নজরবন্দি ব্যুরোঃ ‘এত আনন্দ আয়োজন সব বৃথা তোমায় ছাড়া’- লড়াকু ঐন্দ্রিলার মৃত্যুতে ছন্দ হারিয়েছে টলিউড। দীর্ঘ ২০ দিনের লড়াইয়ে ইতি টেনে অমৃতলোকে পাড়ি ঐন্দ্রিলার। অভিনেত্রী ঐন্দ্রিলা শর্মার শেষকৃত্য হবে রবিবারই। হাওড়ার বেসরকারি হাসপাতাল থেকে থেকে তাঁর দেহ নিয়ে যাওয়া হয়েছে কলকাতার বাড়িতে। সেখান থেকে শেষবারের জন্য স্থান হবে কর্ম জগত স্টুডিয়ো পাড়ায়।সেখানে তাঁকে শ্রদ্ধা জানাবেন তাঁর সহকর্মীরা। এর পর সন্ধ্যায় দেহ নিয়ে যাওয়া হবে শ্মশানে। শেষযাত্রাতেও গাড়ি আগলে রইলেন সব্যসাচী। টানা ২০ দিনে এক মুহূর্তের জন্য কাছ ছাড়া করেননি বন্ধুকে।
আরও পড়ুনঃসব্যসাচীর মনে অমলিন ঐন্দ্রিলা, শিখিয়ে গেল রূপকথার প্রেম


হাওড়ার বেসরকারি হাসপাতাল সূত্রে খবর, বিকেল ৪টে নাগাদ তাঁর মরদেহ করা হয়েছে। প্রথমে ঐন্দ্রিলার দেহ নিয়ে যাওয়া হয়েছে তাঁর কুঁদঘাটের বাড়িতে। কুঁদঘাটের আইভরি টাওয়ারে থাকতেন ঐন্দ্রিলা। সেখান থেকে সান্ধ্যে বেলা ঐন্দ্রিলার দেহ নিয়ে যাওয়া হবে টেকনিশিয়ান স্টুডিয়োতে। স্টুডিও থেকে সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে কেওড়াতলা শ্মশানে শেষকৃত্যের জন্য। ঐন্দ্রিলার কুঁদঘাটের আইভরি টাওয়ারের বাড়িতে বিকেল ৪টে নাগাদ ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস।

রবিবার দুপুর ১২টা ৫৯ মিনিটে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন ঐন্দ্রিলা। গত ১ নভেম্বর থেকে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন তিনি। তাঁকে ভর্তি করানো হয় হাওড়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে। চিকিৎসকরা জানান, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়েছে ঐন্দ্রিলার। এর পর কোমায় চলে যান তিনি। রাখা হয় ভেন্টিলেশনে। কিন্তু দীর্ঘ লড়াই চালানোর পর হার মানতে হয় ঐন্দ্রিলাকে। শান্তিশয়নে শেষ ঠাঁই ঐন্দ্রিলার।
শেষযাত্রাতেও ঐন্দ্রিলাকে আগলে সব্যসাচী, স্টুডিও পাড়ায় শান্তিশয়নে অভিনেত্রী



১৯৯৮ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি মুর্শিদাবাদের বহরমপুরে জন্ম। কিন্তু ২০১৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ঐন্দ্রিলার ১৭ বছরের জন্মদিনে জানতে পারেন, কঠিন কর্কট রোগ বাসা বেঁধেছে তাঁর শরীরের অস্থিমজ্জায়। তখন ঐন্দ্রিলা একাদশ শ্রেণির ছাত্রী। দিল্লিতে শুরু হয়েছিল সুস্থ হয়ে ওঠার লড়াই। সেখান থেকে ২ বার মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসেন অভিনেত্রী। শেষবার একটা মিরাকেলের আশায় ছিলেন সকলে। কিন্তু ব্রেইন স্ট্রোকের কাছে হার মানতে হল ঐন্দ্রিলাকে। আশা নিরাশার দোলাচলে থাকতে থাকতে শেষ অবধি বিদায় জানাতে হল এই পৃথিবীকে। তবে জীবন যুদ্ধে অপরাজিত ঐন্দ্রিলা। যতদিন জীবিত ছিলেন প্রাণ ঢেলে ভালবেসেছিলেন জীবনকে। বাঁচতে চেয়েছিলেন বাঁচার মত করে।







