SSC OMR শিট প্রকাশ ও চিহ্নিত দাগিদের বেতন ফেরত, মামলা গ্রহণ করল সুপ্রিম কোর্ট

এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতিতে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য ঘিরে আদালত অবমাননার মামলা, চার সপ্তাহ পর শুনানি; রাজ্য, এসএসসি-সহ সবপক্ষকে নোটিশ সুপ্রিম কোর্টের

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতিতে আরও একধাপ এগোল আইনি প্রক্রিয়া। এবার OMR শিট প্রকাশ ও চিহ্নিত দাগি চাকরিপ্রাপ্তদের বেতন ফেরতের দাবিতে দায়ের হওয়া মামলা গ্রহণ করল সুপ্রিম কোর্ট। মূল মামলাকারী লক্ষ্মী টুংগার দায়ের করা আদালত অবমাননার সংক্রান্ত Special Leave Petition (SLP) গ্রহণ করেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত।

সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় কুমার ও বিচারপতি সতীশ চন্দ্র শর্মার বেঞ্চ রাজ্য সরকার, এসএসসি ও অন্যান্য পক্ষকে নোটিশ জারি করার নির্দেশ দিয়েছে। এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে চার সপ্তাহ পরে।

গত ৩ এপ্রিল, এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতিতে সুপ্রিম কোর্ট একটি ঐতিহাসিক রায় দেয়, যেখানে রাজ্যের প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর নিয়োগ বাতিল ঘোষণা করা হয়। সেই রায়ের পরদিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একটি সাংবাদিক বৈঠকে অংশ নেন।

SSC OMR শিট প্রকাশ ও চিহ্নিত দাগিদের বেতন ফেরত, মামলা গ্রহণ করল সুপ্রিম কোর্ট

SSC OMR শিট প্রকাশ ও চিহ্নিত দাগিদের বেতন ফেরত, মামলা গ্রহণ করল সুপ্রিম কোর্ট
SSC OMR শিট প্রকাশ ও চিহ্নিত দাগিদের বেতন ফেরত, মামলা গ্রহণ করল সুপ্রিম কোর্ট

অভিযোগ, ওই সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বিচারপতি ও রায় সম্পর্কে কিছু বিতর্কিত মন্তব্য করেন যা আদালত অবমাননার শামিল। এই বক্তব্য ঘিরেই গত ২৪ এপ্রিল আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করেন মামলাকারী।

এর আগে কলকাতা হাইকোর্ট এই মামলা খারিজ করে জানায়, এই সংক্রান্ত অভিযোগের বিচার করার একমাত্র এখতিয়ার রয়েছে সুপ্রিম কোর্টের। সেইমতো ফের সুপ্রিম কোর্টে SLP দায়ের করেন লক্ষ্মী টুংগা।

📄 মামলার মূল দাবি:

মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে যে,

  • এসএসসি নিয়োগে দুর্নীতি ধরা পড়া প্রার্থীদের OMR শিট প্রকাশ করতে হবে

  • এবং যাঁরা অবৈধভাবে চাকরি পেয়েছেন, তাঁদের এখন পর্যন্ত পাওয়া বেতন ফেরত আদায় করতে হবে।

এসব দাবির সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের প্রতিলিপি ও তার ইংরেজি অনুবাদ, যা সুপ্রিম কোর্টে ইতিমধ্যে জমা দিয়েছেন মামলাকারীর আইনজীবী আয়ুষ আনন্দ।

রাজনৈতিক মহলে এই মামলাকে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, একদিকে আদালতের নির্দেশ অমান্য ও অবমাননার অভিযোগ, অপরদিকে রাজ্য সরকারের অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এছাড়া প্রায় ২৬ হাজার চাকরি বাতিল হওয়া প্রার্থীর ভবিষ্যত নিয়েও তৈরি হয়েছে জটিলতা।

সুপ্রিম কোর্ট চার সপ্তাহ সময় দিয়েছে সব পক্ষকে জবাব জমা দিতে। এরপর মামলার শুনানি হবে।
যদি আদালত মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যকে “আদালত অবমাননা” হিসেবে গণ্য করে, তবে এটি হতে পারে একটি বড় আইনি ও রাজনৈতিক ধাক্কা রাজ্য সরকারের জন্য।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত