হাইকোর্টে সৌমেন্দু, অপসারণের কারণ নিয়ে শাসকদলের বিরূদ্ধে মামলা

বিজ্ঞাপন
নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরো: কাঁথি পুরসভার প্রশাসক পদ থেকে তাঁর অপসারণের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করলেন সৌম্যেন্দু অধিকারী। আগামী ৪ জানুয়ারি ওই মামলার শুনানি হতে পারে। বুধবারেই ওই মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে খবর। মূলত সিদ্ধান্ত প্রয়োগের পদ্ধতিগত বিষয়টি নিয়েই মামলাটি করা হয়েছে। তবে এই মামলার অন্য ‘তাৎপর্য’ও রয়েছে। অধিকারী পরিবারের চার ভাইয়ের মধ্যে বড় কৃষ্ণেন্দু। তিনি ব্যবসায়ী । বাকি সকলেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।  তবে এঁদের মধ্যে আচমকাই বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী । তাঁর পরের ভাই দিব্যেন্দু তমলুকের তৃণমূল সাংসদ। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েও তিনি প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, তাঁর ভাই সৌম্যেন্দুকে পুর প্রশাসকের পদ থেকে সরানোর সিদ্ধান্ত ‘দুর্ভাগ্যজনক’। অর্থাৎ, পুরো ঘটনাপ্রবাহে অধিকারী পরিবারের থেকে তৃণমূলের দূরত্ব ক্রমশই বাড়ছে। তারওপর রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে মামলা ঠোকায়, দুরত্ব আরও বাড়ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ ফের CBI-এর জালে রাঘববোয়াল, কয়লা-গরু পাচারকাণ্ডে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতার বাড়িতে হানা

হাইকোর্টে সৌমেন্দু, এমতাবস্থায় গতকাল বিজেপি সাংসদের সঙ্গে দেখা করেছেন শুভেন্দুর বাবা শিশির অধিকারী। যদিও এটা ‘সৌজন্য সাক্ষাৎকার’ বলে দাবি শিশিরের। এদিকে জল্পনা চলছে, শুক্রবার বছরের প্রথমদিনেই সৌম্যেন্দু বিজেপি-তে যোগ দিতে পারেন। তবে এই খবরের কোনও আনুষ্ঠানিক সত্যতা মেলেনি।

হাইকোর্টে সৌমেন্দু, প্রসঙ্গত, কাঁথি পুরসভার প্রশাসক পদ থেকে সৌম্যেন্দুর অপসারণের পর তাঁর ‘অপরাধ’ জানতে চেয়ে এবং ‘ন্যায়বিচার’ প্রার্থনা করে ইতিমধ্যেই মমতাকে চিঠি লেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দিব্যেন্দু। যা থেকে স্পষ্ট যে, রাজ্য পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ (ববি) হাকিমের সাক্ষরিত ওই নির্দেশ অধিকারী পরিবার একেবারেই মানছেন না। সৌম্যেন্দুর মামলা করার সিদ্ধান্ত সেই অনড় মনোভাবকেই আরও একধাপ এগিয়ে দিল। মামলা যে হয়েছে, তা অধিকারী পরিবার সূত্রেই বৃহস্পতিবার জানা গিয়েছিল। সেই খবর আরও স্পষ্ট করে এদিন জানিয়েছেন আইনজীবী তথা সিপিএমের রাজ্যসভা সাংসদ বিকাশ ভট্টাচার্য। একটি বহুল প্রচারিত সংবাদমাধ্যমকে বিকাশ ভট্টাচার্য জানান, ‘‘মামলা একটা হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। কোনও পুর প্রশাসককে তাঁর পদ থেকে সরকারি নির্দেশে সরানো হতেই পারে। কিন্তু তার পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা যায়। বিশেষত, যদি সেই সিদ্ধান্তের মধ্যে অন্য কোনও কারণ স্পষ্ট পরিলক্ষিত হয়।’’ বিকাশবাবু জানান, ৪ জানুয়ারি ওই মামলার শুনানি হতে পারে।

তবে এর মধ্যে সৌম্যেন্দু বিজেপি-তে যোগ দিয়ে দিলে আর কোনও জল্পনারই অবকাশ থাকবে না। উল্টে তখন দেখতে হবে দিব্যেন্দু কী করেন। অথবা কী করেন অধিকারী পরিবারের কর্তা, কাঁথির তৃণমূল সাংসদ শিশির অধিকারী। জেলা তৃণমূল সূত্রের অবশ্য খবর, শিশির-দিব্যেন্দু কেউই এখন দল ছাড়বেন না। তাঁরা তৃণমূলেই থাকবেন এবং প্রকাশ্যে তৃণমূল এবং দলনেত্রী মমতার প্রতি ‘আনুগত্য’ দেখিয়ে যাবেন। অধিকারী পরিবারের ঘনিষ্ঠ এক নেতার কথায়, ‘‘দলবদল তো হয় ভোটের আগে। কলকাতা-সহ রাজ্যের অন্যান্য পুরসভায় ভোটের সময় হয়ে গিয়েছে। ফলে সৌম্যেন্দু দলবদল করলেও পরিস্থিতির কোনও পরিবর্তন হবে না। কিন্তু শিশিরবাবু এবং দিব্যেন্দুর সাংসদপদের মেয়াদ তো ২০২৪ সাল পর্যন্ত রয়েছে। তাঁরা কেন দল ছাড়তে যাবেন! তৃণমূল চাইলে তাঁদের সাসপেন্ড বা বহিষ্কার করতে পারে। কিন্তু তাতে তো তাঁদের সাংসদপদ খারিজ হবে না!’’

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর