রাজ্যের ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR) ঘিরে নতুন বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এল এক অপ্রত্যাশিত পরিসংখ্যান—বাদ পড়া ভোটারদের বড় অংশই হিন্দু। নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, মোট ৯১ লক্ষ নাম বাদ পড়ার মধ্যে ৬৩ শতাংশের বেশি হিন্দু ভোটার, যেখানে মুসলিম ভোটারের হার প্রায় ৩৪ শতাংশ। এই তথ্য সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতোর।
চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর প্রায় ৬০ লক্ষ নাম যাচাইয়ের আওতায় ছিল। বিচারপতিদের ট্রাইব্যুনালের পর্যবেক্ষণে শেষমেশ প্রায় ৩২ লক্ষ ভোটারকে বৈধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, আর বাদ পড়েন প্রায় ২৭ লক্ষ। এই বাদ পড়া তালিকাকে কেন্দ্র করেই ধর্মভিত্তিক বিশ্লেষণ সামনে এসেছে।
প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায় ৫৮ লক্ষ নাম বাদ পড়েছিল, যার মধ্যে প্রায় ৪৪ লক্ষই ছিল হিন্দু ভোটার এবং ১৩ লক্ষের কিছু বেশি মুসলিম। পরবর্তী ধাপের তালিকাতেও একই প্রবণতা দেখা গিয়েছে—হিন্দু ভোটারের নাম বাদ পড়ার হার তুলনামূলকভাবে বেশি।
ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের তথ্য এই প্রবণতাকে আরও স্পষ্ট করে। এখানে মোট ভোটার ছিল ৪৫ লক্ষের বেশি। এর মধ্যে বাদ পড়েছে প্রায় ৫০ হাজার ৯৮৭ জনের নাম। তাঁদের মধ্যে হিন্দু ভোটার ৩৭ হাজার ২২৭, আর মুসলিম মাত্র ১২ হাজার। মৃত বা স্থানান্তরিত ভোটারের ক্ষেত্রেও একই চিত্র—৪৪ হাজার ৭৭০ জনের মধ্যে প্রায় ৩২ হাজার ৮৭১ জন হিন্দু এবং ১০ হাজার ৪৬০ জন মুসলিম।
চূড়ান্ত তালিকায় বাদ পড়া ভোটারদের ক্ষেত্রেও পার্থক্য চোখে পড়ার মতো। মাত্র ২৩৪২ জনের মধ্যে ২২৯২ জন হিন্দু এবং মুসলিম মাত্র ২৩ জন। বিচারাধীন তালিকায় থাকা ভোটারদের মধ্যেও বাদ পড়ার হার হিন্দুদের ক্ষেত্রেই বেশি।
এই তথ্য সামনে আসার পর থেকেই রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে। তৃণমূল কংগ্রেস-এর তরফে আগে থেকেই অভিযোগ করা হচ্ছিল, এই প্রক্রিয়ায় সব সম্প্রদায়েরই ক্ষতি হবে। নতুন এই পরিসংখ্যান সেই দাবিকেই জোরালো করছে বলে মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের।
অন্যদিকে ভারতীয় জনতা পার্টি প্রশ্ন তুলেছে, ধর্মভিত্তিক এই বিশ্লেষণের উৎস কোথায়। তাঁদের দাবি, সরকারি প্রক্রিয়ায় এ ধরনের তথ্য আলাদা করে রাখা হয় না—তাহলে এই হিসেব এল কীভাবে?
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, বুথভিত্তিক তথ্য সংগ্রহের সময় থেকেই অনানুষ্ঠানিকভাবে এই ধরনের ডেটা সংরক্ষিত হয়ে থাকতে পারে। তবে এই পরিসংখ্যান ঘিরে রাজনৈতিক ব্যাখ্যা-প্রতিব্যাখ্যা যে আগামী দিনে আরও জোরালো হবে, তা এখনই স্পষ্ট।



