উচ্চ প্রাথমিকে নিয়োগের ক্ষেত্রে অনেকটাই জট কাটল। মঙ্গলবারই উচ্চ প্রাথমিকে ১৪ হাজারের বেশি শূন্যপদে নিয়োগের ক্ষেত্রে কলকাতা হাই কোর্টের রায়কেই বহাল রাখার নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট এবং বুধবারের মধ্যে মেধাতালিকা প্রকাশ করার নির্দেশ দেয় স্কুল সার্ভিস কমিশনকে। সেই অনুযায়ী আজ মেধাতালিকা প্রকাশ করল এসএসসি।
প্রসঙ্গত, এর আগেই উচ্চ প্রাথমিকে ১৪ হাজারের বেশি শূন্যপদে নিয়োগের নির্দেশ দেয় কলকাতা হাই কোর্ট। কিন্তু ওই নির্দেশ সংরক্ষণ নীতির বিরোধী, এরকম দাবি তুলে শীর্ষ আদালতে মামলা করেন রাজীব ব্রহ্ম সহ বেশ কয়েকজন চাকরিপ্রার্থী। যার ফলে নিয়োগ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়ের বেঞ্চ সাফ জানায়, নতুনদের আবেদন আর শোনা হবে না। হাই কোর্ট যা সিদ্ধান্ত নেবে সেটাই চূড়ান্ত। এবার মেধাতালিকাও প্রকাশ করে দিল এসএসসি।
সোমবার উচ্চ প্রাথমিকের ২০১৬ সালের মেধা তালিকা প্রকাশের বিজ্ঞপ্তি দেয় স্কুল সার্ভিস কমিশন। সেই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বুধবার অর্থাৎ ২৫ সেপ্টেম্বর প্রকাশ করা হবে মেধাতালিকা। দশ শতাংশ আসন সংরক্ষিত করা হবে অস্থায়ী শিক্ষকদের জন্য। বাকি পদে নিয়োগের মেধাতালিকা প্রকাশ করা হবে। সেই অনুযায়ীই আজ মেধাতালিকা প্রকাশ করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
২০১৫ সাল থেকে উচ্চ প্রাথমিকের নিয়োগ প্রক্রিয়া ঝুলে রয়েছে। হাই কোর্টের নির্দেশে বার বার এই নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত হয়ে গিয়েছে। ২০২০ সালে নিয়োগ প্রক্রিয়াটি বাতিল করে দিয়েছিল উচ্চ আদালত। তার পর ২০২৩ সালে প্যানেল প্রকাশ করার অনুমতি দিয়েছিল হাই কোর্ট। তখন ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছিল, প্যানেল প্রকাশ করা যেতে পারে, তবে কাউকে নিয়োগের সুপারিশ করতে পারবে না এসএসসি। এর পরে মামলাটি যায় নতুন ডিভিশন বেঞ্চে। গত ১৮ জুলাই বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চে এই সংক্রান্ত শুনানি শেষ হয়। ২৮ অগস্ট রায় ঘোষণা করা হয়।
উল্লেখ্য, কলকাতা হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গত ২৮ অগস্ট এসএসসিকে জানিয়েছিল, এক মাসের মধ্যে ১৪ হাজারের বেশি শূন্যপদে নিয়োগের জন্য নতুন করে মেধাতালিকা প্রকাশ করতে হবে। রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু তখন জানিয়েছিলেন, পুজোর আগেই নিয়োগ শুরু করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সোমবার মেধাতালিকা প্রকাশের বিজ্ঞপ্তি জারি করে এসএসসি। সেই আবহে সোমবার সকালে সল্টলেকের আচার্য ভবন ঘেরাও করেন চাকরিপ্রার্থীরা। যদিও প্রার্থীরা অনড়। তাঁদের দাবি, নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে দ্রুত।



