শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি: ৬ দিনের হেফাজতে জীবনকৃষ্ণ

বড়ঞার তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহার বিরুদ্ধে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে ৪৬ লক্ষ টাকার লেনদেনের অভিযোগ, ৬ দিনের ইডি হেফাজতে পাঠাল আদালত।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। বড়ঞার তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহা বাজার থেকে মোট ৪৬ লক্ষ টাকা তুলেছিলেন বলে দাবি তদন্তকারী সংস্থার। ইডির বক্তব্য, সেই টাকা ভাগ হয়ে গিয়েছে পরিবারের সদস্যদের অ্যাকাউন্টে—২৬ লক্ষ টাকার লেনদেন হয়েছে বিধায়কের স্ত্রীর খাতায় এবং ২০ লক্ষ টাকা গিয়েছে বাবার অ্যাকাউন্টে।

প্রায় ৬ ঘণ্টার দীর্ঘ জেরা শেষে সোমবার সকালেই গ্রেপ্তার হন জীবনকৃষ্ণ সাহা। এরপর সন্ধ্যায় তাঁকে তোলা হয় ব্যাঙ্কশাল আদালতে। সেখানে ইডি তাঁর ৬ দিনের হেফাজতের আবেদন জানায়। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করে তাঁকে হেফাজতে পাঠায়। যদিও এদিন বিধায়কের আইনজীবীরা জামিনের আবেদন জানাননি, তবে মামলার থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আর্জি জানান। আদালত সেই দাবি খারিজ করে দেয়।

আদালতে ইডির দাবি, টাকা লেনদেনের উৎস একটাই—জীবনকৃষ্ণ সাহা। তদন্তকারীরা জানান, বিধায়কের স্ত্রী, যিনি পেশায় শিক্ষিকা, তাঁর অ্যাকাউন্টে এত বিপুল অর্থ জমা হয়েছে কীভাবে, তা স্পষ্ট নয়। শুধু বেতনের টাকায় এই লেনদেন সম্ভব নয় বলে আদালতে প্রশ্ন তোলে ইডি। এই প্রসঙ্গে স্ত্রীকে জেরা করলে তিনি জানান, লেনদেনের বিষয়ে কিছুই জানেন না।

একইভাবে জীবনকৃষ্ণের বাবার অ্যাকাউন্টে ২০ লক্ষ টাকার অঙ্ক জমা হওয়ার বিষয়েও জেরা হয়। তদন্তকারীরা জানান, পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য অনুযায়ী এই সমস্ত অর্থ এসেছে জীবনকৃষ্ণ সাহার থেকেই। ফলে দুর্নীতির দায় সরাসরি তাঁর উপরই বর্তায় বলে দাবি ইডির।

তদন্তে উঠে আসা এই তথ্য আদালতে পেশ করে ইডি জানায়, শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় জীবনকৃষ্ণ সাহার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরিবারের একাধিক সদস্যের অ্যাকাউন্টে লেনদেনের সূত্র ধরেই তাঁকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হবে।

অন্যদিকে, আদালতে হাজির হয়ে বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহা জানান, তিনি নির্দোষ। তিনি এই মামলার সঙ্গে জড়িত নন এবং ভুলভাবে তাঁকে ফাঁসানো হচ্ছে। তবে আদালত তাঁর দাবি আমলে নেয়নি।

ফলে স্পষ্ট, শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডির তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে এখন জীবনকৃষ্ণ সাহা। আদালতের নির্দেশে আগামী ৬ দিন তাঁকে ইডি হেফাজতে রেখে আরও তথ্য সংগ্রহ করবে তদন্তকারী সংস্থা।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন