্যবহৃত সফটওয়্যার ও নোটিস পাঠানোর পদ্ধতি নিয়েও একাধিক প্রশ্ন তোলেন বিচারপতিরা।

সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, বাস্তব সামাজিক কাঠামোর সঙ্গে কমিশনের সফটওয়্যার বিশ্লেষণের মিল নেই। বাংলা পরিবারে মধ্যনাম হিসেবে ‘কুমার’ ব্যবহারের মতো বিষয় উপেক্ষা করে নোটিস পাঠানো হচ্ছে বলে আদালত জানায়। বিচারপতি বাগচীর মন্তব্য, শুধুমাত্র নামের সামান্য পার্থক্যের জন্য ভোটারদের শুনানিতে ডেকে পাঠানো অত্যন্ত কঠোর ও অযৌক্তিক।

আদালত স্পষ্ট করে দেয়, মাইক্রো অবজ়ার্ভারদের কাজ কেবল সহায়ক ভূমিকা পালন করা। ইআরও বা এইআরও-র সিদ্ধান্তের উপর তাঁদের কোনও প্রাধান্য থাকতে পারে না। ইআরও-দের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে মাইক্রো অবজ়ার্ভারের মন্তব্যের জন্য অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই বলেও জানিয়ে দেয় বেঞ্চ।

এই প্রেক্ষিতেই সুপ্রিম কোর্ট আরও জানায়, ১৪ ফেব্রুয়ারির পরে ইআরও-দের অতিরিক্ত এক সপ্তাহ সময় দেওয়া হবে। যাতে তাঁরা সমস্ত নথি যাচাই করে মানবিক ও যুক্তিসঙ্গত ভাবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, সেই কারণেই সময়সীমা বাড়ানো হচ্ছে বলে জানায় আদালত। অর্থাৎ, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের দিন স্বাভাবিক ভাবেই পিছিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে শুনানিতে আরও একটি গুরুতর বিষয় উঠে আসে। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় এনুমারেশন ফর্ম পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠলেও এখনও পর্যন্ত কোনও এফআইআর নথিভুক্ত হয়নি বলে অভিযোগ করে কমিশন। এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করে সুপ্রিম কোর্ট। রাজ্যের পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ডিজি অব পুলিশকে শোকজ় নোটিস জারি করেছে আদালত। কেন এখনও পর্যন্ত কোনও এফআইআর হয়নি, তার ব্যাখ্যা দিয়ে হলফনামা জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রাজ্য পুলিশের শীর্ষকর্তাকে।

সব মিলিয়ে, আদালতের এই নির্দেশে একদিকে যেমন কমিশনের ভূমিকার উপর কড়া নজরদারি বাড়ল, তেমনই ভোটারদের অধিকার রক্ষায় রাজ্যের যুক্তি বড় স্বীকৃতি পেল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক ও আইনি মহল।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত