নজরবন্দি ব্যুরোঃ নিয়োগ দুর্নীতি সংক্রান্ত সমস্ত মামলা কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের এজলাস থেকে সরানোর নির্দেশ দিলেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরেও চাকরি প্রার্থীদের প্রশ্ন, আমাদের নিয়োগপত্র হাতে আসবে কবে? কেন সরকার চাকরি প্রার্থীদের নিয়ে কোনও সদর্থক ভূমিকা নিচ্ছে না?
আরও পড়ুনঃ Abhishek Banerjee: সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তকে স্বাগত, উত্তরবঙ্গ থেকে কী বললেন অভিষেক?


আন্দোলনরত চাকরি প্রার্থীদের তরফে ছাত্র যুব অধিকার মঞ্চে সুদীপ মণ্ডল বলেন, বিচারব্যবস্থা অনুয়ায়ী এই ধরনের জটিলতর সমস্যা। তার জন্য বিচারব্যবস্থা নিশ্চয়ই তাঁদের মতো করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এবিষয়ে আমাদের কোনও মন্তব্য নেই। আমাদের মন্তব্য হচ্ছে, বিচারপ্রক্রিয়া এত দীর্ঘমেয়াদী হচ্ছে, বৈধ চাকরি প্রার্থীদের চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য ন্যায্য সময় অবক্ষয় হয়ে যাচ্ছে। যারা বৈধ, তাঁদের রাজ্য সরকার আইনি জতিলতার কারণ দেখিয়ে চাকরি দিচ্ছে না। সেদিক থেকে আমরা কি পেলাম? আমাদের নিয়োগপত্র হাতে আসবে কবে?
চাকরি প্রার্থীদের বক্তব্য, নবম -দ্বাদশ স্তরে নিয়োগ না পাওয়া প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার বৈধ চাকরি প্রার্থীদের রাজ্য সরকার আইনের জটিলতার কারণ দেখিয়ে এখনও পর্যন্ত নিয়োগ করেনি। সেই সকল বৈধ চাকরি প্রার্থীগণ কলকাতার গান্ধীমূর্তির পাদদেশে ৭৭৫ দিন ধরে ধর্ণায় বসে রয়েছেন। প্রখর রোদের পাশাপাশি ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে জীবন বাজি রেখে ন্যায্য চাকরি ফিরিয়ে আনতে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন ধর্ণারত চাকরি থেকে বঞ্চিত হবু শিক্ষক-শিক্ষিকা পদপ্রার্থীগণ।

যুব ছাত্র অধিকার মঞ্চের স্টেট কো-অর্ডিনেটর সুদীপ মন্ডল জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী বঞ্চিত চাকরি প্রার্থীদের পাশে দাঁড়ান। কালবিলম্ব না করে নবম -দ্বাদশের সকল বৈধ এবং যোগ্য চাকরি প্রার্থীদের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া ব্যবস্হা করুন। আমরা ধর্ণা মঞ্চে ভীষণ কষ্টে রয়েছি। আমরা নিয়োগপত্র হাতে নিয়ে হাসি মুখে বাড়ি ফিরতে চাই। রাজ্যের মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আমাদের প্রতি ন্যায় বিচার করুন।


শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির নির্দেশে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের বেঞ্চ থেকে সমস্ত মামলা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি। চাকরি প্রার্থীদের বক্তব্য, তাহলে নতুন ভাবে উক্ত মামলা গুলি হেয়ারিং করতে দীর্ঘ সময় লাগবে। কবে মামলার সমাপ্তি হবে? কেউ জানে না। এমনকি কয়েক বছর কেটে যেতে পারে। আর ততদিন কি আইনের জটিলতা দেখিয়ে বৈধ সাড়ে পাঁচ হাজার মেধাতালিকায় ভুক্ত চাকরি প্রার্থীদের নিয়োগপত্র না দিয়ে আটকে রাখবে রাজ্য সরকার?
বিভিন্ন শিক্ষাবিদ, অধ্যাপক, বুদ্ধিজীবী, সমাজসেবক, বিশেষজ্ঞ মহল সহ সমাজের বিভিন্ন শুভ বুদ্ধি সম্পন্ন জনগণের। বৈধ চাকরি প্রার্থীদের নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনরকম আইনের জটিলতার সমস্যা নেই। ওরা তো বৈধ। অবৈধ চাকরি প্রার্থীদের বাঁচাতে সরকার মোটা অঙ্কের টাকা খরচ করে আইনজীবী মোতায়েন করে সরকারি অনুকূলে মামলার রায় ঘুরানোর সূচনা করেছে। কিন্তু দুর্নীতির কারণে চাকরি থেকে বঞ্চিত সকল যোগ্য এবং বৈধ চাকরি প্রার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে সরকার কেন তাদের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দিচ্ছেন না ? প্রশ্ন বিশেষজ্ঞ মহলের।
আমাদের নিয়োগপত্র হাতে আসবে কবে? প্রশ্ন অপেক্ষারত চাকরি প্রার্থীদের

চাকরি প্রার্থীদের প্রশ্ন, গান্ধীমূর্তির পাদদেশে ধর্ণারত চাকরি প্রার্থীদের মুখ পানে সরকারি তরফ থেকে ফিরে তাকানো হোক। কোনো রকম অজুহাত না দেখিয়ে বৈধ চাকরি প্রার্থীদের অবিলম্বে চাকরিতে নিয়োগ করুন। মুখ্যমন্ত্রী নিজে হস্তক্ষেপ করে বৈধ চাকরি প্রার্থীদের হাতে কবে নিয়োগপত্র তুলে দিবে হবে সেদিকে তাকিয়ে সারা বাংলার জনগণ। আদর্শ মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আগে ধর্ণারত বৈধ চাকরি প্রার্থীদের বাঁচান, দীর্ঘদিন ধর্ণায় ওরা। ওদের পরিবারগুলো খুবই কষ্টে রয়েছে।







