সোমবার দিনভর উত্তেজনা ছড়িয়েছে কলকাতার এসএসসি এবং মধ্যশিক্ষা পর্ষদ ভবনের সামনে। ২০১৬ সালের নিয়োগ প্যানেল বাতিল হওয়ার পর থেকে দীর্ঘদিন ধরেই যাঁরা নিজেদের ‘যোগ্য’ দাবী করে আসছেন, সেই চাকরিহারা শিক্ষকরা এবার কঠোর অবস্থানে গিয়েছেন।
এসএসসি ভবনে আটকে পড়েছেন চেয়ারম্যান-সহ ১০ থেকে ১৫ জন কর্মী, যার মধ্যে রয়েছেন ৪ জন মহিলা। গত রাত থেকে আন্দোলনকারীরা ভবনের সামনে ঘেরাও করে রেখেছেন এসএসসি ও পর্ষদের দপ্তর। কাউকে বাইরে থেকে খাবার নিয়ে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। প্রতিবাদীরা নিজেরাও না খেয়ে রয়েছেন। তাঁদের দাবি, দিনের পর দিন আশ্বাস দিলেও এখনও পর্যন্ত যোগ্য ও অযোগ্যদের তালিকা প্রকাশ করা হয়নি।
চাকরি হারিয়ে অনেকেই দুঃসহ মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ২০১৬ সালের নিয়োগ প্যানেল বাতিল হলেও, এসএসসি জানিয়েছিল তালিকা প্রকাশ করে যোগ্যদের স্বীকৃতি দেওয়া হবে। এমনকি মুখ্যমন্ত্রী পর্যন্ত বারবার আশ্বাস দিয়েছেন, কিন্তু বাস্তবতা অন্যরকম।
সোমবার এসএসসি জানায়, আইনগত বাধার কারণে তারা তালিকা প্রকাশ করতে পারছে না। এতে ক্ষোভে ফেটে পড়েন শিক্ষকরা। তাঁদের প্রশ্ন, কোন ভিত্তিতে ডিসেম্বর পর্যন্ত বেতন দেওয়া হবে? কারা সেই ‘যোগ্য’ যাঁদের কথা বলা হচ্ছে?
আন্দোলনকারীদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা ও আর. জি. কর হাসপাতালের জুনিয়র চিকিৎসক অনিকেত মাহাতো। আন্দোলনকারীদের জন্য আনা হয়েছে বায়োটয়লেট-সহ অন্যান্য জরুরি সামগ্রী।
প্রতিবাদকারীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন—তালিকা প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের অবস্থান চলবে। এমনকি প্রাণের ঝুঁকি থাকলেও তাঁরা পিছু হটবেন না। মঙ্গলবার এই আন্দোলনের কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকে নজর থাকবে গোটা রাজ্যের।



