৫০ লক্ষ নথি এখনও বাকি! SIR শেষ করতে প্রতিবেশী রাজ্য থেকে বিচারক আনার নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

SIR প্রক্রিয়ায় ৫০ লক্ষ নথি যাচাই বাকি থাকায় উদ্বেগ সুপ্রিম কোর্টের। সময়মতো কাজ শেষ করতে ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশা থেকে বিচারক আনার নির্দেশ দিল শীর্ষ আদালত।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের আগে বড় প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জের মুখে রাজ্য। বিপুল সংখ্যক নথি যাচাই এখনও অসম্পূর্ণ থাকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া সময়মতো শেষ করা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করল সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির স্ট্যাটাস রিপোর্ট খতিয়ে দেখে শীর্ষ আদালত নির্দেশ দিয়েছে—প্রয়োজনে ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশা থেকে বিচারক এনে দ্রুত নথি যাচাই সম্পূর্ণ করতে হবে।

কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের জমা দেওয়া রিপোর্টে জানানো হয়, সুপ্রিম কোর্টের আগের নির্দেশ মেনে ইতিমধ্যে প্রায় ২৫০ জন জুডিশিয়াল অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে। তবুও প্রায় ৫০ লক্ষ নথি যাচাইয়ের কাজ এখনও বাকি। হিসেব অনুযায়ী, একজন অফিসার প্রতিদিন ২৫০টি করে নথি পরীক্ষা করলেও পুরো কাজ শেষ করতে অন্তত ৮০ দিন সময় লাগবে—যেখানে হাতে রয়েছে মাত্র কয়েক দিন।

সময়সীমা ঘিরে বাড়ছে চাপ

নির্বাচন কমিশনের সূচি অনুযায়ী আগামী ২৮ তারিখ রাজ্যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হওয়ার কথা। কিন্তু এখনও বিপুল সংখ্যক নথি যাচাই না হওয়ায় সেই সময়সীমা রক্ষা করা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সূত্রের দাবি, মোট ৭০ লক্ষের বেশি ভোটারের তথ্য যাচাইয়ের কাজ বাকি রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত জুডিশিয়াল অফিসার নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় কাজের গতি প্রত্যাশামতো বাড়েনি। সমস্যা সমাধানে ইতিমধ্যেই রাজ্য নির্বাচন কমিশনে একাধিক বৈঠক হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ

মঙ্গলবার জরুরি ভিত্তিতে মামলার শুনানি হয় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল পাঞ্চোলির বেঞ্চে। আদালত পর্যবেক্ষণ করে জানায়, বর্তমান জনবল দিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা প্রায় অসম্ভব।

প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, কলকাতা হাইকোর্টের রিপোর্টেই স্পষ্ট যে জনবল ঘাটতি রয়েছে। তাই অবসরপ্রাপ্ত বিচারকদের পাশাপাশি প্রতিবেশী রাজ্য—ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশা—থেকেও জুডিশিয়াল অফিসার এনে কাজে লাগানোর নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।

ভাষা নিয়ে আপত্তি, খারিজ আদালতে

শুনানির সময় ভাষাগত সমস্যার প্রসঙ্গ তুলে আপত্তি জানান তৃণমূল সাংসদ ও আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে আদালত সেই যুক্তি খারিজ করে জানায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রক্রিয়া শেষ করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

ফলে স্পষ্ট, ভোটার তালিকা সংশোধনের সময়সীমা রক্ষা করতে প্রশাসনিক স্তরে এবার আন্তঃরাজ্য সহযোগিতার পথেই এগোতে চাইছে আদালত।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত