সময় বাঁচাতে হাসপাতালগুলিকে র‍্যাপিড টেস্ট চালুর নির্দেশ রাজ্য সরকারের।

বিজ্ঞাপন
নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ সময় বাঁচাতে হাসপাতালগুলিকে র‍্যাপিড টেস্ট চালুর নির্দেশ রাজ্য সরকারের। করোনা সংক্রমণ শনাক্ত করতে প্রধানত দুই রকম পরীক্ষা করা হয়ে থাকে। তা হল র‍্যাপিড টেস্ট ও আরটি-পিসিআর টেস্ট। এর মধ্যে বর্তমানে টেস্ট সেন্টার ও হাসপাতালগুলি আরটি-পিসিআর টেস্ট বেশী করা হয়। কারন হল নিশ্চয়তা। এই পরীক্ষায় সঠিক ফল পাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ১০০ শতাংশ। অন্যদিকে র‍্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট করার ফলে অনেক ক্ষেত্রেই ফলস নেগেটিভ রিপোর্ট আসে। তাই আরটি-পিসিআর টেস্টই বেশি করা হচ্ছে এখন।

আরও পড়ুনঃ আর্জেন্ট কেসে ভেন্টিলেটর পাঠিয়েছে কেন্দ্র, ২ঘন্টা তেই বেশিরভাগ বিকল পাঞ্জাবে

তবে আরটি-পিসিআর পদ্ধতিতে করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট আসতে অনেকটাই সময় লাগে। আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা যেভাবে বাড়ছে তাতে দ্রুত করোনা পরীক্ষা না হলে চিকিত্‍সা শুরু হতেও দেরি হবে। এই সমস্যা মেটানোর জন্যই র‍্যাপিড টেস্ট শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সরকারি সূত্রে খবর। সরকারি নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, কোভিডের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসছেন অনেক রোগী। আগে নমুনা পরীক্ষা করে দেখে নেওয়া হচ্ছে শরীরে সংক্রমণ আছে কিনা। কোভিড পরীক্ষার জন্য আরটি-পিসিআর টেস্টই বেশি করা হচ্ছে। সেই টেস্টের রিপোর্ট পজিটিভ এলে তবেই চিকিত্‍সা শুরু হচ্ছে। কিন্তু আরটি-পিসিআর পদ্ধতিতে করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট আসতে অনেকটাই সময় লাগে। সঙ্কটাপন্ন রোগী হলে তাকে এত দীর্ঘ সময় ফেলে রাখা ঠিক নয়।

সে কারণেই র‍্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট বা র‍্যাট টেস্ট করে সংক্রমণ আছে কিনা তা নিশ্চিত হয়ে দ্রুত চিকিত্‍সা শুরু হওয়া দরকার। তাহলে কখন করা হবে আরটি- পিসিআর টেস্ট? নির্দেশিকায় বলা হয়েছে কোনও রোগী যদি সিম্পটোম্যাটিক হয় অর্থাত্‍ সংক্রমণের উপসর্গ রয়েছে অথচ র‍্যাপিট টেস্টের রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে, তখন দ্বিতীয়বার আরটি-পিসিআর পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া যেতে পারে। রাজ্যে ক্রমাগত আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে চলায় দীর্ঘ সময় ধরে পরীক্ষার ফল পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা সম্ভব নয়। সেক্ষেত্রে রোগীর জীবনের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর জানাচ্ছে, সবচেয়ে আগে চিকিত্‍সা শুরু করতে হবে। তার জন্য দ্রুত রোগ শণাক্ত করা দরকার।

স্বাস্থ্য দফতর আরও জানাচ্ছে, কোনও রোগীকে অন্য হাসপাতালে রেফার করতে হলে আগে তার প্রাথমিক চিকিত্‍সা করিয়ে নিতে হবে সংশ্লিস্ট হাসপাতালকে। রোগীর শারীরিক অবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল হলে তবেই তাকে অন্য কোথাও স্থানান্তরিত করা যেতে পারে। বিনা চিকিত্‍সায় কোনও রোগীকেই ফিরিয়ে দিতে পারবে না হাসপাতাল। এদিকে রিয়েল টাইম আরটি-পিসিআর (রিভার্স ট্রান্সক্রিপটেজ-পলিমারেজ চেন রিঅ্যাকশন) টেস্টে রোগীর নমুনা পরীক্ষা করা হয় অনেকগুলো জটিল প্রক্রিয়ায়। এতে সময় বেশি লাগে। আর অ্যান্টিজেন টেস্টে সে তুলনায় সময় অনেক কম লাগে। এই টেস্ট কিট দেখতে অনেকটা প্রেগন্যান্সি টেস্ট স্ট্রিপের মতো।

সময় বাঁচাতে হাসপাতালগুলিকে র‍্যাপিড টেস্ট চালুর নির্দেশ রাজ্য সরকারের। এই টেস্ট কিটে থাকে কোভিড অ্যান্টিজেন টেস্ট ডিভাইস, ভাইরাল এক্সট্র্যাকশন টিউব যার মধ্যে ভাইরাল প্রোটিন ছেঁকে নেওয়ার মতো বাফার এবং নমুনা সংগ্রহের জন্য স্টেরাইল টিউব থাকে। রোগীর থেকে নেওয়া নমুনা স্ট্রিপে ফেলতে হয়। এর পরেই স্ট্রিপে দু’রকম লাইন ফুটে ওঠে যাদের বলে টেস্ট লাইন ও কন্ট্রোল লাইন। এই দুই লাইনের উপস্থিতি ও অনুপস্থিতির উপরেই নির্ভর করবে নমুনায় ভাইরাল স্ট্রেন আছে না নেই।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর