নজরবন্দি ব্যুরো: ২৯শে নভেম্বর ধর্মতলার ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে বিজেপির সভা করা নিয়ে জোরদার সংঘাত চলছে রাজ্য সরকার ও গেরুয়া শিবিরের মধ্যে। সিঙ্গেল বেঞ্চের পর ডিভিশন বেঞ্চও বিজেপিকে সভা করার অনুমতি দিয়েছে। সূত্রের খবর, এ বার রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হতে চলেছে। অন্যদিকে, সে কথার আশঙ্কা করে আগেভাগেই ক্যাভিয়েট দাখিল করল বিজেপি। অর্থাৎ, রাজ্য সুপ্রিম কোর্টে গেলেও বিজেপির বক্তব্য না শুনে একতরফা ভাবে কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না শীর্ষ আদালত।
আরও পড়ুন: রাজ্যকে ভর্ৎসনা প্রধান বিচারপতির, ধর্মতলায় বিজেপির সভাতে অনুমতি ডিভিশন বেঞ্চের


শুক্রবার হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম এবং হিরণ্ময় ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চে মামলার শুনানি শুরু হয়। রাজ্যের তরফে সওয়াল করা হয়, ভিক্টোরিয়া হাউজের সামনে যেখানে বিজেপি সভা করার অনুমতি চেয়েছে সেটি শহরের কেন্দ্রবিন্দু। এই সভা হলে শহর স্তব্ধ হয়ে যাবে।’ পাল্টা ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, ‘পশ্চিমবঙ্গে এটা নতুন কিছু নয়। কেউ সাধারণ মানুষ নিয়ে ভাবেন না। সরকারি কর্মচারি, রাজনৈতিক দল, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা সবাই রাস্তা আটকে মিছিল করে। পুলিশ অনুমতি দিয়ে দেয়।’ উত্তরে রাজ্যের আইনজীবী জানান, ‘২১ জুলাইয়ের সভা ছাড়া আর কোনও সভা হয় না ওখানে।’ আদালত বলে, ‘হনুমান জয়ন্তীর সময়ও তো রাজ্য পুলিশের কোনও উপদেশমূলক বিজ্ঞপ্তি ছিল না। আদালত বলার পর গঠনমূলক বিজ্ঞপ্তি তৈরি হয়েছে।’

প্রধান বিচারপতির বক্তব্য, অযথা সমস্যা তৈরি করা হচ্ছে। বিরক্তির সুরেই তিনি বলেন, ‘২১ জুলাইয়ের সভাও বন্ধ করে দিচ্ছি। সমস্ত সভা বন্ধ করে দেব। যে নিয়মের কথা আপনারা বলছেন শাসকদলের সভার ক্ষেত্রে এই নিয়ম আপনারা মানেন, সেই তালিকা নিয়ে আসুন।’ তাঁর কথায়, ‘অযথা এই অনুষ্ঠানকে জনপ্রিয় করে দিচ্ছেন। আগে যদি ১০ হাজার মানুষ আসত, এখন তাহলে ১ লাখ মানুষ আসবে।’ এরপরই ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্যকে বিধিনিষেধ আরোপ করে অনুমতি দেওয়ার নির্দেশ দেয়।



ধর্মতলায় ‘শাহি’ সভা আটকাতে সুপ্রিম কোর্টে যাচ্ছে রাজ্য? আগেভাগেই ক্যাভিয়েট দাখিল বিজেপির
সিঙ্গেল বেঞ্চের বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার নির্দেশ বহাল রাখলেন প্রধান বিচারপতি। বিধিনিষেধ আরোপ করে বিজেপিকে জানানোর জন্য পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি মান্থা। একক বেঞ্চের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করল না ডিভিশন বেঞ্চ। অর্থাৎ আগামী ২৯ নভেম্বর ধর্মতলায় সভা করতে পারবে বিজেপি।








