বাংলার রেল মানচিত্রে ঐতিহাসিক মোড়। শিলিগুড়ি থেকে বারাণসী—সময় লাগবে মাত্র ২ ঘণ্টা ৫৫ মিনিট। প্রথম বুলেট ট্রেন পেতে চলেছে বাংলা, আর সেই রুটের সূচনা হচ্ছে উত্তরবঙ্গ থেকেই। সোমবার এক সাংবাদিক বৈঠকে এই ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী Ashwini Vaishnaw। জানালেন, বারাণসী–পাটনা–শিলিগুড়ি হাই স্পিড করিডরেই বাংলার প্রথম বুলেট ট্রেন চলবে।
কেন্দ্রীয় বাজেটে সাতটি নতুন হাই স্পিড রেল করিডরের কথা আগেই ঘোষণা করেছিলেন অর্থমন্ত্রী Nirmala Sitharaman। সেই তালিকায় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ করিডর ছিল বারাণসী–শিলিগুড়ি। এ দিন রেলমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন—এই প্রকল্প শুধু কাগজে-কলমে নয়, বাস্তবায়নের দিকেই এগোচ্ছে।


বাজেটে রেলমন্ত্রকের রেকর্ড বরাদ্দ, বাংলার প্রাপ্য কত?
২০২৬–২৭ অর্থবর্ষের বাজেটে রেলমন্ত্রকের জন্য বরাদ্দ হয়েছে ২ লক্ষ ৭৮ হাজার কোটি টাকা, যা গত বছরের তুলনায় ১০.৮ শতাংশ বেশি। মোট ক্যাপিটাল এক্সপেনডিচার ছুঁয়েছে ২ লক্ষ ৯৩ হাজার ৩০ কোটি টাকা—রেলের ইতিহাসে যা সর্বোচ্চ।
এই বরাদ্দ থেকে পশ্চিমবঙ্গ পাচ্ছে ১৪ হাজার ২০৫ কোটি টাকা, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ২৫০ কোটি টাকা বেশি। রেলমন্ত্রীর কথায়, “বরাদ্দের কোনও ঘাটতি নেই। বাংলা রেল পরিকাঠামোর উন্নয়নে কেন্দ্র প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
গুয়াহাটি পর্যন্ত বিস্তারের পরিকল্পনা, উত্তর-পূর্বের জন্য বড় বার্তা
রেলমন্ত্রী জানান, বারাণসী–শিলিগুড়ি বুলেট ট্রেন করিডর ভবিষ্যতে গুয়াহাটি পর্যন্ত সম্প্রসারিত হবে। ফলে এই প্রকল্প শুধু বাংলা নয়, গোটা উত্তর-পূর্ব ভারতের যোগাযোগ ব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে।


বারাণসী থেকে পাটনা হয়ে শিলিগুড়ি—এই করিডর ধর্মীয়, বাণিজ্যিক ও কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছে রেলমন্ত্রক।
ডানকুনি–সুরাট ফ্রেট করিডর ও মেট্রো বিতর্ক
রবিবার বাজেটে অর্থমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন, একটি নতুন পণ্য করিডরের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের ডানকুনি ও গুজরাটের সুরাটকে যুক্ত করা হবে। সেই সূত্র ধরেই রেলমন্ত্রী জানান,
“নতুন ফ্রেট করিডর ডানকুনিকে গুজরাট, ছত্তিসগড়, মধ্যপ্রদেশ ও মহারাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত করবে।”
কলকাতা মেট্রোর প্রসঙ্গে এসে ফের রাজ্য প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন রেলমন্ত্রী। তাঁর দাবি,
“৪০ বছরে কলকাতা মেট্রো মাত্র ২৭ কিলোমিটার বেড়েছিল। কিন্তু ২০১৪ সালের পর গত ১১ বছরে তা বেড়েছে ৪৫ কিলোমিটার। আরও দ্রুত কাজ সম্ভব ছিল।”
চিংড়িঘাটা এলাকায় অরেঞ্জ লাইন–এর কাজ আটকে থাকা নিয়ে রাজ্য সরকারকে নিশানা করে তিনি বলেন,
“হাইকোর্টের অনুমতি থাকা সত্ত্বেও চিংড়িঘাটায় কাজের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।”
উল্লেখ্য, নিউ গড়িয়া থেকে বেলেঘাটা পর্যন্ত মেট্রো চললেও এখনও বিমানবন্দর পর্যন্ত পরিষেবা শুরু হয়নি। নির্মাণকারী সংস্থার দাবি, চিংড়িঘাটায় ৩৬৬ মিটার এলাকায় ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতা না পাওয়াতেই কাজ বারবার পিছিয়ে যাচ্ছে।
সব মিলিয়ে, বুলেট ট্রেন থেকে ফ্রেট করিডর—২০২৬–২৭ সালের বাজেটে রেল পরিকাঠামোয় বাংলা ও উত্তর-পূর্ব ভারতের জন্য বড় বার্তা দিল কেন্দ্র। এখন নজর—কবে বাস্তবে ছুটবে শিলিগুড়ি–বারাণসীর বুলেট ট্রেন।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



