আগের স্কুলেই চাকরি চান SSC-র যোগ্য শিক্ষকরা, Answer Key প্রকাশিত হওয়ার পরেই নয়া দাবি

নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় চাকরি হারানো যোগ্য প্রার্থীদের আর্জি—পরীক্ষায় সফল হলে আগের স্কুলেই ফিরতে চান তাঁরা

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

কলকাতা হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের রায়েই ২০১৬ সালের SSC শিক্ষক নিয়োগ বাতিল হয়েছিল। সেই সিদ্ধান্তে চাকরি হারান হাজারো শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষাকর্মী। তবে তাঁদের মধ্যে যাঁরা আদালতের চোখে “যোগ্য” ছিলেন, তাঁদের জন্য নতুন করে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ রাখে সুপ্রিম কোর্ট। এবার সেই যোগ্য প্রার্থীরাই চাইছেন, নতুন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে আগের স্কুলেই চাকরিতে ফেরার সুযোগ।

রায়ের পর আতঙ্ক থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ

২০২৪ সালের এপ্রিলে কলকাতা হাইকোর্ট নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের প্যানেল বাতিল করে। ৩ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্ট সেই রায়ই বহাল রাখে। মুহূর্তে চাকরি হারানোর ভয় ঘিরে ধরে হাজারো শিক্ষককে। রাজ্যজুড়ে শুরু হয় বিক্ষোভ।

পরিস্থিতি সামাল দিতে শীর্ষ আদালত অস্থায়ী স্বস্তি দেয়। মধ্যশিক্ষা পর্ষদের আবেদন মেনে যোগ্য প্রার্থীদের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কাজে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়। তবে শর্ত ছিল—নতুন নিয়োগ পরীক্ষায় বসতেই হবে

প্রথমে অনেকেই পরীক্ষায় বসতে অস্বীকার করলেও শেষ পর্যন্ত প্রায় সব চাকরিহারাই ৭ ও ১৪ সেপ্টেম্বরের পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। প্রায় ১৩ হাজারের বেশি শিক্ষক নতুন পরীক্ষায় বসেছেন। বাকিরা পুরনো চাকরিতে ফেরার আবেদন জমা দিয়েছেন।

আগের স্কুলেই চাকরি চান SSC-র যোগ্য শিক্ষকরা, Answer Key প্রকাশিত হওয়ার পরেই নয়া দাবি
আগের স্কুলেই চাকরি চান SSC-র যোগ্য শিক্ষকরা, Answer Key প্রকাশিত হওয়ার পরেই নয়া দাবি

নতুন আশার আলো

সম্প্রতি SSC নবম-দশমের মডেল উত্তরপত্র (Answer Key) প্রকাশ করেছে। এর পর থেকেই আশাবাদী হয়ে উঠেছেন চাকরি হারানো শিক্ষকরা। তাঁদের দাবি, ফ্রেশারদের সঙ্গে কঠিন প্রতিযোগিতা থাকলেও দীর্ঘ শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা থেকে পাওয়া অতিরিক্ত নম্বর তাঁদের বাড়তি সুবিধা দেবে। অনেকেই মনে করছেন, ইন্টারভিউয়ের ডাক নিশ্চিত।

এখন তাঁদের নতুন দাবি—পরীক্ষায় যোগ্য প্রমাণিত হলেও নতুন স্কুল নয়, আগের স্কুলেই চাকরিতে ফিরতে চান তাঁরা।

কেন আগের স্কুলেই ফিরতে চান যোগ্যরা?

চাকরিহারা শিক্ষকদের দাবি, দীর্ঘ সাত বছর ধরে একই স্কুলে পড়িয়েছেন তাঁরা। আশেপাশেই গড়ে উঠেছে সংসার। অনেকেই বাড়ি বা ফ্ল্যাট কিনেছেন, চলছে ইএমআই। সন্তানদের ভর্তি করেছেন কর্মস্থলের কাছের স্কুলেই। পরিবারে রয়েছে অসুস্থ বাবা-মা, শ্বশুর-শাশুড়ি। নতুন স্কুলে বদলি হলে ভেঙে পড়বে পুরো সংসার।

হাওড়ার এক শিক্ষিকা জানান—“বাড়ি থেকে ৩০০ কিলোমিটার দূরে চাকরির সুপারিশ এসেছিল। প্রশাসনিক বদলির মাধ্যমে এসেছি বর্তমান স্কুলে। সন্তান বিশেষ শারীরিক সমস্যায় ভুগছে। আবার দূরে পাঠালে সংসার ভেঙে যাবে।”

অন্যদিকে হুগলির এক শিক্ষিকা বলেন—“মায়ের ক্যান্সার। স্বামী-শাশুড়ির বয়সও অনেক হয়েছে। আমরা তো কোনো দুর্নীতি করিনি। পরীক্ষা দিয়ে যোগ্য প্রমাণ করছি। তাই আগের স্কুলেই চাকরি বজায় রাখা হোক।”

এসএসসি-র অবস্থান

বিকাশ ভবনের কর্তারা জানাচ্ছেন—এসএসসি বিধি অনুযায়ী র‌্যাঙ্ক অনুযায়ী কাউন্সেলিংয়ে স্কুল বাছাই করতে হবে। নির্দিষ্ট স্কুলে ফেরার সুযোগ দিতে গেলে বিধি বদলাতে হবে। নিয়োগ পরীক্ষার সময়সীমায় তা সম্ভব নয়।

তবে চাকরিহারা শিক্ষকরা পাল্টা যুক্তি দিচ্ছেন—যেমন প্রেসিডেন্সি কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হওয়ার সময় অধ্যাপকদের অপশন দেওয়া হয়েছিল, তেমন সুবিধা তাঁদেরও দেওয়া হোক।

দাবির জোর বাড়ছে

যোগ্য প্রার্থীরা বলছেন, তাঁরা অন্যায়ের শিকার। যাঁরা দুর্নীতিগ্রস্ত ছিলেন, তাঁদের বাদ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু যোগ্যদের কেন নতুন করে পরিবার ভাঙার পথে ঠেলে দেওয়া হবে?

একজন ইংরেজি শিক্ষিকা জানান—“চার বছরের সন্তান, নতুন ফ্ল্যাটে ইএমআই। অন্যত্র গেলে সব ভেঙে যাবে। যোগ্যতার ভিত্তিতে পরীক্ষা দিয়েই ফিরব। শুধু আগের স্কুলেই সুযোগ দেওয়া হোক।”

একই দাবি তুলেছেন হুগলির আরেকজন বিজ্ঞান শিক্ষকও—“SSC-র উচিত অপশন দেওয়া, যাতে যোগ্য চাকরিহারা শিক্ষকরা আগের স্কুলে ফেরার সুযোগ পান।”

SSC চাকরি নিয়োগ মামলার জটিলতায় ফেঁসে যাওয়া হাজারো যোগ্য শিক্ষক নতুন করে লড়াই শুরু করেছেন। তাঁদের দাবি স্পষ্ট—নতুন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও আগের স্কুলেই ফিরতে চান তাঁরা। এখন দেখার বিষয়, আদালত ও রাজ্য এই দাবি মেনে নেয় কি না।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত