টাকা আছে, কিন্তু খুচরো নেই—এই সমস্যায় প্রতিদিনই নাকাল হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। দোকানে ৫০ বা ১০০ টাকার খুচরো দরকার, অথচ এটিএম থেকে বেরোচ্ছে শুধু ৫০০ টাকার নোট। UPI ও ডিজিটাল পেমেন্টের রমরমার মধ্যেও নগদ লেনদেনের বাস্তবতা বদলায়নি। এই দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর করতে এ বার ছোট মূল্যমানের নোটের জন্য বিশেষ ATM চালুর কথা ভাবছে কেন্দ্রীয় সরকার।
ভারত আজ বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি এবং ডিজিটাল পেমেন্টে প্রথম সারিতে থাকলেও, দৈনন্দিন জীবনে নগদ লেনদেন এখনও অপরিহার্য। বহু জায়গায় UPI গ্রহণ করা হয় না, আবার বহু নাগরিক এখনও ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থায় পুরোপুরি অভ্যস্ত নন। ফলে ১০, ২০ বা ৫০ টাকার নোটের চাহিদা রয়েই গিয়েছে। কিন্তু বাস্তবে সেই নোটই এখন সবচেয়ে দুর্লভ।


এই পরিস্থিতির সমাধানে যে পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে, তাতে Hybrid ATM চালুর কথা ভাবা হচ্ছে। এই এটিএম থেকে ১০, ২০ ও ৫০ টাকার নোট তোলা যাবে। পাশাপাশি আর একটি গুরুত্বপূর্ণ ভাবনা রয়েছে—বড় নোট ভেঙে ছোট নোটে খুচরো পাওয়ার সুবিধা। অর্থাৎ ৫০০ টাকার নোট ঢুকিয়ে সরাসরি ছোট নোট বের করে নেওয়ার সুযোগ থাকতে পারে।
সূত্রের খবর, এই ধরনের এটিএম বসানোর জন্য বেছে নেওয়া হবে বাণিজ্যিক এলাকা, বাজার, হাসপাতাল, বাসস্ট্যান্ড ও রেলস্টেশনের মতো ভিড়পূর্ণ জায়গা, যেখানে নগদ লেনদেনের চাপ বেশি। বিশেষ করে কলকাতা-র মতো শহরে ১০ টাকার নোটের তীব্র সংকটের কথা মাথায় রেখেই এই উদ্যোগ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এই পরিকল্পনার বাস্তবতা যাচাই করতে ইতিমধ্যেই মুম্বই-তে একটি পাইলট প্রজেক্ট চালু হয়েছে। সেখানে এই বিশেষ এটিএম কতটা কার্যকর হচ্ছে, খুচরোর চাহিদা কতটা মেটানো যাচ্ছে—সেই সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরীক্ষামূলক প্রকল্প সফল হলে ধাপে ধাপে সারা দেশে এই ব্যবস্থা চালু হতে পারে।


তবে প্রশ্নও কম নয়। যখন ভারত সরকার ও রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া ক্রমাগত ডিজিটাইজ়েশন বাড়ানোর উপর জোর দিচ্ছে, তখন ছোট নোটের এটিএম কতটা দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। আরও বড় প্রশ্ন জোগান নিয়ে। বর্তমানে অধিকাংশ এটিএম-এ শুধুই ৫০০ টাকার নোট রাখা হয়। বাজারে ঘোরাফেরা করা ১০ ও ২০ টাকার নোটের বড় অংশই ছেঁড়া বা জীর্ণ অবস্থায় থাকে, যা অনেক দোকানদার নিতে চান না।
যদিও সাম্প্রতিক সময়ে ১০ ও ২০ টাকার কয়েনের ব্যবহার বেড়েছে, তবু ছোট নোটের চাহিদা এখনও পুরোপুরি মেটেনি। ফলে নোটের সরবরাহ বাড়ানো না গেলে শুধু এটিএম বসালেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে কি না, তা নিয়েই সাধারণ মানুষের মনে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন।
সব মিলিয়ে, খুচরোর সমস্যায় নতুন ATM এক বড় স্বস্তি দিতে পারে ঠিকই, তবে তার সাফল্য নির্ভর করবে নোটের পর্যাপ্ত জোগান, রক্ষণাবেক্ষণ ও বাস্তব প্রয়োগের উপর।







