নজরবন্দি ব্যুরোঃ গ্রুপ ডি নিয়োগের বেনজির দুর্নীতি অভিযোগে ৫৭৩ জনকে বরখাস্ত করেছিল। বুধবার রায় দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্টের অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ। বৃহস্পতিবার সিঙ্গেল বেঞ্চের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে যাওয়ার সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকারের। এসএসসিকেও আপিল করার নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা দফতর।
আরও পড়ুনঃ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি অমল পালেকর, করোনা আক্রান্ত তিনি


বুধবার আদালতের তরফে ৫৭৩ জনকে বরাখাস্তের নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। নিয়ম না মেনে নিয়োগ করার কারণে এই দুর্নীতি হয়ে বলে অভিযোগ আদালতের। পাশাপাশি ৫৭৩ জনকে বরখাস্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এতদিন তাঁরা যে বেতন পেয়েছেন তা ফিরতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের বক্তব্য, তদন্তের রিপোর্ট জমা না পড়লেও কীভাবে সিঙ্গেল বেঞ্চের নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে? তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। আইনজীবীদের দ্রুত আপিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গ্রুপ ডি নিয়োগে দুর্নীতি তদন্তের জন্য সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে যায় কমিশন। সেখানে সিবিআই তদন্তের বিষয়টি খারিজ করে দেয় আদালত। প্রাক্তন বিচারপতির নেতৃত্বে চলে তদন্ত। মামলা চলে যায় সিঙ্গেল বেঞ্চে। সেখানেই এই রায় দেয় আদালত। ১৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে রিপোর্ট পেশ করতে বলা হয়েছে।
আদালতের তরফে বলা হয়েছে, কীভাবে এই দুর্নীতি হয়েছে, এর সঙ্গে কারা যুক্ত, কোনও টাকা বিনিময় হয়েছে কী না সেবিষয়ে রিপোর্ট জমা দিতে বলে হয়েছে। এই ঘটনার তদন্তে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ যে কমিটি গঠন করা হয়েছিল তাকেও পাঁচ দিনের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।


আদালত সূত্রে খবর, স্কুলের ১৩ হাজার শূন্যপদে চতুর্থ শ্রেণির কর্মী নিয়োগের জন্যে ২০১৬ সালে স্কুল সার্ভিস কমিশন কে সুপারিশ করেছিল রাজ্য। সেই মতো পরীক্ষা ও ইন্টারভিউ নেয় এসএসসি। পরে তাঁরা প্যানেল প্রকাশ করে। ২০১৯ সালে ওই প্যানেলের মেয়াদ শেষ হয়। কিন্তু অভিযোগ ওঠে যে, প্রকাশিত প্যানেলের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও নিয়মবহির্ভূত ভাবে প্রচুর নিয়োগ করেছে কমিশন।
সিঙ্গেল বেঞ্চের রায়কে চ্যালেঞ্জ, ডিভিশন বেঞ্চে গেল গ্রুপ ডি মামলা

এমনকি এবিষয়ে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। পরে কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গেল বেঞ্চের রায়কে চ্যালেঞ্জ করেই মামলা ডিভিশন বেঞ্চে গড়ায়। ২৫ জনকে সুপারিশের কথা জানা যায়। সেই নিয়োগ কীভাবে হয়েছিল তারই কৈফিয়ত চায় আদালত। এরপর এই প্রথমবার এতজনকে বরখাস্ত করল আদালত। যা নিয়ে বেজায় ক্ষুব্ধ স্কুল শিক্ষা দফতর।







