স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC)-এর ৩৬,০০০ নিয়োগ মামলায় ফের নতুন নির্দেশ জারি করল কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি স্মিতা দাস দে–র একক বেঞ্চে আজ স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে — অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ১০ নম্বর পাওয়ার যোগ্য কারা, তা নিয়ে SSC-কে বিস্তারিত হলফনামা জমা দিতে হবে ৩১ অক্টোবরের মধ্যে।
একইসঙ্গে ডিস্ট্রিক্ট ইন্সপেক্টর (DI)-দের কাছ থেকেও চাওয়া হয়েছে রিপোর্ট। এই মামলার পরবর্তী শুনানি নির্ধারিত হয়েছে ৪ নভেম্বর।


অভিজ্ঞতার নম্বর নিয়ে প্রশ্ন, কাদের সুযোগ?
বিচারপতি দে–র নির্দেশে বলা হয়েছে, অভিজ্ঞতা নম্বরের আওতায় আসবেন কারা — চুক্তিভিত্তিক শিক্ষক, পার্শ্ব শিক্ষক না অস্থায়ী শিক্ষক — সেই বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে হবে কমিশনকে।
Substantive Post, অর্থাৎ প্রকৃত শূন্যপদে যাঁরা কাজ করেছেন, তাঁদের নাম আলাদা করে তালিকাভুক্ত করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কারণ, বহু শিক্ষক দাবি করেছেন তাঁরা দীর্ঘদিন অস্থায়ীভাবে পড়াচ্ছেন, অথচ তাঁদের অভিজ্ঞতা হিসেবে নম্বর দেওয়া হয়নি।
আদালতে উত্তপ্ত সওয়াল কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের
এসএসসি-র তরফে আদালতে সওয়াল করেন আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)। তিনি বলেন, “চাকরির জন্য রাজ্যে ৫ লক্ষের বেশি প্রার্থী অপেক্ষায়। এসএসসি-র চোখে সকলেই সমান। শুধুমাত্র মামলাকারীদের জন্য বিশেষ সুবিধা দেওয়া যাবে না।”


তিনি আরও জানান, “অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ১০ নম্বর পাওয়ার যোগ্যদের তালিকা SSC-র কাছে রয়েছে। যাঁরা প্রকৃত Substantive Post-এ ছিলেন, তাঁরাই সেই নম্বরের যোগ্য। মামলাকারীরা অস্থায়ী পদে ছিলেন, তাই তাঁদের বিবেচনা করা হয়নি।”
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেন— ‘যদি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করা হয়, আমরা এই লড়াই সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত নিয়ে যাব।’
মামলাকারীদের যুক্তি: ‘আমরা ১২ বছর ধরে শিক্ষকতা করছি’
মামলাকারীদের আইনজীবীরা পাল্টা সওয়ালে বলেন, “আমাদের মক্কেলরা ১২ বছরেরও বেশি সময় ধরে স্কুলে পড়াচ্ছেন। তাঁরা অভিজ্ঞ, প্রকৃত শূন্যপদে নিয়োগ পেয়েছেন। তাই ১০ নম্বর পাওয়ার যোগ্য তাঁরা।”
তাঁদের দাবি, যদি আদালত তাঁদের অভিজ্ঞতাকে স্বীকৃতি না দেয়, তাহলে তাঁরা ইন্টারভিউ লিস্ট থেকেই ছিটকে যাবেন।
SSC-র হলফনামা ও রিপোর্টের নির্দেশ
হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, SSC ও জেলা শিক্ষা দফতরকে (DI) ৩১ অক্টোবরের মধ্যে হলফনামা ও রিপোর্ট জমা দিতে হবে। ওই রিপোর্টে স্পষ্ট উল্লেখ করতে হবে—
কারা প্রকৃত শূন্যপদে কাজ করছেন, কারা চুক্তিভিত্তিক বা পার্শ্ব শিক্ষক হিসেবে যুক্ত।
সব নথি আদালতে জমা পড়ার পরই ৪ নভেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।
নিয়োগের ভবিষ্যৎ কোন পথে?
এই মামলার ফলাফল রাজ্যের শিক্ষা নিয়োগের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে। কারণ, ৩৬,০০০ নিয়োগ প্রক্রিয়া (SSC Recruitment 36000 Case) এখন পুরোপুরি আদালতের পর্যবেক্ষণে।
যদি অভিজ্ঞতার নম্বর প্রদান পদ্ধতি নিয়ে আদালত নতুন নির্দেশ দেয়, তাহলে তা বহু প্রার্থী ও নিয়োগ প্রক্রিয়ার গতিপথ বদলে দিতে পারে।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় যেমন ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই লড়াই কেবল আদালতের নয়, এখন এটি ন্যায় ও প্রাপ্যতার প্রশ্ন।







