কল্যাণীর রঞ্জি কোয়ার্টার ফাইনালে এখন গল্পটা শুধু স্কোরবোর্ডের নয়, লড়াইয়ের মনস্তত্ত্বের। শুরুতে ধাক্কা, মাঝপথে চাপ, আর সেখান থেকেই ধীরে ধীরে ম্যাচের রাশ নিজেদের হাতে তুলে নিয়েছে বাংলা। কঠিন পরিস্থিতিতে মাথা ঠান্ডা রেখে ঘুরে দাঁড়ানোর দৃষ্টান্ত তৈরি করলেন সুদীপ ঘরামি, আর তাঁর ব্যাটেই এখন সেমিফাইনালের স্বপ্ন দেখছে লক্ষ্মীরতন শুক্লার দল।
প্রথম ইনিংসে অন্ধ্রপ্রদেশকে ২৯৫ রানে আটকে দিয়েছিল বাংলা। মুকেশ কুমারের পাঁচ উইকেট প্রতিপক্ষকে বড় স্কোর গড়তে দেয়নি। কিন্তু ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপদে পড়ে যায় বাংলা। ওপেনাররা ব্যর্থ, টপ অর্ডার ভেঙে পড়ে—৪৩ রানে তিন উইকেট হারিয়ে ম্যাচের গতি ঘুরে যায় অন্ধ্রের দিকে।
সেই কঠিন মুহূর্তেই দলের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন সুদীপ। তাড়াহুড়ো না করে ধৈর্যের সঙ্গে ইনিংস গড়তে থাকেন তিনি। পাশে সুমন্ত গুপ্তও দারুণ সংযম দেখান। দ্বিতীয় দিনের শেষে বাংলা পৌঁছে যায় ৫ উইকেটে ১৯৯ রানে। তখন ক্রিজে ছিলেন সুদীপ (১১২*) ও সুমন্ত (২২*)।
তৃতীয় দিনের শুরুতেই এই জুটি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। দু’জনে মিলে যোগ করেন আরও ১১৯ রান, আর মোট ১৬৫ রানের জুটি বাংলাকে এগিয়ে দেয় লিডের দিকে। সুমন্ত ৮১ রানে আউট হলেও সুদীপ থামেননি।
সময় যত গড়িয়েছে, ততই আরও দৃঢ় হয়েছে তাঁর ব্যাটিং। অবশেষে তুলে নেন দুর্দান্ত দ্বিশতরান। এই ইনিংস শুধু পরিসংখ্যান নয়, মানসিক লড়াইয়েরও বড় বার্তা। নকআউট ম্যাচে এমন ধৈর্য ও নিয়ন্ত্রণে ব্যাটিং তাঁকে আলাদা জায়গায় পৌঁছে দিল।
অন্ধ্রের বোলাররা বারবার পরিকল্পনা বদলালেও সুদীপকে চাপে ফেলতে পারেনি। প্রতিটি রান বাংলার আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে, আর প্রতিপক্ষের মনোবল কমিয়েছে।
তৃতীয় দিনের শেষে বাংলার স্কোর ৬ উইকেটে ৪১৮। লিড ১২৩ রানের। হাতে রয়েছে আরও চার উইকেট। সুদীপ ২১৬ রানে অপরাজিত, তাঁর সঙ্গে ক্রিজে আছেন শাকির হাবিব গান্ধী (৪৫*)।
চতুর্থ দিনের লক্ষ্য স্পষ্ট—লিড যতটা সম্ভব বাড়ানো। অতীতে ভালো জায়গা থেকেও বারবার হোঁচট খেয়েছে বাংলা। সেই ইতিহাস বদলাতেই এবার এগোচ্ছে দল। ম্যাচ এখনও শেষ হয়নি, কিন্তু পরিস্থিতি বলছে—এই লড়াইয়ের নিয়ন্ত্রণ এখন বাংলার হাতেই, আর সেমিফাইনালও আর দূরে নয়।



