মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে রাস্তায় শুয়ে প্রতিবাদ চাকরিপ্রার্থীদের! হুলুস্থুল কালীঘাটে।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ কথা দিয়েও কথা রাখেন নি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে রাস্তায় শুয়ে প্রতিবাদ এসএসসি চাকরিপ্রার্থীদের! কার্যত হুলুস্থুল কালীঘাটে। চাকরিপ্রার্থীদের অভিযোগ, নবম-দশম, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষায় পাশ করেও মেলেনি চাকরি। রাজ্যে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলে কলকাতার বুকে অনশন-ধর্নায় বসেছিলেন বিভিন্ন জেলা থেকে আসা প্রায় ৪০০ জন হবু শিক্ষক। সেই অনশনের ২৮ দিনের মাথায় অনশন-কারীদের সাথে দেখা করতে এসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

আরও পড়ুনঃ শেষে বামপক্ষই সহায়ক BJP-র? নন্দীগ্রামে মমতার বিরুদ্ধে প্রার্থী হচ্ছেন শুভেন্দু ।

আজ মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া প্রতিশ্রুতি না কার্যকর হওয়ার অভিযোগে হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে কয়েকশো চাকরিপ্রার্থী বিক্ষোভ শুরু করেন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে। রাস্তা অবরোধ করেন বিক্ষোভকারীরা, বিঘ্নিত হয় যানচলাচল। বিক্ষোভকারীদের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের অনশন চলাকালীন চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, কিন্তু এখনও তা কার্যকর হয়নি। আন্দোলনকারীদের দাবি, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা না করে তাঁরা ফিরবেন না। পুলিশ প্রশাসনের কর্তা-ব্যক্তিদের হাজার অনুরোধেও অনড় মনোভাব নিয়ে মমতার বাড়ির সামনে ধর্নায় বসে থাকেন এসএসসি চাকরিপ্রার্থীরা।

উল্লেখ্য, গত লোকসভা নির্বাচনে কলকাতা প্রেস ক্লাবের সামনে চাকরিপ্রার্থীরা অনশন করছিলেন। অনশনের ২৬ দিনের মাথায় হবু শিক্ষকদের সমস্যা নিয়ে রিপোর্ট তলব করে মুখ্যমন্ত্রীর দফতর। অনশনের ২৮ দিনের মাথায় সরাসরি হবু শিক্ষকদের সাথে দেখা করে তাঁদের আশ্বস্ত করেছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী সেদিন বলেছিলেন, “আমাকে কাজ করার সুযোগ দিন। আইনের পথে কীভাবে ব্যবস্থা নেওয়া যায়, সেটা দেখছি।” পাশাপাশি পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, “কমিটিতে পাঁচজন ছাত্রছাত্রীকে রাখুন। এর মধ্যে দু’জন ছাত্রী রাখতে হবে। নির্দিষ্ট সময়ে তাদের সঙ্গে বৈঠক করতে হবে।”

২০১৯ সালে সেই ধর্ণা – অনশনের ঘটনার পর প্রায় ২২ মাস অতিবাহিত। মুখ্যমন্ত্রী সেদিনের মঞ্চে চাকরিপ্রার্থীদের আশার আলো দেখিয়ে শিক্ষামন্ত্রীকে নির্দেশ দিলেও আজও হয়নি কোন সুরাহা। চাকরিপ্রার্থীদের বক্তব্য, “দিদি আমাদের অনশন মঞ্চে গিয়ে যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে ছিলেন সেটা পালিত হলে আমরা বেঁচে যাই। মানসিক অবসাদে ভুগতে শুরু করেছি আমরা। মুখ্যমন্ত্রী চাইলে সবই সম্ভব।” তাঁরা আরও বলেন, “আমাদের অনশন মঞ্চে গিয়ে দিদি বলেছিলেন, আমাদের জন্যে কিছু একটা ব্যবস্থা করবেন। দরকার হলে নিয়ম পরিবর্তন করেও আমাদের জন্য একটা কিছু ব্যবস্থা করবেন কিন্তু আজ ২২ মাস অতিবাহিত হলেও আমাদের সুরাহা হয়নি।

নিজেদের দাবি প্রসঙ্গে চাকরিপ্রার্থীদের বক্তব্য, আমাদের দাবি ছিল আপডেট ভেকেন্সি এবং রেশিও মেনশন করে নিয়োগ করা। অনশনের ২৮ দিনের মাথায় দিদি আমাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন কিছু একটা ব্যবস্থা করবেন। কিন্তু এখনো পর্যন্ত আমরা বেকার থেকে গেলাম। প্রশ্ন উঠছে তাহলে কি মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ পাওয়ার পরেও কোন উদ্যোগ নেননি শিক্ষামন্ত্রী?

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত