নজরবন্দি ব্যুরোঃ বাঁকুড়ায় খোদ দিলীপ, এদিকে জয়ের পর একগুচ্ছ প্ল্যান নিয়ে আজ যখন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথম বার দলীয় বৈঠক করবেন তৃণমূল ভবনে, ঠিক সেদিনই হারের চুলচেরা বিশ্লেষণ করে সাংগঠনিক দিক দৃঢ় করতে বাঁকুড়ায় আসার কথা দিলীপ ঘোষের। পরিকল্পনা মত বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুরে বিধায়ক সাংসদদের নিয়ে বৈঠক করবেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ তালিকায় RSS প্রধান! ট্যুইটারে ব্লু টিক গায়েব মোহন ভাগবতের
তবে তাতে উপস্থিত থাকবেন না বলে ইতিমধ্যেই সাফ জানিয়ে দিয়েছেন সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে গিয়ে ২০১৯ এর লোকসভা নির্বাচনে বিষ্ণুপুর লোকসভা থেকে ভালো ব্যবধানে জিতেছিলেন সৌমিত্র। তবে তাঁর সেই জয়ের মূল কান্ডারী এই মুহুর্তে তৃণমূলের নেত্রী। লোকসভা নির্বাচনের আগে বেশ কয়েকমাস নিজের জেলায় ঢুকতে পারেন নি বিজেপির প্রার্থী সৌমিত্র। তাঁর স্ত্রী একাই লড়ে জয় এনেছিলেন স্বামীর।
তবে ছন্দপতন ঘটেছে মাসখানেক আগেই। দলবদলের ভরা মরশুমে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন সুজাতা খাঁ, শাসক দলের হয়ে ভোটও লড়েছেন এই নির্বাচনে। অন্যদিকে বেশ কয়েকমাস ধরেই একপ্রকার চুপ আছেন সৌমিত্র। হেস্টিংসের আগের বৈঠকেও দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন ছোট খাটো বিষয়ে। জানিয়েছিলেন সময়সা সমাধানে ২০০ কিলোমিটার দূরের জেলায় যেতে পারবেন না তিনি। জেলার দায়িত্বে যিনি, সামলাবেন তিনিই।
তবে আজ যখন খোদ দিলীপ ঘোষ তাঁর জেলায় তাতেও কিসের আপত্তি সৌমিত্র বাবুর? আগেই জানান হয়েছিল আজ বিকেলে বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরে দলীয় বৈঠক করবেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ।তাহলে বিষ্ণুপুর লোকসভার সাংসদ নিজেই কেনো গরহাজির থাকার কথা জানাচ্ছেন। সৌমিত্র বাবুর মতে তার একটাই কারণ, লকডাউন। উলটে যে গ্রুপে ম্যাসেজ ঢুকেছিল টা থেকেই লেফট করে গিয়েছেন তিনি।
বাঁকুড়ায় খোদ দিলীপ, সে বিষয়ে সৌমিত্র খাঁ জানিয়েছেন, দিলীপ বাবুর আগমন বার্তা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল তিনি, তবে রাজ্য সরকারের লকডাউনকে মান্যতা দিতেই এই অনুপস্তিতি তাঁর। সৌমিত্র খাঁর মতে নিজের এলাকাতেও এই সময়ের মধ্যে কোনও মিটিং-মিছিল আমি করিনি। বাড়িতেই থেকেছি। ১৫ তারিখ পর্যন্ত এই নিয়ম মানব। আর স্বাভাবিক ভাবেও বেশ কয়েকদিন ধরেই তাঁর চুপ থাকার পর আজকের অনুপস্থিতি নিয়ে উঠছে প্রশ্ন, তবে কি তিনিও এবার পদ্মবনের মায়া কাটিয়ে ঘাসফুল শিবিরে ফিরছেন? যদিও এসব জল্পনা উড়িয়েছেন তিনি নিজেই। তবে ওয়াকিবহাল মহলের মতে তাঁর জেলাতেই বিজেপির রাজ্য সভাপতির বৈঠক, আর সেখানে রাজ্য সরকারের লকডাউনকে হাতিয়ার করে সৌমিত্রর অনুপস্থিতি আরও জল্পনা উস্কে দিচ্ছে।



