দেশজুড়ে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র আন্দোলন ঘিরে বিতর্ক ও বিক্ষোভের আবহে এবার মুখ খুললেন বলিউড সুপারস্টার সলমন খান (Salman Khan)। আন্দোলনরত পড়ুয়াদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে অভিনেতা বলেছেন, তাঁদের দাবি শান্তিপূর্ণভাবে সামনে এসেছে এবং শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে সরকার ইতিবাচক পদক্ষেপ নেবে বলেই তাঁর আশা। এই মন্তব্যের পর থেকেই সলমনের পোস্ট সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
এর আগে নিজের স্বাস্থ্য নিয়ে ভক্তদের উদ্বেগের জবাব দিয়েছিলেন অভিনেতা। এবার ছাত্র আন্দোলন প্রসঙ্গে দীর্ঘ বার্তা দিয়ে তিনি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন। সোমবার দিল্লির যন্তর মন্তর (Jantar Mantar) থেকে সংসদ অভিমুখে পড়ুয়াদের মিছিল এবং সেই সময় পুলিশের লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারের অভিযোগ ঘিরে দেশজুড়ে আলোচনা শুরু হয়। সেই প্রেক্ষিতেই বুধবার ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্ট করেন সলমন।
নিজের ছাত্রজীবনের একটি পুরনো ছবি শেয়ার করে অভিনেতা লেখেন, আন্দোলনের শুরুটা ছিল সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ। কিন্তু পরে পরিস্থিতি হিংসাত্মক হয়ে ওঠায় তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। আহত ছাত্রছাত্রী এবং তাঁদের পরিবারের প্রতি সমবেদনাও জানান তিনি। একই সঙ্গে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুতর বলে উল্লেখ করে বলেন, উন্নত শিক্ষাব্যবস্থার দাবিতে ছাত্রছাত্রী ও তাঁদের অভিভাবকদের একজোট হওয়া ইতিবাচক বার্তা বহন করে।
পোস্টে সলমন আরও জানান, শিক্ষার প্রতি বর্তমান প্রজন্মের দায়বদ্ধতা এবং ভবিষ্যৎ গড়ার ইচ্ছা তাঁকে আশাবাদী করেছে। তাঁর কথায়, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে নিজেদের দাবি তুলে ধরার যে সাহস ছাত্রছাত্রীরা দেখিয়েছেন, তা প্রশংসনীয়। এই মানসিকতাই ভবিষ্যতে দেশকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে পারে বলেও মত অভিনেতার।
বলিউডের ‘খান’ অভিনেতাদের মধ্যে প্রথমবার কোনও তারকার এমন প্রতিক্রিয়া সামনে আসায় তা বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। সলমন স্পষ্ট করে বলেন, এই আন্দোলনকে রাজনৈতিক রং না দিয়ে শিক্ষাব্যবস্থার সমস্যা হিসেবেই দেখা উচিত। তাঁর মতে, আন্দোলনের কৃতিত্ব সম্পূর্ণ ছাত্রছাত্রীদের প্রাপ্য এবং সরকারও তাঁদের উদ্বেগকে গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
শুধু বর্তমান পরিস্থিতি নয়, ভবিষ্যতের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন অভিনেতা। তাঁর ইচ্ছা, এমন এক সময় আসুক যখন ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছবে এবং বিদেশ থেকেও পড়ুয়ারা উচ্চশিক্ষার জন্য ভারতে আসতে আগ্রহী হবে। শিক্ষাকে দেশের সবচেয়ে বড় শক্তিতে পরিণত করার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।
সলমন খানের এই পোস্ট প্রকাশ্যে আসার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। একাংশ তাঁর বক্তব্যকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এবং ছাত্রদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রশংসা করেছেন। আবার অন্যদের মতে, বিষয়টি নিয়ে আরও বিস্তৃত আলোচনা প্রয়োজন। তবে অভিনেতার এই মন্তব্য নতুন করে ছাত্র আন্দোলন এবং শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে জাতীয় স্তরের বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে।




