পাকিস্তান ও বালোচিস্তান নিয়ে সলমন খানের মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। সম্প্রতি সৌদি আরবের রিয়াধে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে ভাইজান এমন এক মন্তব্য করেন, যা নিয়ে এখন সরগরম সোশ্যাল মিডিয়া। অনুষ্ঠানে ভারতীয় সিনেমার প্রসারে কথা বলতে গিয়ে অভিনেতা পাকিস্তান ও বালোচিস্তানকে দুটি পৃথক দেশ হিসেবে উল্লেখ করেন।
এই মন্তব্যের ভিডিয়ো মুহূর্তে ভাইরাল হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। সেখানে দেখা যায়, সলমন বলছেন, “হিন্দি সিনেমা সৌদি আরবে মুক্তি পেলে সাফল্য নিশ্চিত। কারণ এখানে শুধু ভারতের নয়, বিভিন্ন দেশের মানুষ কাজ করেন—যেমন বালোচিস্তান, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মানুষ।” এই একটিমাত্র বাক্যেই তীব্র প্রতিক্রিয়া ছড়ায় নেটদুনিয়ায়।
বালোচিস্তান ইস্যু বহুদিন ধরেই আন্তর্জাতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু। পাকিস্তান সরকার বরাবরই বালোচিস্তানকে তাদের দেশের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ বলে দাবি করে আসছে। অপরদিকে বালোচ স্বাধীনতাকামী সংগঠনগুলি বছরের পর বছর ধরে স্বাধীন রাষ্ট্রের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। এমন সংবেদনশীল প্রেক্ষাপটে বলিউড তারকা সলমনের মন্তব্যকে অনেকে কূটনৈতিকভাবে গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন।
নেটিজেনদের প্রতিক্রিয়া মিশ্র। কেউ মনে করছেন, সলমন খানের মুখ ফস্কে এই কথা বেরিয়ে গিয়েছে। এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, “হয়তো তিনি বুঝতে পারেননি কথাটির রাজনৈতিক তাৎপর্য।” অন্যদিকে কেউ কেউ বলছেন, “যদি জেনেবুঝে বলে থাকেন, তাহলে দারুণ সাহস দেখিয়েছেন।” কেউ আবার অনুমান করছেন, “হয়তো সলমনের আসন্ন কোনও ছবিতে এমন বিষয় আছে, তারই ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।”
তবে সমালোচনাও কম হচ্ছে না। এক ক্ষুব্ধ মন্তব্যে একজন লিখেছেন, “বলিউড তারকারা দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে মুখ খোলেন না, এখন হঠাৎ কেন এমন সংবেদনশীল মন্তব্য?”
বিশ্লেষকদের মতে, এই মন্তব্য কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলতে পারে। পাকিস্তান-বালোচিস্তান বিতর্কে আন্তর্জাতিকভাবে ভারতের অবস্থান বরাবরই সূক্ষ্ম। তাই এমন মন্তব্যকে অনেকেই ‘অবিবেচক’ বলছেন। যদিও এখনো পর্যন্ত সলমন খান বা তাঁর টিমের তরফে কোনও সরকারি প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
সলমন খান বর্তমানে তাঁর পরবর্তী সিনেমা “Sikandar”-এর শুটিংয়ের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। সূত্রের খবর, রিয়াধের অনুষ্ঠানটিও সিনেমার প্রচারের অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তবে সেই ইভেন্ট থেকে জন্ম নেওয়া এই নতুন বিতর্ক ভাইজানের জনপ্রিয়তায় কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
এদিকে বালোচিস্তান ইস্যু নিয়ে পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়াও নজরে। তাদের সংবাদমাধ্যমে ইতিমধ্যেই সলমনের মন্তব্যকে ‘রাজনৈতিকভাবে ভুল’ বলে দাবি করা হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন—বলিউড তারকা কি সত্যিই ভুল করে এমন মন্তব্য করতে পারেন? নাকি এর পিছনে লুকিয়ে আছে কোনও সূক্ষ্ম বার্তা?
যেভাবেই হোক, এই এক বক্তব্যই আবার প্রমাণ করল—বলিউডের প্রতিটি শব্দই এখন আন্তর্জাতিক রাজনীতির নজরে।



