নজরবন্দি ব্যুরোঃ করোনার অতিমারিতে প্রায় গত দু’বছর ধরে বন্ধ স্কুল। প্রাথমিক থেকে অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়ারা কার্যত ঘরবন্দি। কবে স্কুল খুলবে জানেন না শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। তিনি তাকিয়ে রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সিদ্ধান্তের দিকে। এদিকে টানা স্কুল বন্ধ থাকার কারনে শিক্ষা ব্যাবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বাংলায়। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ। তাই এবার আর থাকতে পারলেন না একদল শিক্ষাপ্রেমী। সরকারি নির্দেশিকার আগেই স্কুল চালু করলেন শিক্ষকরা!


রাজ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছাড়া বাকি সব কিছু খোলা রয়েছে। আর টানা স্কুল বন্ধ রাখার জেরে একাধিকবার কটাক্ষের মুখে পড়েছে রাজ্য সরকার। স্কুল না খোলায় কমে গেছে ছাত্র ছাত্রীর সংখ্যা। অবস্থা এমনই যে বাংলায় বন্ধ হয়ে গিয়েছে ৩০০ টিরও বেশি স্কুল। এই যখন পরিস্থিতি তখন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোনা ২ নম্বর ব্লকের খিরাটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চালু হয়ে গেল পঠন পাঠন। কোভিড বিধি বজায় রেখে ১৩৫ জন পড়ুয়া নিয়ে রমরমিয়ে শুরু হল স্কুল।
এক শিক্ষক, নাম – মঙ্গল প্রসাদ মাইতি বললেন, “করোনার কারনে সব থেকে বেশি ক্ষতি হয়েছে শিক্ষা ব্যবস্থার। রাজ্যে সব কিছু যখন সচল তখন শুধু শিক্ষা ব্যবস্থা মার খাচ্ছিল। এই প্রেক্ষিতে আমার মনে হয়েছিল বিদ্যালয় চালু হওয়া খুবই প্রয়োজন। তাই আমি গাছ তলায় গিয়ে, এবং পাড়ায়-পাড়ায় গিয়ে পড়ানো শুরু করি। কিছু-কিছু শিশু একেবারেই পড়াশোনাই ভুলে গেছিল। তাই এই উদ্যোগ।”
তবে স্কুল বন্ধ থাকলেও তাঁদের কাছে স্কুলের পরিবেশ, সেই শিক্ষা পৌঁছে দিতে নয়া উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার। কারন প্রতিদিন জোরাল হচ্ছে স্কুল খোলার দাবি। তাই এবার পাড়ায়-পাড়ায় চালু হতে চলেছে ‘পাড়ায় শিক্ষালয়’ । আজ এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে কচিকাঁচাদের জন্য শুরু হবে রাজ্য সরকারের এই প্রকল্প।


ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ, সরকারি নির্দেশিকার আগেই স্কুল চালু করলেন শিক্ষকরা!

স্কুল শিক্ষাদপ্তর সূত্রে খবর, করোনা কালে দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ। এমন আবহে চার দেওয়ালে বন্দি ক্লাসরুমে পড়াশোনা করা ঝুঁকিুপূর্ণ বলছেন বিশেষজ্ঞরা। আবার বহু পড়ুয়াই অনলাইন ক্লাসের সুবিধা পাচ্ছেন না। দুর্বল ইন্টারনেট পরিষেবা বা আর্থিক অনটনের জন্য তারা এই ক্লাস করতে পারছেন না। এবার তাঁদের কথা ভেবেই নয়া উদ্যোগ নিল রাজ্য সরকার। সেই কর্মসূচির নাম দেওয়া হয়েছে ‘পাড়ায় শিক্ষালয়’।








