SSC Scam নিয়ে নতুন করে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে প্রকাশিত SSC Tainted Candidate List-এ এবার উঠে এসেছে হুগলির খানাকুলের তৃণমূল নেত্রী সাহিনা সুলতানার নাম। নিয়োগ দুর্নীতির এই নতুন অধ্যায় বিরোধীদের হাতে বড় হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।
প্রভাবশালী নেত্রীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ
সাহিনা সুলতানা শুধুমাত্র সাধারণ তৃণমূল নেত্রী নন, তিনি তিনবারের জেলা পরিষদ সদস্যা। ২০১৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ছিলেন হুগলি জেলা পরিষদের শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ। অভিযোগ, এই দায়িত্বে থাকার সময়ই তিনি এসএসসি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষকতার চাকরি পান। প্রথমে বাঁকুড়ার একটি স্কুলে, পরে খানাকুলের রাজহাটি-বন্দর হাইস্কুলে যোগ দেন।


কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ ভিন্ন। তাঁদের দাবি, জেলা পরিষদের কাজে ব্যস্ত থাকায় সাহিনা সুলতানা স্কুলে পা-ই রাখতেন না। ফলে নামমাত্র চাকরির আড়ালে সুবিধা ভোগ করেছেন তিনি।
পরিবারের নামও তালিকায়
সাহিনা সুলতানার ভাই মইনুল হক খানাকুলের দাপুটে রাজনৈতিক নেতা হিসেবে পরিচিত। এবার প্রকাশিত দাগিদের তালিকায় উঠে এসেছে তাঁর স্ত্রী নমিতা আদকের নামও। এতে নিয়োগ দুর্নীতির শিকড় কত গভীর, সেই প্রশ্ন ফের সামনে আসছে।
বিরোধীদের তোপ
বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী থেকে শুরু করে জেলা স্তরের নেতানেত্রী— TMC নেতৃত্বের আশ্রয়েই নিয়োগ দুর্নীতির জাল বিস্তৃত হয়েছিল। শুভেন্দু অধিকারী ও সুকান্ত মজুমদার বারবার দাবি করেছেন, শাসকদলের নেতাদের ছত্রছায়ায় চাকরি বিক্রির এই কারবার চলেছে। সাহিনা সুলতানার নাম প্রকাশ্যে আসায় তাঁদের সুর আরও তীব্র হয়েছে।


রাজনীতিতে বাড়ছে চাপ
তৃণমূল যদিও বলছে, আদালতই চূড়ান্ত রায় দেবে। কিন্তু রাজনৈতিক মহলের মতে, হুগলির মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলায় প্রভাবশালী নেত্রীর নাম SSC Tainted List-এ ওঠা শাসকদলের জন্য বড় ধাক্কা।
সব মিলিয়ে, SSC Scam-এ সাহিনা সুলতানার নাম প্রকাশ্যে আসায় নিয়োগ দুর্নীতির মামলা নতুন মোড় নিয়েছে। এখন নজর আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপে।







