ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিকভাবে রান করেও জাতীয় দলে নিয়মিত সুযোগ পাচ্ছেন না সরফরাজ় খান (Sarfaraz Khan)। বারবার ভালো পারফরম্যান্সের পরেও নির্বাচকদের উপেক্ষার মুখে পড়তে হচ্ছে বলে ক্ষোভ জমেছে মুম্বইয়ের এই ব্যাটারের মনে। এবার প্রকাশ্যেই নিজের হতাশার কথা জানালেন তিনি। প্রশ্ন তুললেন, আর কত দিন এভাবে কঠোর পরিশ্রম করে যাবেন? তবে ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসা এবং বাবার স্বপ্ন পূরণের তাগিদেই প্রতিদিন ভোরে উঠে অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছেন সরফরাজ়। জাতীয় দলের দরজা বন্ধ থাকলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজের কাজ করে যেতে চান তিনি।
রঞ্জি ট্রফিতে রেলওয়েজের বিরুদ্ধে ম্যাচের প্রথম দিনের খেলা শেষে সংবাদমাধ্যমের সামনে নিজের মনের কথা তুলে ধরেন মুম্বইয়ের এই ব্যাটার। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, জাতীয় দলে সুযোগ না পাওয়া নিয়ে হতাশা থাকলেও ক্রিকেট থেকে সরে যাওয়ার কোনও পরিকল্পনা নেই। বরং মুম্বইয়ের হয়ে রান করে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করাই এখন তাঁর প্রধান লক্ষ্য।
বারবার ভালো খেলেও কেন জাতীয় দলে সুযোগ নেই?
ঘরোয়া ক্রিকেটে দীর্ঘদিন ধরেই সরফরাজ়ের ব্যাটে রানের বন্যা। রঞ্জি ট্রফিতে একের পর এক বড় ইনিংস খেলে নির্বাচকদের নজর কেড়েছিলেন তিনি। সেই পারফরম্যান্সের সুবাদেই ২০২৪ সালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজ়ে ভারতের হয়ে অভিষেকের সুযোগ পান।
এরপর দেশের মাটিতে নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধেও খেলেছিলেন সরফরাজ়। বেঙ্গালুরু টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে দুর্দান্ত ১৫০ রান করে নিজের ব্যাটিং দক্ষতার প্রমাণ দেন। তবে জাতীয় দলের হয়ে নিয়মিত জায়গা তৈরি করতে পারেননি তিনি। পরবর্তী সময়ে দল থেকে বাদ পড়েন। ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো খেললেও আর নিয়মিত সুযোগ মেলেনি।
এই পরিস্থিতি নিয়ে সরফরাজ়ের হতাশা নতুন নয়। এর আগেও জাতীয় দলে সুযোগ না পাওয়া নিয়ে নিজের অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন তিনি। এবার রঞ্জি ট্রফির ম্যাচের পর তাঁর মন্তব্যে ফের সামনে এল সেই আক্ষেপ।
‘আর কেন কঠোর পরিশ্রম করব?’ প্রশ্ন সরফরাজ়ের
নিজের প্রতিদিনের অনুশীলনের রুটিনের কথা বলতে গিয়ে সরফরাজ় বলেন, অনেক কিছুই ঘটে গিয়েছে। তাই আর বেশি কিছু ভাবতে চান না তিনি। তবে প্রতিদিন সকালে উঠে নিজের কাছেই প্রশ্ন করেন, আর কেন এত কঠোর পরিশ্রম করবেন?
সরফরাজ়ের কথায়, ভোর ৫টা থেকেই তাঁর দিনের কাজ শুরু হয়। জাতীয় দলের হয়ে খেলার সময় যেমন কঠোর অনুশীলন করতেন, মুম্বইয়ের হয়ে রঞ্জি ট্রফি খেললেও একই নিয়ম মেনে চলেন। আগে ৩০, ৫০ কিংবা ১০০ রান করার জন্য যে পরিশ্রম করতেন, এখনও সেই একই নিষ্ঠা বজায় রেখেছেন।
জাতীয় দলের হয়ে খেলার স্বপ্ন পূরণ হলেও তাঁর কাছে ক্রিকেটের প্রতি দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়নি। বরং প্রতিটি ম্যাচে নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
বাবার পরিশ্রমই অনুপ্রেরণা, জানালেন মুম্বইয়ের ব্যাটার
জাতীয় দলে বারবার সুযোগ না পাওয়ার হতাশা কাটিয়ে কীভাবে নিজেকে অনুপ্রাণিত রাখেন সরফরাজ়? সেই প্রশ্নের উত্তরে বাবার কথা তুলে ধরেছেন তিনি।
সরফরাজ় জানিয়েছেন, তাঁর বাবা যেভাবে প্রতিদিন পরিশ্রম করেন, সেটাই তাঁকে নতুন করে অনুশীলনে ফেরার শক্তি জোগায়। বাবার কঠোর পরিশ্রম দেখেই মাঠে নেমে রান করার তাগিদ অনুভব করেন তিনি।
মুম্বইয়ের এই ক্রিকেটারের কথায়, আজাদ ময়দান কিংবা ক্রস ময়দানে সকাল ৬টার সময় গেলেই তাঁর বাবাকে দেখা যাবে। ছেলের ক্রিকেটজীবন গড়ে তোলার পিছনে বাবার অবদান অপরিসীম। তাই নিজের সাফল্যের মাধ্যমে বাবার পরিশ্রমের মর্যাদা দিতে চান সরফরাজ়।
জাতীয় দলে ফেরার সুযোগ যে একেবারে আসেনি, তা নয়। সাই সুদর্শন চোট পাওয়ার পর শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজ়ের দলে সরফরাজ়কে ডাকা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন তিনি। সেই সময় উৎকর্ষ কেন্দ্রে ছিলেন এই ব্যাটার। ফোনের মাধ্যমে তাঁকে দলে নেওয়ার খবর জানানো হয়।
তবে শেষ পর্যন্ত প্রথম একাদশে খেলার সুযোগ পাননি। এরপর আবার মুম্বইয়ে ফিরে ঘরোয়া ক্রিকেটে মন দেন তিনি।
জাতীয় দলের নির্বাচকদের উদ্দেশে সরফরাজ়ের বার্তা, তাঁরা যখনই প্রয়োজন মনে করবেন, তাঁকে ডাকতে পারেন। সুযোগ পেলে তিনি গিয়ে খেলবেন। আর জাতীয় দলের ডাক না এলে নিজের রাজ্যের হয়ে ক্রিকেট চালিয়ে যাবেন।
সরফরাজ়ের এই বক্তব্যে একদিকে যেমন নির্বাচকদের প্রতি জমে থাকা অভিমান প্রকাশ পেয়েছে, অন্যদিকে তেমনই ফুটে উঠেছে ক্রিকেটের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতা। জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়া না পাওয়া এখন তাঁর নিয়ন্ত্রণে নেই। কিন্তু ব্যাট হাতে রান করার দায়িত্ব থেকে সরে আসতে নারাজ মুম্বইয়ের এই ক্রিকেটার।



