শালবনি জমি মামলায় নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়কে ঘিরে। সুমিতের আইনজীবী অগ্নিশ বসুর দাবি, দলের অ্যাকাউন্টে টাকা জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে অভিষেকের কোনও নির্দেশের কথা সুমিত বলেননি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের পর দলের আর্থিক বিষয় দেখার দায়িত্বে থাকা তৎকালীন কোষাধ্যক্ষ অরূপ বিশ্বাসের নির্দেশেই তিনি টাকা জমা করতেন।
রবিবার ভবানীভবনে সিআইডি দফতরে গিয়ে সুমিতের সঙ্গে দেখা করেন তাঁর আইনজীবী অগ্নিশ বসু। সাক্ষাতের পর তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, দলের আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিষয় দলীয় কোষাধ্যক্ষের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। তাঁর দাবি, দলের সংবিধান অনুযায়ী ২০২০ সালের পর সেই দায়িত্বে ছিলেন অরূপ বিশ্বাস।
অগ্নিশ বসুর বক্তব্য, কোষাধ্যক্ষ যে ভাবে নির্দেশ দিতেন, সুমিত সেই অনুযায়ী দলের অ্যাকাউন্টে টাকা জমা করতেন। অর্থাৎ, সুমিতের আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, এই লেনদেনের সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরাসরি নির্দেশের কোনও সম্পর্ক নেই।
শালবনি জমি মামলায় সরকারি খাসজমি ভুয়ো নথির মাধ্যমে দখল ও বিক্রির অভিযোগের তদন্ত করছে সিআইডি। এই মামলায় সুমিত রায় এবং প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সুজয় হাজরাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তে আর্থিক লেনদেনের বিষয়টিও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
এর আগে সিআইডির তরফে আদালতে জমা দেওয়া নথি ঘিরে সুমিতের বক্তব্য নিয়ে অন্য দাবি সামনে এসেছিল। তদন্তকারীদের দাবি ছিল, জেরায় সুমিত ‘টি. ঘোষ’ নামে এক ব্যক্তির কথা জানিয়েছিলেন এবং ওই ব্যক্তিকে সাংসদের কোষাধ্যক্ষ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। সিআইডির দাবি অনুযায়ী, অভিষেকের নির্দেশেই ওই ব্যক্তির মাধ্যমে টাকা সুমিতের কাছে পৌঁছেছিল।
অন্যদিকে, সুমিতের আইনজীবী সেই দাবিই অস্বীকার করেছেন। তাঁর বক্তব্য, সুমিত এমন কোনও স্বীকারোক্তি দেননি এবং অভিষেকের নির্দেশে টাকা জমা দেওয়ার কথাও বলেননি। বরং দলের আর্থিক বিষয় তৎকালীন কোষাধ্যক্ষের নির্দেশেই পরিচালিত হত বলে তিনি জানিয়েছেন।
এই মামলার তদন্তে দলের অ্যাকাউন্টে টাকা জমার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তদন্ত-সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, সিআইডি প্রায় ৭ কোটি টাকা দলের যুব সংগঠনের অ্যাকাউন্টে জমার বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। সেই টাকার উৎস এবং লেনদেনের সঙ্গে কারা যুক্ত ছিলেন, তা নিয়েই তদন্ত এগোচ্ছে।
ফলে সুমিত রায়ের বক্তব্য নিয়ে তৈরি হয়েছে দুই ধরনের দাবি—একদিকে তদন্তকারীদের বক্তব্য, অন্যদিকে তাঁর আইনজীবীর দেওয়া ব্যাখ্যা। কোন বক্তব্য তদন্তে শেষ পর্যন্ত গ্রহণযোগ্য হয় এবং শালবনি জমি মামলায় আর্থিক লেনদেনের প্রকৃত সূত্র কোথায় গিয়ে পৌঁছয়, এখন সেটাই নজরে।



