সন্দেশখালির শাহজাহান শেখ–সংক্রান্ত মামলায় চাঞ্চল্যকর মোড়। মামলার অন্যতম সাক্ষীর গাড়িতে ইচ্ছাকৃতভাবে ধাক্কা মারার অভিযোগে অবশেষে গ্রেফতার হলেন মূল অভিযুক্ত ট্রাকচালক আলিম মোল্লা। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত আলিমই ১৬ চাকার ঘাতক ট্রাকটি চালাচ্ছিলেন।
ঘটনাটি ঘটে গত ১০ ডিসেম্বর সকালে। সাক্ষ্য দিতে যাওয়ার পথে সন্দেশখালির বাসিন্দা ভোলা ঘোষের গাড়িতে সজোরে ধাক্কা মারে ট্রাকটি। সেই দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় গাড়ির চালক এবং ভোলার পুত্রের। গুরুতর আহত হন ভোলা ঘোষ নিজেও।
‘পরিকল্পিত হামলা’, টাকার বিনিময়ে ধাক্কার অভিযোগ
ভোলার অভিযোগ, তিনি শাহজাহান শেখ মামলার সাক্ষী বলেই তাঁকে খুন করার ছক কষা হয়েছিল। সেই উদ্দেশ্যেই লক্ষাধিক টাকা নিয়ে আলিম মোল্লা ট্রাক চালিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে ধাক্কা দেন। ঘটনার পর থেকেই এই দুর্ঘটনাকে ‘সাধারণ পথদুর্ঘটনা’ নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যাচেষ্টা বলেই দাবি করে আসছিলেন ভোলা।
রবিবার গভীর রাতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার একটি গোপন ডেরা থেকে আলিম মোল্লাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সোমবার তাঁকে বসিরহাট মহকুমা আদালতে তোলা হচ্ছে।
আগেই ধরা পড়েছিল চার জন, মূল অভিযুক্ত ছিল পলাতক
এই ঘটনায় এর আগে চার জনকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। তাঁদের মধ্যে তিন জনের নাম প্রাথমিক এফআইআরে ছিল না। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে তদন্তকারীরা তাঁদের শনাক্ত করেন। পরে এফআইআরে নাম থাকা নজরুল মোল্লাকেও গ্রেফতার করা হয়।
ভোলার অভিযোগ অনুযায়ী, দুর্ঘটনার পর নজরুলই বাইকে করে ট্রাকচালককে এলাকা থেকে পালাতে সাহায্য করেন। ধৃতদের জেরা করেই শেষ পর্যন্ত আলিম মোল্লার অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হয় পুলিশ।
‘পুলিশের উপর আস্থা ছিল’—গ্রেফতারির পর সাক্ষীর প্রতিক্রিয়া
আলিমের গ্রেফতারির পর ভোলা ঘোষ বলেন,
“আমার পুলিশের উপর আস্থা ছিল। আমি ধন্যবাদ জানাই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং পুলিশ প্রশাসনকে। আশা করি এই ঘটনার সঙ্গে যাঁরা আরও জড়িত, তাঁরাও দ্রুত ধরা পড়বেন।”
ভোলা আরও জানান, তিনি নিজের চোখেই আলিম মোল্লাকে ট্রাক চালাতে দেখেছিলেন এবং সেই কথা আগেই থানায় লিখিত অভিযোগে জানিয়েছিলেন।
তদন্ত কোন দিকে?
পুলিশ সূত্রে খবর, এবার টাকা লেনদেনের সূত্র, ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে কারা ছিল এবং শাহজাহান মামলার সঙ্গে এই ঘটনার সরাসরি যোগ কতটা—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে অভিযুক্তদের হেফাজতে নিয়ে আরও জেরা করা হতে পারে।



