‘SIR আতঙ্কে মৃত্যু’— ৬১ পরিবারে সরকারি চাকরি, ২রা মার্চ নবান্নে নিয়োগপত্র দেবেন মমতা

SIR প্রক্রিয়া ঘিরে মৃতদের পরিবারের এক সদস্যকে স্পেশাল হোমগার্ড পদে চাকরি। সোমবার নবান্নে ৬১ জনের হাতে নিয়োগপত্র দেবেন মুখ্যমন্ত্রী।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া ঘিরে যাঁদের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ, তাঁদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা করেছিল রাজ্য সরকার। সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন এবার। সোমবার নবান্নে ৬১ জনের পরিবারের এক সদস্যের হাতে স্পেশাল হোমগার্ডের চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রশাসনিক মহলে এই সিদ্ধান্তকে ‘মানবিক পদক্ষেপ’ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

রাজ্য সরকারের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মৃতদের পরিবারের এক জন করে সদস্যকে স্পেশাল হোমগার্ড পদে নিয়োগ করা হবে। কোন জেলা থেকে কতজন চাকরি পাচ্ছেন, তার বিস্তারিত তালিকাও প্রকাশ করা হয়েছে।

জেলাভিত্তিক তালিকা অনুযায়ী—
পুরুলিয়া (১), বাঁকুড়া (১), নদিয়া (৩), পূর্ব মেদিনীপুর (৪), পশ্চিম মেদিনীপুর (৪), পূর্ব বর্ধমান (৫), হাওড়া (৩), মুর্শিদাবাদ (১১), উত্তর ২৪ পরগনা (২), কলকাতা (১), দক্ষিণ ২৪ পরগনা (৫), বীরভূম (৪), কোচবিহার (৩), উত্তর দিনাজপুর (৩), মালদহ (৫), দক্ষিণ দিনাজপুর (১) এবং জলপাইগুড়ি (৫) জন।

এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে রাজ্যে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে আগরপাড়ায়। এরপর টিটাগড়, নোয়াপাড়া, দত্তপুকুর, দেগঙ্গা, নৈহাটি, আমডাঙা, নদিয়া, মুর্শিদাবাদ ও অশোকনগর-সহ একাধিক জায়গায় মৃত্যুর খবর সামনে আসে। মৃতদের পরিবারের অভিযোগ, নাগরিকত্ব ও ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার আশঙ্কায় মানসিক চাপে এই মৃত্যু।

প্রথম ঘটনাটি ঘটে ২০২৫ সালের ২৮ অক্টোবর। পানিহাটি পুরসভার আগরপাড়ায় ৭৭ বছর বয়সী প্রদীপ করের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। পরিবারের দাবি ছিল, সদ্য ঘোষিত সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে তিনি চরম দুশ্চিন্তায় ছিলেন। পরবর্তী সময়েও একের পর এক মৃত্যু ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর তীব্র হয়। শুধু সাধারণ মানুষ নয়, এই কাজে যুক্ত কিছু বিএলও-র মৃত্যুর ঘটনাও সামনে আসে।

এই পরিস্থিতির জন্য নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল। তাদের অভিযোগ, অপরিকল্পিত প্রক্রিয়া ও অতিরিক্ত চাপই মানসিক অস্থিরতার কারণ। শুরু থেকেই মৃতদের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছিল রাজ্য সরকার। বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভায় আনুষ্ঠানিকভাবে ৬১ পরিবারকে চাকরি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে আর্থিক অনিশ্চয়তায় ভুগছিলেন অনেকে। এবার স্পেশাল হোমগার্ড পদে নিয়োগের মাধ্যমে সেই পরিবারগুলির পাশে দাঁড়াল রাজ্য সরকার।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত