মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে তাৎপর্যপূর্ণ দলবদল। তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দিলেন জেলা পরিষদের প্রাক্তন সদস্য শাহনাজ বেগম। শনিবার বহরমপুরে কংগ্রেস কার্যালয়ে প্রাক্তন প্রদেশ সভাপতি অধীর চৌধুরী-র উপস্থিতিতে দলীয় পতাকা হাতে তুলে নিয়ে কংগ্রেসে প্রত্যাবর্তন করেন তিনি।
কংগ্রেস সূত্রে জানানো হয়েছে, বহরমপুরে আনুষ্ঠানিক যোগদান অনুষ্ঠানে শাহনাজ বেগমকে স্বাগত জানানো হয়। দীর্ঘদিন তৃণমূলের জেলা স্তরের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা এক নেত্রীর এই সিদ্ধান্তে মুর্শিদাবাদ জেলা রাজনীতিতে নতুন করে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে বলে মত রাজনৈতিক মহলের।


জেলা পরিষদে দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা
শাহনাজ বেগম এক সময় মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি তিনি কৃষি কর্মাধ্যক্ষ এবং মহিলা তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা নেত্রীও ছিলেন। রেজিনগর বিধানসভা এলাকার জেলা পরিষদ আসন থেকে তিনি টানা তিন বার জয়ী হন।
২০১৬ সালে কংগ্রেসের টিকিটে জয়ী হয়ে জেলা পরিষদ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন শাহনাজ। পরবর্তী সময়ে তৃণমূলে যোগ দিয়ে দু’বার ওই দলের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন।
‘চোরের সঙ্গে থাকা সম্ভব নয়’—ফেসবুক পোস্টে বিস্ফোরণ
গত ১৭ ডিসেম্বর জেলা পরিষদের সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দেন শাহনাজ বেগম। সেই সিদ্ধান্তের কথা তিনি প্রকাশ্যে জানান ফেসবুকে দীর্ঘ পোস্ট করে। সেখানে তিনি লেখেন, “চোর জেলা পরিষদের একজন অংশীদার হয়ে থাকা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। তাই মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই আমাকে সদস্যপদ ছাড়তে হচ্ছে।”


তাঁর অভিযোগের কেন্দ্রে ছিলেন জেলা পরিষদের সভাধিপতি রুবিয়া সুলতানা। এর আগেও তাঁর বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তুলেছিলেন শাহনাজ বেগম। পাশাপাশি জেলা পরিষদের বৈঠক না হওয়া, সদস্যদের সঙ্গে পরামর্শের অভাব নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন তিনি।
শীর্ষ নেতৃত্বে অভিযোগ, মেলেনি সাড়া
শাহনাজ বেগমের দাবি, তিনি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছেও লিখিত অভিযোগ জানিয়েছিলেন। তাঁর চিঠি গিয়েছিল তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি-র কাছে। কিন্তু কোনও রকম প্রতিক্রিয়া না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত দল ও পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
কংগ্রেসে ‘ঘর ওয়াপসি’
কংগ্রেসে যোগ দিয়ে শাহনাজ বেগম জানান, দলীয় শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতার প্রশ্নেই তাঁর এই সিদ্ধান্ত। অধীর চৌধুরী বলেন, “দুর্নীতির বিরুদ্ধে যাঁরা কথা বলেন, তাঁদের জন্য কংগ্রেসের দরজা খোলা।”
এই দলবদল মুর্শিদাবাদে কংগ্রেস সংগঠনকে চাঙ্গা করতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা। একই সঙ্গে জেলা তৃণমূলের অন্দরে অস্বস্তিও যে বাড়ল, তা রাজনৈতিক মহল স্বীকার করছে।







