নজরবন্দি ব্যুরোঃ মমতা আর তৃণমূল কে ভরসা করি, দলেই আছি জানালেন শিশির-দিব্যেন্দু। দল না ছাড়লেও মন্ত্রিত্ব থেকে ইস্তফা দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তবে শুভেন্দুর মন্ত্রিত্ব থেকে ইস্তফা দেওয়া মানেই যে দল ছাড়া নয়, তা সাফ জানালেন তাঁর বাবা অর্থাৎ তৃণমূলের মেদিনীপুর জেলা সভাপতি শিশির অধিকারী। তিনি জানান, “ বহুদিন ধরেই মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সঙ্গে দল করছি। সুতরাং আমার মমতা ও তৃণমূলের উপর সম্পূর্ণ বিশ্বাস আছে।”
আরও পড়ুনঃ শুভেন্দু-র ইস্তফা গ্রহন করলেন মুখ্যমন্ত্রী, গুরুত্ব বাড়তে চলেছে ফিরহাদের।


আজ দুপুর ১টা ৫ মিনিটে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ইস্তফাপত্র পাঠান শুভেন্দু। এবং রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়-এর কাছেও তার প্রতলিপি পাঠানো হয়। রাজ্যপাল সেটি গ্রহণও করেন। এনিয়ে তৃণমূলের তরফে সৌগত রায় বলেন, ”এখনও বিধায়ক পদ থেকে পদত্যাগ করেননি উনি। দলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকেও পদত্যাগ করেননি। যত ক্ষণ বিধায়ক আছেন, তত ক্ষণ দলের সদস্য উনি। মন্ত্রিত্ব ছাড়া একান্তই ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত ওঁর। আমি এতে দুঃখিত। ওঁর সঙ্গে কথা বলে মনে হয়েছে, দল ছাড়বেন না। আমি এখনও আশাবাদী। যত ক্ষণ দলে আছেন, আমি আশা করব এবং চেষ্টা চালিয়ে যাব ওঁকে দলে রাখার।”
২১এর নির্বাচনের আগে তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতার মন্ত্রীত্ব থেকে ইস্তফা দেওয়ার সিদ্ধান্ত দলকে অনেকটাই নড়বড় করে তুলেছে। ইস্তফা দেওয়ার পর শুভেন্দু জানিয়েছেন, “পদের মোহ আমার নেই। আমি জনগণের মধ্যেই থাকতে ভালোবাসি। চাইলে আমি সব পদ ছেড়ে চলে যাব।” গত কয়েকদিন ধরে ঘনিষ্ঠ মহলে এমনটাই জানিয়ে আসছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। অবশেষে সমস্ত পদ ছেড়ে দিলেন তিনি। মন্ত্রীত্ব থেকে চেয়ারম্যান সমস্ত পদ ছাড়লেন নন্দীগ্রামের বিধায়ক। এখন তিনি শুধুমাত্র সাধারণ বিধায়ক হিসাবেই থাকবেন।
এদিকে ইস্তফা দেওয়া প্রসঙ্গে কৈলাস বিজয়বর্গীয় বলেন, ”শুধু রাজ্যবাসীই নন, তৃণমূলের উপর বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়েছেন দলের নেতারাও।” সামনেই একুশের বিধানসভা। জল্পনাকে সত্যি করে রাজ্য মন্ত্রী সভায় ইস্তফা দিলেন নন্দীগ্রামের বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী। মমতা মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করলেন তিনি। ছাড়লেন পরিবহন ও সেচ দফতরের দায়িত্ব । মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন শুভেন্দু। চিঠিতে এতদিন রাজ্যবাসীর সেবা করার জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন নন্দীগ্রামের বিধায়ক। তবে, আপাতত সাধারণ বিধায়ক পদ হিসাবেই থাকবেন তিনি।


এদিকে শুভেন্দুর ইস্তফাপত্র গ্রহণ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। শীর্ষ নেতাদের জরুরি বৈঠকে ডেকেছেন তিনি। বিকেল সাড়ে ৫টায় দলের শীর্ষ নেতাদের নিজের বাড়িতে জরুরি বৈঠকে ডেকেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ওই বৈঠকে থাকবেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়, সুব্রত বক্সি ও ফিরহাদ হাকিমরা।







