নজরবন্দি ব্যুরো: তল্লাশিতে এসে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট আধিকারিকরা নাকি লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস সংস্থার কম্পিউটারে বেশ কিছু ফাইল ডাউনলোড করে গেছেন! সংস্থার মতে, যে ফাইল আগে তাদের কম্পিউটারে ছিলও না, বা তাঁদের কোন কর্মী তল্লাশির পর এই কাজ করেননি বলে তাঁরা নিশ্চিত। এবার এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলে কলকাতা পুলিশের সদর দফতর লালবাজারের দ্বারস্থ হলেন লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস সংস্থার এক কর্মী।
আরও পড়ুন: রাজ্য থেকে তুলে নেওয়া হল সমস্ত রকম কোভিডবিধি, জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী


সাম্প্রতিক সময়ে বারবার শিরোনামে থেকেছে লিপস এন্ড বাউন্স সংস্থাটি। কারণ, নিয়োগ দুর্নীতিকাণ্ডে অভিযুক্ত সুজয় কৃষ্ণ ভদ্র ওরফে কালীঘাটের কাকু ছিলেন এই সংস্থারই উচ্চপদস্থ কর্মী। সোমবার লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস সংস্থায় প্রায় ১৮ ঘন্টা ধরে তল্লাশি অভিযান চালায় ইডি। এছাড়াও সুজয় কৃষ্ণ ভদ্রের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে এমন তিনটি জায়গাতেও ইডি আধিকারিকরা হানা দেন। তার মধ্যে ছিল দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার বিষ্ণুপুরের একটি জায়গা এবং লি রোডের সুজয় কৃষ্ণের মেয়ে এবং জামাইয়ের ফ্ল্যাট।

শুক্রবার লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের কর্মী চন্দন বন্দ্যোপাধ্যায় লালবাজারে গিয়ে ইডির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করলেন। তাঁর অভিযোগ, ইডি তল্লাশি করে যাবার পর তাঁরা দেখছেন তাঁদের সংস্থার কম্পিউটারে ১৬টি ‘অচেনা’ ফাইল ডাউনলোড করা হয়েছে। এগুলি মূলত এক্সেল শিট। চন্দনের দাবি, এই ফাইলগুলি তাঁদের কম্পিউটারে আগে ছিল না!

অন্যদিকে, তল্লাশির পর লিখিত বিবৃতিতে ইডি জানিয়েছে, লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস প্রাইভেট লিমিটেড সংস্থার সিইও হলেন তৃণমূল সংসদ তথা সেকেন্ড-ইন-কম্যান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০১২ থেকে ২০১৪ অবধি সংস্থার সর্বোচ্চ পদে ছিলেন ডায়মন্ড হারবারের সংসদ। যদিও এই মুহূর্তে সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে কোনও যোগ নেই অভিষেকের।


তল্লাশির নামে কম্পিউটারে ‘অচেনা’ ফাইল ডাউনলোড করে গেছে ইডি! চাঞ্চল্যকর অভিযোগ লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের
প্রসঙ্গত, দিন কয়েক আগেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় ইডির বিরুদ্ধে এই একই রকম একটি অভিযোগ এনেছিলেন যে, তদন্তের নামে বা তল্লাশি অভিযানে এসে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা নিজেই কাউকে অপরাধের সঙ্গে যুক্ত করে দিতে পারে। মমতা বলেন, “এই যে তল্লাশি অভিযানের নামে এসে সেখানে কিছু রেখে যাচ্ছে না তো ইডি? ব্যাগ ভর্তি টাকা নিয়ে এসে রেখে কাউকে অভিযুক্ত বলে প্রমাণ করে দিচ্ছে! এগুলো তো হতেই পারে।” এবার ইডির বিরুদ্ধে এইরকমই গুরুতর অভিযোগ আনলেন লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের কর্মী চন্দন বন্দ্যোপাধ্যায়। এখন লালবাজার এই অভিযোগের ভিত্তিতে কি পদক্ষেপ নেয় সেটাই দেখার।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



