বিজেপির বৃহত্তম জোট সঙ্গী সুদীপরা মন্ত্রীত্ব পাচ্ছেন? বাদল অধিবেশনের মূল টার্গেট কি?

বিজেপির বৃহত্তম জোট সঙ্গী সুদীপরা মন্ত্রীত্ব পাচ্ছেন কি না তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। বাদল অধিবেশনে ‘আসল তৃণমূল’ বিতর্ক নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করতে পারে।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

দিল্লির রাজনৈতিক মহলে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—বিজেপির বৃহত্তম জোট সঙ্গী সুদীপরা মন্ত্রীত্ব পাচ্ছেন? নাকি বাদল অধিবেশনেই শুরু হতে চলেছে ‘আসল তৃণমূল’ নিয়ে সাংসদদের শক্তিপরীক্ষা? কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠকের পর বিদ্রোহী শিবিরের কৌশল নিয়ে নতুন জল্পনা তৈরি হয়েছে রাজধানীতে। সংসদ অধিবেশন শুরুর আগেই তৃণমূলের নাম, পরিচয় এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান ঘিরে উত্তাপ বাড়ছে।

দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত শনিবার দিল্লিতে অমিত শাহের সঙ্গে প্রায় ৭০ মিনিটের বৈঠকে বিদ্রোহী সাংসদদের পরবর্তী রাজনৈতিক রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে কথাবার্তাও হয়েছে বলে খবর।

সূত্রের দাবি, সেই বৈঠকে শাহ নাকি স্পষ্টভাবে মত দেন যে বাংলার মানুষের একাংশ জোড়াফুল প্রতীকের প্রতি আস্থা হারিয়েছে। তাই প্রতীক নিয়ে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ে না গিয়ে ‘তৃণমূল’ নামের রাজনৈতিক গুরুত্বকে সামনে রাখাই বেশি কার্যকর হতে পারে। বিদ্রোহী শিবিরও আপাতত সেই পথেই এগোতে চাইছে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।

সোমবার দিল্লিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “২০ জুলাই সংসদ অধিবেশন শুরু হবে। সেখানে তৃণমূল কংগ্রেসের নামে একটি দল আসবে। আমাদেরও বলার থাকবে, আমরাই তৃণমূল কংগ্রেস। গোনা হোক।” তাঁর মতে, শেষ পর্যন্ত এই বিতর্কের নিষ্পত্তি আদালতেই হবে।

সুদীপ আরও দাবি করেন, আইনি প্রক্রিয়া চলাকালীন জোড়াফুল প্রতীক ‘ফ্রিজ’ হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তবে এই মুহূর্তে নির্বাচন কমিশনের কাছে যাওয়ার কোনও পরিকল্পনা তাঁদের নেই বলেও তিনি স্পষ্ট করেছেন।

এদিকে সম্ভাব্য রাজনৈতিক জটিলতা নিয়ে লোকসভা সচিবালয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে বলে সূত্রের খবর। বাদল অধিবেশনে যদি দুই পক্ষই নিজেদের তৃণমূল কংগ্রেস হিসেবে দাবি করে, তাহলে সংসদীয় স্বীকৃতি, আসন বিন্যাস এবং দলীয় পরিচয় নিয়ে একাধিক প্রশ্ন সামনে আসতে পারে। প্রয়োজন হলে কেন্দ্রীয় আইন মন্ত্রকের মতামতও নেওয়া হতে পারে।

দিল্লি সফর শেষে সুদীপ বলেন, “প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ হয়েছে। এবার যা কিছু হবে, কলকাতায় ফিরে যাওয়ার পর।” একই সঙ্গে তিনি জানান, আপাতত তাঁরা এনসিপিআই-তেই থাকছেন। দলত্যাগ বিরোধী আইনের জটিলতা এড়াতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

রসিকতার সুরে সুদীপের মন্তব্য, “এই দলের নাম আগে কোনও দিন শুনিনি।” পাশাপাশি নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরির কৃতিত্বও তিনি নিজের নামে নিতে চাননি। তাঁর দাবি, “আমি কুড়িতম সাংসদ হিসেবে স্বাক্ষর করেছি। কাকলি ঘোষ দস্তিদার এবং শতাব্দী রায়ই এই প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন।”

অন্যদিকে, এনডিএ জোটে বিজেপির পর দ্বিতীয় বৃহত্তম শরিক এখন এনসিপিআই। সেই কারণে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় সুদীপের জায়গা হতে পারে বলে জল্পনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। যদিও এই সম্ভাবনাকে সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়ে তিনি জানিয়েছেন, “প্রতিমন্ত্রী হওয়ার খবর সর্বৈব অসত্য।”

২১ জুলাই শহিদ দিবসের ঠিক আগের দিন শুরু হতে চলা বাদল অধিবেশনকে ঘিরে তাই রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে। সংসদের অন্দরেই কি ‘আসল তৃণমূল’ নিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষের সূচনা হবে, নাকি নতুন কোনও সমীকরণ সামনে আসবে—সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর