নজরবন্দি ব্যুরোঃ মুখ থুবড়ে পড়েছে মোদীর স্বপ্নের ‘আয়ুষ্মান ভারত’? তেমনই বলছে পরিসংখ্যান। গোটা দেশের মানুষকে একই চিকিৎসা ব্যবস্থার আওতায় আনতে ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঘোষণা করেছিলেন তাঁর স্বপ্নের ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্প। উদ্দেশ্য ছিল দেশের ৫০ কোটি মানুষের চিকিৎসা পরিসেবা সুরক্ষিত ও নিশ্চিত করা। ঠিক করা হয় এই প্রকল্প অনুযায়ী একজন উপভোক্তা তাঁর পরিবারের জন্য বছর প্রতি বিনামূল্যে পাঁচ লক্ষ টাকা চিকিত্সা খরচ পাবেন। সেই মত অর্থ বাজেটে এই প্রকল্পের জন্য কয়েক হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়।
আরও পড়ুনঃ রোনাল্ডোর পর পোগবা, সাংবাদিক বৈঠকে বিয়ারের বোতল সরিয়ে দিলেন ফরাসি তারকা।
তবে প্রকল্প ঘোষণার পর থেকেই এর যৌক্তিকতা ও বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তোলে বিরোধী থেকে বিশেষজ্ঞরা। তবে তাতে বিশেষ আমল না দিয়েই গোটা দেশ জুড়ে প্রধানমন্ত্রীর ‘ড্রিম প্রোজেক্ট’ চালুর প্রস্তুতি শুরু করে কেন্দ্র। আজ তিন বছর পরে কি অবস্থা সেই প্রকল্পের। তথ্য বলছে মোদীর স্বপ্নের প্রকল্পের বাস্তবায়ন থেকে অনেক দূরে আটকে থেকে গেছে কেন্দ্র। যার জেরে সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয়তা মেলেনি তার। ফলে কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে এই স্বাস্থ্য প্রকল্প। পরিসংখ্যান বলছে ১১ কোটি মানুষের রাজ্য বিহার। যেখানে মাত্র ১৯ জন কোভিড চিকিত্সার জন্য ‘আয়ুষ্মান ভারত’-এর দ্বারস্থ হয়েছেন।
ইন্ডিয়া টু-ডের করা আরটিআই-এর পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রের অধীনে থাক ন্যাশানাল হেলথ অথিরিটির দেওয়া তথ্যে বিহারের পাশাপাশ অন্য রাজ্যগুলির চিত্রও সামনে এসেছে। উত্তরপ্রদেশ ও ঝাড়খণ্ডে সংখ্যাটা যথাক্রমে ৮৭৫, ও১,৪১৯। কিছুটা অবস্থা ভাল অবশ্য অন্ধ্র ও কর্ণাটকের। ১.৫০ লক্ষ মানুষ সেখানে কোভিড চিকিত্সার জন্য ‘আয়ুষ্মান ভারত’-এর সুবিধা নিয়েছেন। কোভিড চিকিত্সার ক্ষেত্রে গোটা দেশে কেন্দ্রের এই গর্বের প্রকল্পে শরণাপন্নের সংখ্যা ২৩.৭৮ লক্ষ। প্রসঙ্গত ভোটের ঠিক আগে গোটা রাজ্যের মানুষকে একই চিকিৎসা ব্যবস্থার আওতায় আনতে ‘স্বাস্থ্যসাথী’ কার্ড চালু করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যে প্রচারে এসে শাহ-মোদী জুটি ‘স্বাস্থ্যসাথী’ প্রকল্পকে ধাপ্পাবাজি বলে উল্লেখ করে ‘আয়ুষ্মান ভারত’-এর অধীনে বঙ্গবাসীকে আসতে বলেছিলেন। এমনকি বিজেপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী ইচ্ছে করেই তা চালু হতে দেননি। পরে আদালত নির্দেশ দেয় দ্রুত পশ্চিমবঙ্গে ‘আয়ুষ্মান ভারত’।
মুখ থুবড়ে পড়েছে মোদীর স্বপ্নের ‘আয়ুষ্মান ভারত’? তেমনই বলছে পরিসংখ্যান। তবে পরিসংখ্যান বলছে রাজ্য অতি দ্রুততার সাথে যে হারে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড বিলি করে সুবিধা দিতে শুরু করেছে তার ধারেকাছে ৩ বছরেও পৌঁছতে পারেনি কেন্দ্র। তবে কি বাস্তবায়নের অভাবেই কি মুখ থুবড়ে পড়ল স্বপ্নের প্রকল্প? সময় হলেই মিলবে তার উত্তর।



