নজরবন্দি ব্যুরো: অবশেষে প্রায় ৩০ ঘণ্টা যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শেষ হয়েছে বালেশ্বরে দুর্ঘটনাস্থলের উদ্ধারকাজ। দুর্ঘটনাস্থল থেকে দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া কামরাগুলি সরানো হয়েছে। তবে দুর্ঘটনার কারণেই বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ওই রুটের রেল চলাচল পরিষেবা। গতকাল থেকে কয়েকটি ট্রেন চলাচল করলেও আজও বেশ কয়েকটি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।
আরও পড়ুন: খাস কলকাতায় বোমাতঙ্ক! যুবকের চিৎকার ঘিরে হুলস্থূল কাণ্ড কলকাতা বিমানবন্দরে


জানা যাচ্ছে, লাইন মেরামতির পর বালেশ্বর দিয়ে ট্রেন চলছে ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে। তবে এখনও স্বাভাবিক নয় দক্ষিণ-পূর্ব রেলের দূরপাল্লার ট্রেন চলাচল। আতঙ্কও কাটছে না। মঙ্গলবার দিনভর দক্ষিণ-পূর্বের লাইনের ২১টি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। অন্যদিকে, মঙ্গলবার সকালে হাওড়ায় ঢোকে ডাউন পুরী-হাওড়া এক্সপ্রেস। তবে ট্রেন ঠিক থাক ভাবে ঢুকলেও আতঙ্কের ছাপ ছিল যাত্রীদের চোখে-মুখে। বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞেস করলে তাঁরা জানান, ওই জায়গা দিয়ে যাওয়ার সময়, আতঙ্কে বুক কেঁপেছে যাত্রীদের।

বাতিল ট্রেনের মধ্যে আছে –
১, আপ ও ডাউন শালিমার-পুরী ধৌলি এক্সপ্রেস
২, আপ ও ডাউন হাওড়া-সেকেন্দ্রাবাদ ফলকনুমা এক্সপ্রেস
৩, শালিমার-চেন্নাই সেন্ট্রাল এক্সপ্রেস
৪, হাওড়া-পুরী শতাব্দী এক্সপ্রেস
৫, ভদ্রক-হাওড়া এক্সপ্রেস
৬, ভুবনেশ্বর-হাওড়া জনশতাব্দী এক্সপ্রেস
৭, আপ ও ডাউন খড়গপুর-খুরদা রোড এক্সপ্রেস
৮, শিয়ালদা-পুরী দুরন্ত এক্সপ্রেস-সহ একাধিক দূরপাল্লার ট্রেন।



প্রসঙ্গত, করমণ্ডলে প্রায় কয়েক হাজার যাত্রী ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ওড়িশার হাসপাতালে ভর্তি ১১০০-রও বেশি যাত্রী। সঙ্কটজনক অবস্থায় রয়েছেন অনেকেই। অন্যদিকে, যাদের পরিবারের লোকজনেরা ওই এক্সপ্রেসে ছিলেন, তাদের খোঁজ চালাচ্ছেন অনেকেই। এহেন পরিস্থিতিতে রেল দুর্ঘটনায় আহতদের খোঁজ পেতেই ওড়িশা সরকারের তরফে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা প্রকাশ করা হয়েছে। অন্যদিকে, আজ ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েক ঘোষণা করলেন যে, বালেশ্বরের দুর্ঘটনায় যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের পরিবার পিছু ৫ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি গুরুতর আহত হয়েছেন যারা, তাদের ১ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।
এখনও কাটেনি আতঙ্ক, স্বাভাবিক হয়নি দক্ষিণ-পূর্ব রেলের দূরপাল্লার ট্রেন চলাচল








