বাংলায় এসআইআর প্রক্রিয়া ঘিরে রাজনীতি ক্রমেই গরম হচ্ছে। উত্তর প্রদেশে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ইতিমধ্যেই প্রত্যেক জেলায় ডিটেনশন ক্যাম্প তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন, এবং তার রেশ এসে পড়েছে পশ্চিমবঙ্গেও। সীমান্তে এখন অনেক বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী নিজের দেশে ফিরে যাওয়ার জন্য ভিড় করছেন। তাঁদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়াও চলছে নিয়ম মেনে। কিন্তু সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে—এসআইআর প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হলেও যারা বৈধ নথি ছাড়া বাংলায় রয়ে যাবেন, তাঁদের ভবিষ্যৎ কী?
এই প্রশ্নকেই হাতিয়ার করে বড় হুঁশিয়ারি দিলেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী ও বনগাঁর বিজেপি সাংসদ শান্তনু ঠাকুর। তাঁর দাবি, এসআইআর চালু হলে ব্যাপক ধরপাকড় হবে, এবং ডিটেনশন অনিবার্য। তিনি সরাসরি প্রশ্ন ছুড়ে দেন, “এসআইআর হলে ধরপাকড় হবে। ডিটেনশন হবে। মুখ্যমন্ত্রী বাঁচাতে পারবেন?”
বাংলাতেও হবে ডিটেনশন ক্যাম্প? হুঁশিয়ারি শান্তনু ঠাকুরের
তিনি আরও বলেন, বাংলায় বছরের পর বছর ধরে অনুপ্রবেশ এবং বেআইনি বসতি বাড়িয়েছে তৃণমূল। তাঁর অভিযোগ, বাংলাদেশি এবং রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারীদের আশ্রয় দিয়ে ভোটব্যাংক তৈরি করেছে রাজ্যের শাসকদল। শান্তনু ঠাকুরের কথায়, ভোটের মুখে তৃণমূল এখন মতুয়াদের দিয়ে আবেগের রাজনীতি খেলতে চাইছে, কিন্তু বাস্তবে তাঁদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনও দৃঢ় অবস্থান নেই।
এই প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, কেন্দ্ৰ সরকার এসআইআর আইনের মাধ্যমে বৈধ নাগরিক ও অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের পৃথক করতে চাইছে। তাঁর দাবি, এই প্রক্রিয়া হলে তৃণমূল আর কাউকে রক্ষা করতে পারবে না।
বাংলার সীমান্ত এলাকাগুলিতে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বাড়ছে অনুপ্রবেশকারীদের আনাগোনা। অনেকেই নিজেরাই সীমান্তে হাজির হয়ে বাংলাদেশে ফিরে যেতে চাইছেন। সীমান্তরক্ষী বাহিনীও তাঁদের ফেরত পাঠানোর কাজ করছে নিয়ম অনুযায়ী। তবে রাজনৈতিক মহল মনে করছে, এসআইআর প্রক্রিয়া বাংলার রাজনীতিতে আসন্ন ভোটের আগে একটি বড় বিতর্কের জন্ম দেবে।
শান্তনু ঠাকুরের বক্তব্যে ইঙ্গিত স্পষ্ট—এসআইআর কার্যকর হলে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের ভবিষ্যৎ আর বাংলার রাজনীতির হাতে থাকবে না। এই মন্তব্যে উত্তেজনা ছড়িয়েছে মতুয়া সম্প্রদায়ের মধ্যেও, কারণ নাগরিকত্ব ইস্যু তাঁদের দীর্ঘদিনের দাবি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এসআইআর নিয়ে বিজেপির আক্রমণ এবং তৃণমূলের প্রতিরক্ষা লড়াই চলতেই থাকবে। বঙ্গ রাজনীতির কেন্দ্রে এখন নাগরিকত্ব, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং অনুপ্রবেশ—এই তিন ইস্যুই দ্রুত গুরুত্ব পাচ্ছে। এসআইআর প্রক্রিয়া কতটা কঠোরভাবে বাংলায় প্রয়োগ হবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।



