এসআইআর প্রক্রিয়া ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের মাঝে এবার বড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ। আপিল শুনানির জন্য ট্রাইবুনাল অফিস পুরোপুরি প্রস্তুত, এবং খুব শিগগিরই ১৯ জন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির বেঞ্চে শুরু হতে চলেছে শুনানি। শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি ইনস্টিটিউট ভবনে গড়ে ওঠা এই পরিকাঠামো ইতিমধ্যেই কার্যত প্রস্তুত—যা ইঙ্গিত দিচ্ছে দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার।
সূত্রের খবর, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের চাহিদা অনুযায়ী আধুনিক প্রযুক্তি ও পরিকাঠামো তৈরি করতে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করেছে পূর্ত দফতর। ১০০-র বেশি কম্পিউটার, ডিজিটাল ফাইল প্রসেসিং ব্যবস্থা, এবং বিচারপতিদের উপযোগী কর্মপরিবেশ—সবই অল্প সময়ের মধ্যে গড়ে তোলা হয়েছে।
এই ট্রাইবুনালেই বসবেন ১৯ জন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি, যাঁরা এসআইআর-সংক্রান্ত আপিলগুলি খতিয়ে দেখবেন। প্রত্যেক বিচারপতির সঙ্গে চার থেকে পাঁচ জন করে সহায়ক কর্মী থাকবেন, যারা নথি যাচাই, ডকুমেন্ট প্রসেসিং এবং প্রশাসনিক কাজ সামলাবেন। ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট কর্মীদের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে, যাতে শুনানি প্রক্রিয়া দ্রুত ও সুশৃঙ্খলভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়।
ট্রাইবুনালের কার্যক্রম শুরুর আগে বিচারপতিদের একাংশ রবিবার ভবন পরিদর্শনে যাওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছেন। পরিকাঠামো সন্তোষজনক মনে হলে খুব দ্রুতই আনুষ্ঠানিকভাবে শুনানি শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
এই বেঞ্চে যোগ দিচ্ছেন Manjula Chellur—কলকাতা হাই কোর্টের প্রথম মহিলা বিচারপতি এবং বম্বে হাই কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি। তাঁর উপস্থিতি এই ট্রাইবুনালের গুরুত্ব আরও বাড়িয়েছে।
তবে সবকিছু মসৃণ নয়। জানা গিয়েছে, কয়েকজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ব্যক্তিগত কারণে এই ট্রাইবুনাল থেকে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। যদিও তাতে আপাতত কাজের গতি থামবে না বলেই প্রশাসনিক মহলের দাবি।
সব মিলিয়ে, এসআইআর আপিল শুনানির জন্য মঞ্চ প্রস্তুত। এখন শুধু আনুষ্ঠানিক সূচনার অপেক্ষা—যা এই প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।



